img

ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবেলায় নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

প্রকাশিত :  ১৬:৫২, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবেলায় নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা করে নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবেলা করুন ও এডিস মশার জন্মস্থান ধ্বংস করুন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমি আপনাদের সামনে একটু আলাপ করতে চাই, একই সঙ্গে আপনাদের সহযোগিতা দরকার এই সমস্যাটির কিছুটা হলেও সমাধান করার জন্য। আমরা একসঙ্গে হয়েই ১৯৭১ সালে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। আমরা সবাই একসঙ্গে ১৯৯০-এর সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকেও সফল করেছিলাম।

আবার সব স্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকেও সফল করেছিলাম। আমরা যদি এতগুলো কাজ পারি, তাহলে কেন আমরা দেশের অন্য যে সব সমস্যা আছে, সবাই মিলে যদি একটু একটু করে আমরা কন্ট্রিবিউট করি, একটু একটু করে যদি আমরা অংশগ্রহণ করি, কেন পারব না?’

তিনি বলেন, ‘আজকের যে বিষয়টি নিয়ে আমি আপনাদের সামনে আলাপ করতে চাই, সেটি হচ্ছে ডেঙ্গু। আমরা পত্রিকার পাতা খুললেই প্রায় দেখি যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ মারা গিয়েছেন, বিভিন্ন মানুষ অসুস্থ হয়ে গিয়েছেন। যার আপনজনটি হারিয়ে গিয়েছে সেই কষ্টটা বুঝে।

কিন্তু আমরা যদি সবাই মিলে চেষ্টা করি, সবাই মিলে যদি একটু একটু করে এগিয়ে আসি, তাহলে অনেক মানুষকে আমরা সাহায্য করতে পারব, এই আপনজন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করতে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের যদি আমরা সংখ্যা বিবেচনা করি প্রায় আড়াই কোটির মতো। এর বাইরেও বিভিন্ন সংগঠন যেমন বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্ল গাইড, রেড ক্রিসেন্টের মেম্বার যারা আছেন, রেড ক্রসের মেম্বার যারা আছেন, আমরা যদি এগুলো বিবেচনা করি তাও প্রায় ৪০ লাখ। এই যে সদস্যগুলো, এরা গত প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশের সব জেলায়, উপজেলায় যতটুকু সম্ভব চারদিকে যে আবর্জনা-ময়লা সেটিকে কিছুটা হলেও যতটুকু সম্ভব পরিষ্কার করার জন্য। আমরা সবাই জানি, আপনারাও প্রত্যেকে যারা দেখছেন এই ভিডিও কম-বেশি সবাই জানেন যে, এই ডেঙ্গুর যে এডিস মশা, এটির উৎপত্তিস্থল হচ্ছে কিন্তু জমে থাকা পানি।

সেটি ঘরের আনাচে-কানাচে হোক, সেটি রাস্তার বিভিন্ন পথে-ঘাটে বিভিন্ন জায়গায় হোক, যে আনাচে-কানাচে পানি জমে আছে অথবা যেভাবে ময়লা ও বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকছে তার ফলে পানি জমে থাকছে, সেই পানিগুলোতে এই মশাগুলো জন্ম নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর একটি টিকা আবিষ্কার হয়েছে বৈকি, তবে বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে টিকাটা খুব বেশি কার্যকর নয়। ডেঙ্গু যদি কারো হয়, তার সেই রোগ সারাতে টিকাটা খুব বেশি কার্যকর নয়। সবচেয়ে বেশি কার্যকর হচ্ছে যে জন্মস্থল ডেঙ্গুর, অর্থাৎ বিভিন্ন জায়গায় যে জমে থাকা পানি বা জমে থাকা ময়লা, এটাকে পরিষ্কার করে ফেলতে যদি আমরা পারি তাহলেই সবচেয়ে বেশি আমরা সফল হবো ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করতে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের কাছে আজকে আমার আহ্বান, আপনাদের কাছে আজকে যে সহযোগিতা আমি চাই— আসুন না, আমরা প্রত্যেকটি মানুষ, প্রত্যেকটি পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন করে যদি আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিই আমাদের ঘর, ঘরের আশপাশে এবং আমাদের চলার পথে যেখানে ডেঙ্গু মশা জন্ম নিতে পারে, বংশবিস্তার করতে পারে, এই জায়গাগুলোকে আমরা পরিষ্কার করে ফেলি, যাতে করে ডেঙ্গু মশা বংশবিস্তার করতে না পারে।’

‘একটি সরকার তখনই সফল হয় যখন সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করে দেশের জন্য। প্রিয় দেশবাসী, আমার সরকার, আমরা দেশের সব মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে দেশের সমস্যার সমাধান করতে চাই। দেশের সমস্যার সমাধান মানে— আপনার, আমার, আমাদের সবার সমস্যার সমাধান। আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। সবাই মিলে চেষ্টা করলে অবশ্যই আগামী দিনের এই ডেঙ্গুর অভিশাপ থেকে আমরা বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে পারব।’ 

জাতীয় এর আরও খবর

img

নেত্রকোনায় প্রকাশ্যে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

প্রকাশিত :  ১৬:৫৭, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সাংবাদিকের নাম লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘রূপসী বাংলার’ নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। তার পৈতৃক বাড়ি কলমাকান্দার পোগলা এলাকায় হলেও তিনি দুর্গাপুর বিরিশিরি এলাকার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ রাত ৮টার দিকে লুৎফুজ্জামান আলিফ উতরাইল বাজারে একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির আঘাত পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে রওনা হচ্ছি। জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।’

এর আগে গত ১০ নভেম্বর দুপুরে উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা লুৎফুজ্জামান আলিফকে কুপিয়ে জখম করেছিল। এ সময় তার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র উঁচিয়ে ধাওয়া করা হয়। নিহত আলিফ মাদক চোরাচালান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত লিখতেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, লুৎফুজ্জামানকে এর আগেও নিশানা করা হয়েছিল। গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল।

জাতীয় এর আরও খবর