img

ইশরাক কাজটা ভালোই করেছে, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: স্পিকার

প্রকাশিত :  ১২:২৪, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইশরাক কাজটা ভালোই করেছে, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: স্পিকার

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের কাজের প্রশংসা করলেও তাঁর হাতে অস্ত্র নেওয়াকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মন্ত্রী পর্যায়ের কোনো ব্যক্তির হাতে অস্ত্র থাকা শোভনীয় নয়।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ হলরুমে লালমোহন উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের যৌথ আয়োজনে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, যারা ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মী, তারা নিজেদের সংশোধন করেন। ইতোমধ্যে দেখেছেন ঢাকায় একজন মহিলা এমপির নাম উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে হাসপাতাল দখলের, তাকে প্রধানমন্ত্রী তার পদ থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তিনিও পদত্যাগ করেছেন।

স্পিকার বলেন, ইশরাক হোসেন কাজটা ভালোই করেছে, পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে একদল মাদকসেবী, তিনি তাদেরকে দমন করতে গিয়েছিলেন। তবে তার হাতে অস্ত্র নেওয়াটা ঠিক হয়নি, এটা মানায় না। সরকারের প্রতিমন্ত্রী, তার সাথে দেহরক্ষী আছে, পুলিশ বাহিনী যদি দুর্বল হয়- দলীয় কর্মীবাহিনী যেতে পারে। কিন্তু একজন নেতা মন্ত্রী পর্যায়ের তার হাতে অস্ত্র আইনি হোক বা বেআইনি হোক- এটা শোভা পায় না। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তার কাজটা ভালো, তিনি দুর্বৃত্ত দমন করতে গিয়েছিলেন। সেজন্য সাধারণ মানুষ পরে কোনো এক সময় নিশ্চয়ই তাকে মূল্যায়ন করবে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এইযে দুই দুইটি উদাহরণ আপনাদের সামনে দেওয়া হলো, অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজের দলের নেতাকর্মীদের ওপর এমন কঠিন ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ক্ষেত্রে আপসহীন রয়েছেন। যে কারণে অন্যায় অবিচারের প্রতি ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। আমরা আশা করবো দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের পর জনগণ একটা ভালো এবং তাদের নির্বাচিত সরকার পেয়েছে যাতে করে জনগণের কল্যাণ করা যায়। আপনারা এ ধরনের সরকার বা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন।

সংসদে নিজের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপনারা দেখেছেন আমি নিরপেক্ষভাবে সংসদে কাজ করতে চেষ্টা করি। বিরোধীদলে যারা আছেন তারাও আজ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেনি। আমি সবাইকে কথা বলার সমান সুযোগ দিয়েছি, সরকারি দলের মন্ত্রী কিংবা বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা যখন সরকারের সমালোচনা করে কারও কন্ঠ রোধ করার চেষ্টা কখনোই আমি করিনি। কারণ গণতন্ত্রে সরকারি দল থাকবে, বিরোধীদল থাকবে, সকলকে সমান সুযোগ দেওয়ার আমি চেষ্টা করেছি।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিফাত বিন সাদিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 


জাতীয় এর আরও খবর

img

সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৯:০৫, ২০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:০৬, ২০ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠের বিভাজন নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

বন্দরনগরীর রহমতগঞ্জ জে. এম. সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান—কোনো আন্দোলনেই মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবাই একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘সেদিন যুদ্ধের মাঠে শতসহস্র মানুষ, লাখো মানুষ যুদ্ধ করেছিলেন।

কয়েক লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। যারা যুদ্ধ করেছিলেন, যারা শহীদ হয়েছিলেন, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান।

‘আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি, আমরা শুধু দেখেছি তারা মুক্তিযুদ্ধ করছিলেন। তারা দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন, তারা দেশকে স্বাধীন করেছেন।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে পড়েছে, তখন ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে নেমেছেন। জনগণের অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আন্দোলন করেছেন। সেসব আন্দোলনেও কে কোন ধর্মের, তা বিবেচনা করা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘সেদিনও কিন্তু আমরা দেখিনি, আমার পাশের কর্মী কোন ধর্মের বা আমার সামনে কিংবা পেছনের কর্মী কোন ধর্মের।’

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই আন্দোলনে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

মা-বোন, শিশু, তরুণ, যুবকসহ লাখ লাখ মানুষ দেশের প্রতিটি জেলায় রাজপথে নেমেছিলেন। তাদের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেশিদিন আগের কথা নয়, দুই থেকে সোয়া দুই বছর আগের কথা, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাস। এই দেশের মানুষ, এই দেশের ছাত্র-জনতা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। লাখ লাখ মানুষ সমগ্র বাংলাদেশে সেদিন রাজপথে বেরিয়ে এসেছিলেন। মা-বোনেরা বেরিয়ে এসেছিলেন, বিভিন্ন বয়সের মানুষ বেরিয়ে এসেছিলেন, শিশুরা বেরিয়ে এসেছিল, তরুণেরা বেরিয়েছিল, যুবকেরা বেরিয়ে এসেছিল। কেউ কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করিনি, গুলিবিদ্ধ মানুষটি মুসলমান নাকি হিন্দু, নাকি বৌদ্ধ, নাকি খ্রিষ্টান। স্বৈরাচার গুলি করেছে, ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাদের ধরে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন। যাওয়ার পথে কেউ মারা গিয়েছেন অথবা যাওয়ার পথে বেঁচে থাকলেও বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন।’

আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। ধর্মের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

জাতীয় এর আরও খবর