img

মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো থেকে নীরবে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১৪:১৮, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো থেকে নীরবে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে নীরবে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ। একই সময়ে আঞ্চলিক কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার খবরের মধ্যে এ তথ্য সামনে এলো।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময়ও ঘাঁটিগুলো থেকে সেনাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার নতুন করে হামলার কথা বিবেচনা করছেন। সূত্ররা বুধবার এনবিসিকে জানায়, সেনা প্রত্যাহারের পদক্ষেপটি গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম দফা হামলার আগে পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দপ্তরের নেওয়া প্রস্তুতির মতো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে ঘাঁটিগুলোতে সীমিতসংখ্যক সেনা রাখা হবে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা আছেন।

ইরানের পাল্টা আঘাতের কথা বিবেচনায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা সরিয়ে নিয়েছিল পেন্টাগন। কয়েক হাজার সেনা বেসামরিক হোটেল ও অফিস ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তেহরান তখন অভিযোগ করেছিল, আবাসিক এলাকায় সেনা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটন উপসাগরীয় অঞ্চলের সাধারণ নাগরিকদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স। তিনি বলেন, সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিয়মিত সেনাদের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম মিত্র দেশ সৌদি আরব থেকে সম্প্রতি কূটনৈতিক মিশনের অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। ইয়েমেনের হুতিদের হামলার মুখে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি স্থান থেকে কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, এ ধরনের খবর সঠিক নয়।


জাতীয় এর আরও খবর

img

সৌদিতে দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে আরও ২০ বাংলাদেশি, সাজার তথ্য চাইল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৪:২০, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি ২২ বাংলাদেশির নামের পাশে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ উল্লেখ থাকলেও তাঁদের কার কী শাস্তি হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কারও কারাদণ্ডের মেয়াদ কিংবা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় বিষয়টি জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

এই ২২ জনের মধ্যে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারও ছিলেন। সম্প্রতি তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর অন্য বন্দীদের পরিণতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাকি ২০ জনের কী সাজা হয়েছে, তা জানতে গত ১৯ অক্টোবর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেদ্দা শাখায় চিঠি পাঠায় কনস্যুলেট।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের দণ্ডিত নাগরিকদের কনস্যুলার সুবিধা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ৪৬১ বাংলাদেশি বন্দীর একটি তালিকা পাঠায়। জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মপরিধির আওতাধীন কারাগারগুলোতে থাকা এসব বন্দীর কারও বিচার শেষ হয়েছে, আবার কারও মামলা চলছে। তালিকা পর্যালোচনা করে কনস্যুলেট দেখতে পায়, কয়েকজনের ‘অবস্থা’ কলামে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকলেও ‘রায়ের সারসংক্ষেপ’ কলামে কোনো তথ্য নেই। তাদের শাস্তির ধরন বা মেয়াদও উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা অঞ্চল শাখার কাছে পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত রায়ের সারসংক্ষেপ পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। কনস্যুলেট বলেছে, কনস্যুলার দায়িত্ব পালনের জন্য এসব তথ্য প্রয়োজন। চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত নয় পৃষ্ঠার তালিকা পর্যালোচনা করে এমন ২২ জনের তথ্য পাওয়া গেছে।

কনস্যুলেটের সূত্র অনুযায়ী, এই ২২ জনের মধ্যে আটজন হত্যা মামলায়, পাঁচজন মাদক পাচারের মামলায় এবং পাঁচজন ‘ব্যক্তিগত অধিকার’–সংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। এ ছাড়া দুজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘনের, একজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের এবং একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মামলা রয়েছে।

বন্দীদের মধ্যে ছয়জন জেদ্দার জাহবান কারাগারে, ছয়জন শুমাইসি কারাগারে এবং চারজন জেদ্দা জেনারেল কারাগারে রয়েছেন। অন্য ছয়জন নাজরান, খামিস, আল-বাহা, হাদ্দাহ ও জেদ্দার নারী কারাগারে আছেন।
‘ব্যক্তিগত অধিকার’–সংক্রান্ত মামলার পাঁচ বন্দীর সবাই শুমাইসি কারাগারে রয়েছেন। সাধারণত এ ধরনের মামলা ব্যক্তিগত দাবি বা ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত হলেও মামলার নথি ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মামলার ধরন দেখে কারও সাজা অনুমান করা সম্ভব নয়। সৌদি আরবে হত্যা মামলায় কিসাসের বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে রক্তপণ বা কারাদণ্ডের মাধ্যমেও মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। ফলে তালিকায় থাকা কারও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলার মতো তথ্য কনস্যুলেটের কাছে নেই।

নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা রায়ের বিস্তারিত তথ্য জানার গুরুত্ব সামনে এনেছে। কোনো বন্দীর রায়ের সারসংক্ষেপ না থাকলে তাঁর আপিলের সুযোগ, আইনজীবী নিয়োগ কিংবা রক্তপণ ও ক্ষমার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো চিঠিতে কনস্যুলেট জানিয়েছে, দণ্ডিত বাংলাদেশিদের সাজার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নাগরিকদের উন্নত কনস্যুলার সেবা দেওয়া এবং নিজস্ব তথ্যভান্ডার হালনাগাদ রাখার অংশ।
এ ছাড়া ১৯ অক্টোবর পাঠানো আরেকটি চিঠিতে ২ হাজার ৪৬১ বন্দীকে পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করে তাদের বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কনস্যুলেট। এর মধ্যে রয়েছে সাজা শেষ হওয়া বন্দীদের দ্রুত মুক্তি ও দেশে ফেরত পাঠানো, ভালো আচরণ করা বন্দীদের রাজকীয় ক্ষমার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, প্রথমবার আটক ও ছোট অপরাধে আটক ব্যক্তিদের অবশিষ্ট সাজা মওকুফ এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি।

আরও দুজন বাংলাদেশির বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে কনস্যুলেট। তাদের পরিবারের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করলেও কেন এবং কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে জানানো হয়নি।
এসব চিঠির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।

জাতীয় এর আরও খবর