img

দিল্লির বৈঠক থেকে বিজিবি-বিএসএফের শান্তির বার্তা, একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

প্রকাশিত :  ১১:১৬, ১২ জুন ২০২৬

দিল্লির বৈঠক থেকে বিজিবি-বিএসএফের শান্তির বার্তা, একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে নানা চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। নয়াদিল্লিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে সীমান্ত এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

গত ৯ জুন শুরু হয়ে ১১ জুন শেষ হওয়া ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। 

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের সীমান্তকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অপরাধমুক্ত রাখতে উভয় বাহিনী ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে। সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমিয়ে আনা, পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। 

বৈঠকে সীমান্ত হত্যা, অনিয়মিত অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয়পক্ষই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতপার্থক্য দেখা দিলেও দুই দেশের শীর্ষ সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা হওয়া একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। কারণ, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই ধরনের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বহু ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক। 

যৌথ বিবৃতিতে উভয় বাহিনী সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে যখন সীমান্ত প্রশ্নে নানা ধরনের উত্তেজনা ও সংঘাত দেখা যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে। দিল্লির এই বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

বেড়িবাঁধের বরাদ্দের এক টাকাও লুটপাট হতে দেব না: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত :  ১৪:৫৯, ১২ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা বেড়িবাঁধ নির্মাণে বরাদ্দকৃত অর্থের এক টাকাও অপচয় বা লুটপাট হতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারার সবচেয়ে বড় সমস্যা উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। এই বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে অতীতে হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তা লুটপাট করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, এবারের বাজেটের একটি টাকাও কাউকে দুর্নীতি, লুটপাট হতে দেব না। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হবে ।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা দোভাষী বাজার এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের অবস্থা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুরো বাংলাদেশের মানুষ চট্টগ্রামের মানুষদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। এসময় সারা দেশের মানুষের প্রতি সক্ষমতা অনুযায়ী চট্টগ্রামবাসীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ খুবই কষ্টে আছে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে পানি বন্দি আছেন।  সরকার অবহেলা হোক আর যে কারণেই হোক, সামাল দিতে পারছে না। এখন দোষারোপ করে লাভ নেই। মূল জিনিস হল মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় দল-মত নির্বিশেষে সামর্থ্যবান ব্যক্তি, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি । 


 

জাতীয় এর আরও খবর