img

সবার জন্য ব্যবসার সুবিধা তৈরির প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ১৩:৪০, ১০ জুন ২০২৬

সবার জন্য ব্যবসার সুবিধা তৈরির প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

সবার জন্য সুন্দরভাবে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকের জন্য এমন সুবিধা তৈরি করা হবে, যেখানে তারা সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারেন। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন। সেইভাবেই আমরা চেষ্টা করছি এবারকার বাজেটটি তৈরি করতে। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজকরণ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার (১০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকাল তিনটা থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।  

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ মো. মোবাশ্বের আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে স্বৈরাচারের পতনের পরে আমরা আগেও দেখেছি এবং পতনের পরে আমরা আরও পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি যে কীভাবে দুর্নীতি এবং অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশকে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক সুশৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনতে হবে এবং একই সঙ্গে দেশে ব্যবসা-বান্ধব একটি পরিস্থিতি বা পরিবেশও গড়ে তুলতে হবে। আগামী ক’দিন পরে (১১ জুন বাজেট উপস্থাপন) আমাদের বাজেট আমরা উপস্থাপন করবো, এই সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপিত হবে। সেখানেও আমরা চেষ্টা করেছি দেশে যারা ব্যবসায়ী আছেন তাদেরকে সেটি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ী হতে পারেন ট্রেডারও হতে পারেন অথবা ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট হতে পারেন। যেই হোন না কেন— প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য এমন সুবিধা তৈরি করা যেখানে তারা সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারেন। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। সেইভাবেই আমরা চেষ্টা করছি এবারকার বাজেটটি তৈরি করতে। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজীকরণ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণলয় কর্তৃক কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর হতে আমদানি ও রফতানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুততর সময়ের মধ্যে প্রদান করা হচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য রফতানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ হালনাগাদকরণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রফতানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ডেড এবং নন-বন্ডেড সব প্রতিষ্ঠানসমূহকে এফওসি (ফ্রি অব চার্জ বা ফ্রি অব কস্ট)-ভিত্তিতে আমদানির সুযোগের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সব আমদানিকারকদের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষ এলসি ব্যতিত চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি বাস্তবায়ন ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  

জাতীয় এর আরও খবর

img

চাল-ডাল থেকে ক্যামেরা, ৬০ পণ্যের দাম কমানোর পরিকল্পনা বাজেটে

প্রকাশিত :  ১৬:৩৭, ১০ জুন ২০২৬

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে, তাতে চাল-ডাল, আলু থেকে সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার মতো ৬০টি প্রযুক্তি ও কৃষি পণ্যের দাম কমতে পারে। এসব পণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশকালে এ প্রস্তাব করতে পারেন।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, সরকার এই ৬০টি পণ্যের তালিকায় মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যকে প্রাধান্য দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা জনজীবনে স্বস্তি আনবে বলে আশা করছে সরকার।

নিত্যপণ্যের বাইরেও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমার প্রস্তাব করা হচ্ছে বাজেটে। এরমধ্যে শিশুখাদ্য আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হবে।

এছাড়াও, বাজেটে জীবন রক্ষাকারী হার্টের রিং বা স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা কমতে পারে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমবে।

প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর থাকা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফ করা হচ্ছে।

বিনোদন ও সংস্কৃতিখাতে তরুণ প্রজন্মের জন্য গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্র এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে।

সরকারের এই নতুন রাজস্ব নীতি মূলত করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই কর ছাড়ের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমিত হবে।


জাতীয় এর আরও খবর