img

মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশিত :  ১৯:৩৪, ০৮ জুন ২০২৬

মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

রাজধানীর এলাকার আনারকলি মার্কেটের সামনের একটি গলিতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন।

আজ সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. মোবারক হোসেন আকাশ জানান, রাত ৮টার দিকে রমনা মৌচাক আনারকলি মার্কেটের সামনে রমনা থানার যুবদলের লুৎফুরের নেতৃত্বে অজ্ঞাত ১০–১২ জন ব্যক্তি তাকে বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, নিহত বিল্লাল হোসেন মালিবাগের বাগানবাড়ি এলাকার ৫১২ নম্বর বাসার মৃত ইউসুফ তালুকদারের সন্তান। তিনি পেশায় ইট-বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোহাম্মদ ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির রমনা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাজাহার বলেন, সালিশকে কেন্দ্র করে বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

জানা গেছে, বিল্লাল হোসেন তালুকদার রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালিবাগে সোহাগ পরিবহণের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের একটি মামলায় তিনি গ্রেফতার হন এবং পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

জামায়াতের এমপির বাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত :  ১৩:৪১, ২৮ জুলাই ২০২৬

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবন ঘেরাও করে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার বাড়িতে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায় বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে সড়কটিতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নীলগঞ্জ এলাকার আল মাদরাসাতুশ শারইয়াহ ও সংশ্লিষ্ট মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জের ধরে সোমবার সকালে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অনন্যার বিরুদ্ধে মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে ওই নারীর মাথা ফেটে যায় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয়। তবে মঙ্গলবার সকালে মাদরাসা খুললে গোলাম রসুল তা বন্ধ রাখতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরই স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। প্রতিবাদে সকাল ১০টার দিকে তারা একত্রিত হয়ে এমপির বাড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট মাদরাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, ওই মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সব সময়ই গোলাম রসুল ও তার মেয়ে খারাপ আচরণ করে আসছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তার ওপর চড়াও হয়। এ সময় তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ের বিচারের দাবিতে দীর্ঘ সময় সড়কে অবস্থান করেন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশনস) মমিনুল হক জানান, দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। 

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, বিক্ষুব্ধ জনগণকে শান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আলোচনা সাপেক্ষে সমস্যার সমাধান করা হবে।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীব ও র‍্যাব যশোর ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বি প্রিন্সসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটিতে কড়া নজরদারিতে রেখেছে।

এ বিষয়ে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভিনা জানান, তার মেয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মাদরাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে শিশুরা বিভিন্ন সময় এসে গোলযোগ সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদ করেছিলেন তার মেয়ে অনন্যা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হয়েছে। এখন অহেতুক তাদের বাড়িতে হামলা করে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তায় জানান, এলাকার এই মাদরাসাটিতে আড়াইশ-তিনশ শিক্ষার্থী থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য এলাকার সড়কটিতে সবসময় ভিড় থাকে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় আমার মেয়েকে মারপিট করা হয়েছে। এরপর এলাকায় উত্তেজনা ছাড়িয়ে আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি বলেছি, আমার মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ। তারপরও তারা শোনেনি। তারপরও আমি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহবাস্থনের আহ্বান জানাই।



জাতীয় এর আরও খবর