img

হাসপাতাল নয়, আদ দ্বীনের প্যাথলজির লাইসেন্স বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ: শিশির মনির

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ১২ জুন ২০২৬

হাসপাতাল নয়, আদ দ্বীনের প্যাথলজির লাইসেন্স বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ: শিশির মনির

ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি বলে দাবি করেছেন হাসপাতালটির আইনজীবী শিশির মনির। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের কার্যক্রমের অনুমোদন বাতিল করেনি; বরং হাসপাতালের প্যাথলজি কেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিল করেছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান চিঠি দিয়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী ডা. সেখ মহিউদ্দীনকে জানিয়েছেন।

তবে আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির ফেসবুকে কিছু নথিপত্রের ছবি শেয়ার করে বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেনি সরকারি কর্তৃপক্ষ। বাতিল করেছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স।

তিনি পোস্টে লেখেন, ‘আদ-দীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেনি। বাতিল করেছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স। এটা কি অবহেলা না কি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। যদি অবহেলা হয়ে থাকে তাহলে কেমন ধরনের অবহেলা? আপনারাই বিবেচনা করবেন।’

শিশির মনির লেখেন, ‘দুটো লাইসেন্স আছে। একটি আদ-দীন হাসপাতালের জন্য। লাইসেন্সে লেখা আছে “to set up and run a hospital/clinic” [কপি নিম্নে সংযুক্ত করা হল]। এই লাইসেন্সের নম্বর HSM 4310058. অপরপক্ষে আরেকটি লাইসেন্স কর্তৃপক্ষ ইস্যু করেছেন। সেখানে লিখা আছে “to set up and run a pathology Center”. এই লাইসেন্সের নম্বর HSM 4310059 [কপি নিম্নে সংযুক্ত করা হল]। এখন আসেন কারণ দর্শানো নোটিশ কি বলে? কর্তৃপক্ষ ৪ জুন ২০২৬ তারিখ কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করে [কপি নিম্নে সংযুক্ত করা হল]। উক্ত নোটিশে লাইসেন্স নম্বর HSM 4310059 উল্লেখ করেন এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলেন। জবার দাখিলের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় চাওয়া হয়। তারপর জবাব দায়ের করা হয়। অতঃপর গতকাল লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এবং ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার আইনি সুযোগ দেয়া হয় [সিদ্ধান্ত নিম্নে সংযুক্ত করা হল]। ’

পাঠকদের উদ্দেশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই আইনজীবী লেখেন, ‘এখন আপনারাই বিচার করেন কি হল? কোনটা বাতিল হল? hospital/Clinic নাকি pathology Center? কর্তৃপক্ষই ভাল বলতে পারবেন। অবহেলা না কি ইচ্ছাকৃত? অবহেলা [Negligence] হলে কেমন ধরনের অবহেলা? বিচারের ভার আপনাদের উপর রইল।’

উল্লেখ্য, ঈদের আগের দিন গত ২৭ মে ভোররাতে মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। তারা সবাই এক থেকে চার দিন বয়সী ছিল। এ ঘটনায় গঠিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলা’ প্রমাণ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলে, কর্তৃপক্ষের জবাব সন্তোষজনক হয়নি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান চিঠি দিয়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী ডা. সেখ মহিউদ্দীনকে জানান।

জাতীয় এর আরও খবর

img

দিল্লির বৈঠক থেকে বিজিবি-বিএসএফের শান্তির বার্তা, একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

প্রকাশিত :  ১১:১৬, ১২ জুন ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে নানা চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। নয়াদিল্লিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে সীমান্ত এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

গত ৯ জুন শুরু হয়ে ১১ জুন শেষ হওয়া ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। 

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের সীমান্তকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অপরাধমুক্ত রাখতে উভয় বাহিনী ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে। সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমিয়ে আনা, পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। 

বৈঠকে সীমান্ত হত্যা, অনিয়মিত অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয়পক্ষই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতপার্থক্য দেখা দিলেও দুই দেশের শীর্ষ সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা হওয়া একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। কারণ, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই ধরনের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বহু ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক। 

যৌথ বিবৃতিতে উভয় বাহিনী সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে যখন সীমান্ত প্রশ্নে নানা ধরনের উত্তেজনা ও সংঘাত দেখা যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে। দিল্লির এই বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

জাতীয় এর আরও খবর