img

কুয়েতে সরকারি স্ট্যাম্প জালিয়াতি চক্রের হোতা বাংলাদেশিরা, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশিত :  ০৭:৫১, ১৩ জুন ২০২৬

কুয়েতে সরকারি স্ট্যাম্প জালিয়াতি চক্রের হোতা বাংলাদেশিরা, গ্রেপ্তার ৫

কুয়েতে সরকারি রাজস্ব স্ট্যাম্প জালিয়াতি এবং অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি, গোপন তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহের পর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তরা হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান করে বিভিন্ন প্রবাসী ও প্রতিষ্ঠানের কাছে জাল সরকারি স্ট্যাম্প বিক্রি করতেন। তারা মূলত ৫ ও ১০ কুয়েতি দিনারের সরকারি স্ট্যাম্প বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে সরবরাহ করে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।

কুয়েতের রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্স ইনভেস্টিগেশনস ডিপার্টমেন্ট একটি অভিযানের মাধ্যমে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে আটক করে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চক্রটি বেশ সংগঠিতভাবে কাজ করছিল। তারা সরকারি স্ট্যাম্পের আসল কাগজ সংগ্রহ করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জাল স্ট্যাম্প তৈরি করত। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, প্রিন্টার এবং স্ট্যাম্প তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের স্ট্যাম্প পেপারের রোল জব্দ করে।

প্রাথমিক তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা একটি হাসপাতাল থেকে সরকারি স্ট্যাম্পের আসল কাগজের রোল চুরি করে সেগুলো ব্যবহার করে জাল স্ট্যাম্প প্রস্তুত করতেন। পরে সেগুলো বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হতো।

কর্তৃপক্ষ বলছে, জাল স্ট্যাম্প ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নথিপত্রের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আটক পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জব্দ আলামতসহ তাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, সরকারি অর্থ, নথিপত্র ও রাজস্ব সংক্রান্ত কোনো ধরনের জালিয়াতি বা কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

বেড়িবাঁধের বরাদ্দের এক টাকাও লুটপাট হতে দেব না: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত :  ১৪:৫৯, ১২ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা বেড়িবাঁধ নির্মাণে বরাদ্দকৃত অর্থের এক টাকাও অপচয় বা লুটপাট হতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারার সবচেয়ে বড় সমস্যা উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। এই বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে অতীতে হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তা লুটপাট করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, এবারের বাজেটের একটি টাকাও কাউকে দুর্নীতি, লুটপাট হতে দেব না। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হবে ।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা দোভাষী বাজার এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের অবস্থা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুরো বাংলাদেশের মানুষ চট্টগ্রামের মানুষদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। এসময় সারা দেশের মানুষের প্রতি সক্ষমতা অনুযায়ী চট্টগ্রামবাসীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ খুবই কষ্টে আছে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে পানি বন্দি আছেন।  সরকার অবহেলা হোক আর যে কারণেই হোক, সামাল দিতে পারছে না। এখন দোষারোপ করে লাভ নেই। মূল জিনিস হল মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় দল-মত নির্বিশেষে সামর্থ্যবান ব্যক্তি, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি । 


 

জাতীয় এর আরও খবর