img

সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১২ জনের আকুতি ‘আমাদের বাঁচান’

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ১৫ জুন ২০২৬

সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১২ জনের আকুতি ‘আমাদের বাঁচান’

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কথিত পুশইনের শিকার ১২ জন বাংলা ভাষাভাষী নারী, পুরুষ ও শিশু গত শুক্রবার ভোর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন। খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবের পাশাপাশি তীব্র গরম, রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নীল রঙের একটি পলিথিনের ওপর গাদাগাদি করে বসে আছেন কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশু। দুটি শিশু ঘুমিয়ে আছে, একটি শিশুকে কোলে নিয়ে বসে আছেন এক নারী, আরেকটি শিশুকে অসুস্থ দেখাচ্ছিল। স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

ভিডিওতে এক ব্যক্তি ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে শিশুদের নিয়ে আমরা টিকতে পারছি না। আপনারা আমাদের জন্য একটা ব্যবস্থা করুন। না হলে আমাদের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিন। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। শিশুদের নিয়ে আমরা খুবই অসহায় অবস্থায় আছি।’

তিনি আরও দাবি করেন, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা যাচাই করে দেখুন, আমরা এ দেশের নাগরিক নাকি রোহিঙ্গা। তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত করুন।’

ওই ১২ জন নিজেদের চাপাইনবাগঞ্জ , সাতক্ষীরা এবং ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ভোরে প্রাগপুর বর্ডার এলাকায় ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলারের পাশ দিয়ে বিএসএফ ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা বিষয়টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) জানায়। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের তৎপরতায় তাদের আবার সীমান্তের শূন্যরেখায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর থেকে সীমান্তঘেঁষা মাথাভাঙ্গা নদীর তীরসংলগ্ন একটি পাটখেতের পাশে তপ্ত রোদ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা মাঝেমধ্যে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো পার হয়ে তাদের খাবার ও পানি পৌঁছে দিচ্ছেন। রোববার পর্যন্ত টানা তৃতীয় দিনের মতো তারা সেখানে অবস্থান করছেন।

এদিকে, শুক্রবারের পুশইন ও পুশব্যাকের ঘটনায় শনিবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বিজিবি-৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, বিএসএফ ওই ১২ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। আপাতত বিষয়টি অমীমাংসিত রয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

বেড়িবাঁধের বরাদ্দের এক টাকাও লুটপাট হতে দেব না: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত :  ১৪:৫৯, ১২ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা বেড়িবাঁধ নির্মাণে বরাদ্দকৃত অর্থের এক টাকাও অপচয় বা লুটপাট হতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারার সবচেয়ে বড় সমস্যা উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। এই বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে অতীতে হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তা লুটপাট করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, এবারের বাজেটের একটি টাকাও কাউকে দুর্নীতি, লুটপাট হতে দেব না। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হবে ।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা দোভাষী বাজার এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের অবস্থা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুরো বাংলাদেশের মানুষ চট্টগ্রামের মানুষদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। এসময় সারা দেশের মানুষের প্রতি সক্ষমতা অনুযায়ী চট্টগ্রামবাসীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ খুবই কষ্টে আছে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে পানি বন্দি আছেন।  সরকার অবহেলা হোক আর যে কারণেই হোক, সামাল দিতে পারছে না। এখন দোষারোপ করে লাভ নেই। মূল জিনিস হল মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় দল-মত নির্বিশেষে সামর্থ্যবান ব্যক্তি, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি । 


 

জাতীয় এর আরও খবর