img

জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল: প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দাবি প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ১৭:২৫, ২৩ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৪৬, ২৩ জুন ২০২৬

জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল: প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দাবি প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’ কেবল প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য করা এবং ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’কে আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন, ২০২৬) চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন অ্যা শিফটিং গ্লোবার ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং পারস্পরিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটে কেবল প্রশমন নয়, বরং অভিযোজনও সমানভাবে অপরিহার্য।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন দাভোস সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিল্প কাঠামোর পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’ প্রতিপাদ্যের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত এই সম্মেলনে ৯০টি দেশের প্রায় ১,৭০০-এর অধিক প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশগ্রহণ করছেন।

সম্মেলনস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। উল্লেখ্য যে, ২৩ জুন শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন ২৫ জুন পর্যন্ত চলবে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

ভারতের চেয়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেশি

প্রকাশিত :  ১৯:১০, ২৩ জুন ২০২৬

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি (২০২৪-২৫ অর্থবছর) ২৪ হাজার ১৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছেন। এ সময় রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৫ হাজার ১৯১ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও রপ্তানি ব্যয় হয়েছে ৭৯ হাজার ৩৫৯ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলার।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তালিকা সংসদে তুলে ধরেন।

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী- এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ হাজার ৮৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি সাত হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার। তিনি জানান, চীন থেকে বাংলাদেশ ১৮ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে এক হাজার ৭৬৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর আমদানি করেছে নয় হাজার ৬২৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি তিন হাজার ৫৮৯ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। দেশটি থেকে বাংলাদেশ তিন হাজার ৬৪৬ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করেছে মাত্র ৫৬ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে দুই হাজার ৮০২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, ব্রাজিলের সঙ্গে দুই হাজার ৪৫০ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার, কাতারের সঙ্গে দুই হাজার ১০৯ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুই হাজার ১০ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, আর্জেন্টিনা, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, মরক্কো ও জাপানসহ আরও বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ: বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আরও আটটি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ জারি করেছে।

এলডিসি উত্তরণে এফটিএ ও জিএসপি প্লাসে জোর: সংরক্ষিত আসনের সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর সম্ভাব্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা হারানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও ভারতের সঙ্গে জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জন কিংবা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন এফটিএ সম্পাদনের লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর জন্য ইউরোপীয় কমিশনের ট্রেডবিষয়ক ডাইরেক্টর জেনারেলের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

মন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি চীন তাদের ট্যারিফ লাইনের ৯৯ শতাংশ পণ্যে বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সরকার আশা করছে।