img

ভারতের চেয়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেশি

প্রকাশিত :  ১৯:১০, ২৩ জুন ২০২৬

ভারতের চেয়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেশি

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি (২০২৪-২৫ অর্থবছর) ২৪ হাজার ১৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছেন। এ সময় রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৫ হাজার ১৯১ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও রপ্তানি ব্যয় হয়েছে ৭৯ হাজার ৩৫৯ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলার।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তালিকা সংসদে তুলে ধরেন।

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী- এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ হাজার ৮৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি সাত হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার। তিনি জানান, চীন থেকে বাংলাদেশ ১৮ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে এক হাজার ৭৬৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর আমদানি করেছে নয় হাজার ৬২৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি তিন হাজার ৫৮৯ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। দেশটি থেকে বাংলাদেশ তিন হাজার ৬৪৬ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করেছে মাত্র ৫৬ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে দুই হাজার ৮০২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, ব্রাজিলের সঙ্গে দুই হাজার ৪৫০ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার, কাতারের সঙ্গে দুই হাজার ১০৯ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুই হাজার ১০ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, আর্জেন্টিনা, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, মরক্কো ও জাপানসহ আরও বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ: বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আরও আটটি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ জারি করেছে।

এলডিসি উত্তরণে এফটিএ ও জিএসপি প্লাসে জোর: সংরক্ষিত আসনের সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর সম্ভাব্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা হারানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও ভারতের সঙ্গে জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জন কিংবা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন এফটিএ সম্পাদনের লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর জন্য ইউরোপীয় কমিশনের ট্রেডবিষয়ক ডাইরেক্টর জেনারেলের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

মন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি চীন তাদের ট্যারিফ লাইনের ৯৯ শতাংশ পণ্যে বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সরকার আশা করছে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

পেনশন ভোগান্তি কমাতে অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করছে সরকার: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৪৭, ২৪ জুন ২০২৬

পেনশন আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে সরকার ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (ওপিটিএমএস) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থা চালু হলে পেনশনভোগীরা ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে, আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। এর ফলে সময় ও হয়রানি কমবে, পাশাপাশি সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও নিশ্চিত হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা পেনশন সংক্রান্ত কাজে প্রায়ই বিলম্ব, প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় অফিস যাতায়াতের মুখোমুখি হন। ওপিটিএমএস পুরোপুরি চালু হলে তারা ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে ও আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারবেন। এর ফলে দ্রুততম সময়ে পেনশন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি অফিসে না গিয়ে অনলাইনে সেবা পাওয়া গেলে তা দুর্নীতি কমানোর কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী পেনশনভোগীদের বিষয়ে মো. আব্দুল বারী বলেন, বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী ১৫ বছরের পুনঃস্থাপন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো পেনশনভোগী মারা গেলে তার পরিবার পেনশন পুনঃস্থাপনের সুবিধা পায় না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে এ নীতি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী।

সভাপতির বক্তব্যে মো. এহছানুল হক বলেন, আগে সরকারি কর্মচারীদের কোনো সমন্বিত ডেটাবেস ছিল না। ফলে পেনশন মঞ্জুরির প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠত। হালনাগাদ কর্মচারী ডেটাবেস সংরক্ষণ করা গেলে পেনশন অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনেক সহজ হবে। তিনি পেনশনভোগীদের জন্য পৃথক হেল্প ডেস্ক স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন, যাতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও পারিবারিক পেনশনভোগীরা সহজে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।

অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, অবসরের পর অনেক পেনশনভোগী নানা জটিলতার কারণে অসহায় অবস্থায় পড়েন। ওপিটিএমএস ঝামেলামুক্ত সেবা নিশ্চিত করে তাদের আস্থা বাড়াবে। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের নিয়মিত পেনশন মামলার ক্ষেত্রে পাইলট ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা চালু হবে। পরবর্তী সময়ে এটি অর্থ বিভাগ, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, সব মন্ত্রণালয়, সংযুক্ত দপ্তর এবং মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বৈষম্য কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।

হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী বলেন, পেনশন-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পেনশনভোগীরা এখন পুরোপুরি ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পেনশন ব্যবস্থাপনার মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে, যা সেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করছে।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের বাজেট-১ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এসপিএফএমএস কর্মসূচির জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. জিয়াউল আবেদীন। তিনি বলেন, জিপিএফ অটোমেশন, পেনশন-পরবর্তী সুবিধার অটোমেশন, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট মডিউল, টিএ/ডিএ মডিউল, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড ডেটাবেস এবং এলপিসি মডিউলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইবাস++ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ওপিটিএমএস চালু হলে অবসর-পূর্ব পেনশন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং অবসরপ্রত্যাশী কর্মচারীরা উন্নত সেবা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন অর্থ বিভাগের বাজেট ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসপিএফএমএসের পেনশন, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়নের মান ও সময়ানুবর্তিতা বিষয়ক স্কিমের প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ ও কো-অর্ডিনেটর ড. মাহফুজা বেগম।

 


জাতীয় এর আরও খবর