img

আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৯:১৮, ২৯ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৫০, ২৯ জুলাই ২০২৬

আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে যশোরের ধুমধুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, 'গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেক পোস্ট বসিয়ে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের চারটি ও কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম এ অভিযানে ছিল।সেখানে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশও ছিল। পরে ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।' 

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে তার ব্যাপারে কাজ করছিলাম। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের ঝুমঝুমপুর থেকে মঙ্গলবার রাতে যশোর পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য সহযোগীরাও আমাদের গোয়েন্দা জালে রয়েছে। অচিরেই তাদের ধরা হবে। ’

ডেবিট ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। এলাকায় তার ছিল সাধারণ জীবনযাপন। কিন্তু শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেওয়ার পর চট্টগ্রামে একের পর এক খুনে নাম জড়ায় তার। পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন সাজ্জাদের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড'। 

গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে র‌্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। এ সময় তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। 

হামলার দু'দিন আগে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন ডেভিড ইমন। ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, 'আমার নাম ডেভিড ইমন, আমার সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।' ওই হুমকির দুদিন পর নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনে ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। 

হামলাকারীরা ডিডিএন অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ বলেন, 'আমরা ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। আমাদের গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম কাজ করছে। ডেভিড ইমনসহ এই চক্রের অন্যদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে।'

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিডিএন কার্যালয়ে চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চকবাজার থানা পুলিশ ও র‍্যাব-৭ নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির ওরফে কেহেরমান, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. নয়ন এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, নয়নের বিরুদ্ধে ৮টি, মনিরের বিরুদ্ধে ৭টি, আকবর ও সুমনের বিরুদ্ধে ৬টি করে এবং ইউনুসের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। খুন, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র রাখা, মাদক, ছিনতাই, মানবপাচার, চোরাচালান, ডাকাতি ও চুরি অভিযোগে এসব মামলা দায়ের হয়েছে।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

ছাদ থেকে রড নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১৬:৪০, ২৯ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে দুই নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাইপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

\r\n

নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বোরগাঁও গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে জিসান (১৮) এবং ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের গফাকুঁড়ি গ্রামের মৃত সুরজত আলীর ছেলে সিরাজ (২২)।

নিহত জিসান ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকেই প্রতিদিন ত্রিশালে এসে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ডিম ব্যবসায়ী আতাউর রহমানের তিনতলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ৫/৬ মাস আগেই। ওই ভবন ঘেঁষেই গেছে বিদ্যুতের লাইন। ঝুঁকি নিয়েই শ্রমিকদের দিয়ে নির্মাণকাজ শেষ করেন ভবন মালিক। তার দাবি, বিদ্যুতের তারে প্লাস্টিকের কভার লাগানোর জন্য একাধিকবার অফিসে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়নি বিদ্যুৎ বিভাগ।

গত কয়েকদিন ধরে ভবনের  বাকি কাজ করছিলেন জিসান ও সিরাজ। দুপুরের দিকে ভবনের তিনতলার ছাদ থেকে রড নিচে নামানোর সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎ লাইনে রড লেগে যায়। রডটি বিদ্যুৎতাড়িত হয়ে দুজনই ছাদ থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান। একজন পড়েন নিচে থাকা পিকআপ ভ্যানের ওপর আরেকজন পাকা সড়কে।

শ্রমিক ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ভবন মালিক আতাউর রহমান বলেন, ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার খবর শুনেই আমি বাসার সামনে যাই। পড়ে সেখান থেকে হাসপাতালে যাই। তাদের মৃত্যুতে আমার কোনও দোষ নেই। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। দাফন-কাফন শেষ হলে তাদের নিয়ে বসবো। 

নিহত সিরাজের চাচা আজিজুল ইসলাম বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা। তাই আমরা কোনও মামলা মোকদ্দমা করবো না। 

এ ব্যাপারে কথা বলতে ত্রিশাল বিদ্যুৎ সরবরাহকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও নম্বরটি বন্ধ দেখায়।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


বাংলাদেশ এর আরও খবর