img

সদরঘাটে চাঁদার ভাগ নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

প্রকাশিত :  ০৪:৪২, ১৬ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৪:৫৩, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

সদরঘাটে চাঁদার ভাগ নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

পুরান ঢাকার সদরঘাটে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মিতুল নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সূত্রাপুর থানাধীন ইস্ট বেঙ্গল সুপার মার্কেটে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

নিহত মিতুল কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য বলে জানা গেছে। তিনি ঝালকাঠির সাহাবাঙ্গল গ্রামের মো. রাসেল সরদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাবেক যুবদল নেতা সোবহান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কিরণ—দুজনই মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দুজনই কোতোয়ালি থানা যুবদলের পদপ্রত্যাশী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার রাতে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে কিরণ গ্রুপের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। কাপড় কাটার কাচি দিয়ে বুকে আঘাতের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে নিহত মিতুলের স্বজনসহ প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন মিটফোর্ড হাসপাতালে অবস্থান করছেন। সেখানে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সুমন ভূঁইয়া বলেন, ‘এরা আমার সমর্থক নয়। তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে থাকে। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। বিস্তারিত জানতে পারিনি।’

সূত্রাপুর থানার ওসি মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘নিহত মিতুল কোন দলের সঙ্গে যুক্ত, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে আঘাতের ঘটনায় মিতুলের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য মিতুলের মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

জাতীয় এর আরও খবর

img

কাপ্তাই লেক দখলদারদের তালিকার নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশিত :  ১৪:১১, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী সীমানা জরিপ করে চার মাসের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের তালিকা আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ জন্য জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে যৌথভাবে জরিপ সম্পন্ন করে অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে লেকের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের জন্য কেন জরিপ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে। আদালত ৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন। 

আদালতে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।

শুনানিতে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক সৃষ্টি করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। ওই লেক বর্তমানে অবৈধ দখল করে অনেকে অবস্থান করছেন এবং দূষণ করছেন। যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে অনেক অবৈধ দখলদার তাদের নিজের মালিকানা দাবি করছেন। এ কারণে তাদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। মানচিত্র অনুযায়ী জরিপ করে প্রকৃত দখলদারদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।  

মামলার বিবরণে জানা যায়, কাপ্তাই লেক দখল ও দূষণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে রিট আবেদন করে এইচআরপিবি। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।

পরে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রকৃত সীমানা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। জেলা প্রশাসক তখন জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে লেকের সীমানা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এইচআরপিবি একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করলে আদালত এই আদেশ দেন। 


জাতীয় এর আরও খবর