img

ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ল লিটারে ২০ টাকা

প্রকাশিত :  ১৮:২৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:২৮, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ল লিটারে ২০ টাকা

জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ল। এক লাফে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—চার ধরনের তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। 

রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন দাম কার্যকর হবে আগামীকাল সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হবে।

এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক দিনেই চার ধরনের জ্বালানির দাম ২০ টাকা করে বাড়ল।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। 

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

এর আগে ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। একই সময়ে কেরোসিন ১৮, পেট্রল ১৯ এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয়। জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ে। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। 

লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ালে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন দাম কার্যকর হলে পরিবহন, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপণ্যের বাজারেও।

তেলের দাম বাড়ানোর পেছনে বিপিসির বড় আর্থিক চাপ

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। অন্যদিকে দেশে তুলনামূলক কম দামে তেল বিক্রি করায় বড় লোকসান গুনছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। 

এতে সংস্থাটির নিজস্ব তহবিল দ্রুত কমে এসেছে। তেল আমদানি স্বাভাবিক রাখতে সরকার এখন বিপিসিকে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিপিসির ব্যাংক হিসাবে এখন প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা রয়েছে। এ অর্থ দিয়ে সেপ্টেম্বরের আমদানি ব্যয় মেটানো গেলেও অক্টোবরে তেল আমদানি অব্যাহত রাখতে অর্থসংকট তৈরি হতে পারে। 

বছরের শুরু থেকে তেলের দাম

চলতি বছরের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম দুই দফায় কমেছিল। ফেব্রুয়ারিতে ডিজেল ১০০, কেরোসিন ১১২, পেট্রল ১১৬ ও অকটেন ১২০ টাকা হয়। মার্চে দাম অপরিবর্তিত ছিল।

এপ্রিলে বড় ধরনের সমন্বয়ে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বা ১৫ শতাংশ, কেরোসিন ১৮ টাকা বা ১৬ দশমিক ০৭ শতাংশ, পেট্রল ১৯ টাকা বা ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং অকটেন ২০ টাকা বা ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বাড়ে।

জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনে আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। এ বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৮৫, ৩ দশমিক ৭০ ও ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।

বর্তমানে ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটার। জানুয়ারির তুলনায় এখন ডিজেলের দাম ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, কেরোসিন ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ, পেট্রল ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং অকটেন ১৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।

img

১৯ দিনে এলো ২৩ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

প্রকাশিত :  ১৩:২২, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:১৫, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে দেশে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৮৭ কোটি ৯৬ লাখ ১০ হাজার টাকা, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ১৩৬ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। 

এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর শাখার মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এই ১৯ দিনে দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। এই ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ১৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। পরের অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে ১১ কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার এসেছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর