img

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, এখন বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৫৯, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, এখন বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত: অর্থমন্ত্রী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অগ্রগতি এবং দেশটি থেকে আমদানি বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে আরও বেশি আর্থিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি বাড়ানো হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সহায়তা আসা উচিত।’ 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন সহায়তা এবং দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ তেমন সহায়তা পায়নি। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত সহায়তা এখনই পাওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেমন কিছু পাইনি। কিন্তু বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে, তাতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেকগুলো এয়ারক্রাফট কিনছি, তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য ও কমোডিটি আমদানি করছি। তাই তাদের কাছ থেকে আমাদের জন্য বাড়তি সহায়তা আসা উচিত। তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে। এখন দেখা যাক।’

বিনিয়োগে গুরুত্ব

সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে শুধু ঋণনির্ভরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে এগোতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।’ 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক নীতির মূল জোর হচ্ছে বিনিয়োগ। আমরা ঋণ থেকে সরে এসে সরাসরি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগের দিকে বেশি যেতে চাই।’

সরকারের এই নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ কতটা এগিয়ে যেতে পারবে, সে বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সহায়তার প্রত্যাশা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়ার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান আমির খসরু। উড়োজাহাজ, জ্বালানি তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে। তাই আমদানির পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের জোর দিয়ে বলেছি, বাংলাদেশ যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এত বেশি আমদানি করছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, এখন যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সমর্থন না আসে, তাহলে আর কবে আসবে? আমরা যে সহায়তাগুলো আশা করছি, সেগুলো এখন আসা উচিত।’

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের এই অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছে। তবে কী ধরনের সহায়তা, কত পরিমাণে এবং কী প্রক্রিয়ায় পাওয়া যাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ঋণ ব্যবস্থাপনা ও মার্কিন সহায়তা নিয়ে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন সহায়তা এবং দুই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান প্রদানকারী একটি সংস্থার সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

তবে এসব আলোচনা থেকে বাংলাদেশ কী পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পেতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক বা সময়সীমা জানাননি তিনি।=

বাংলাদেশের প্রত্যাশা, দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতাও বাড়বে। এখন আলোচনায় পাওয়া সম্মতি বাস্তবে কতটা সহায়তায় রূপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।

img

ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবেলায় নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

প্রকাশিত :  ১৬:৫২, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা করে নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবেলা করুন ও এডিস মশার জন্মস্থান ধ্বংস করুন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমি আপনাদের সামনে একটু আলাপ করতে চাই, একই সঙ্গে আপনাদের সহযোগিতা দরকার এই সমস্যাটির কিছুটা হলেও সমাধান করার জন্য। আমরা একসঙ্গে হয়েই ১৯৭১ সালে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। আমরা সবাই একসঙ্গে ১৯৯০-এর সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকেও সফল করেছিলাম।

আবার সব স্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকেও সফল করেছিলাম। আমরা যদি এতগুলো কাজ পারি, তাহলে কেন আমরা দেশের অন্য যে সব সমস্যা আছে, সবাই মিলে যদি একটু একটু করে আমরা কন্ট্রিবিউট করি, একটু একটু করে যদি আমরা অংশগ্রহণ করি, কেন পারব না?’

তিনি বলেন, ‘আজকের যে বিষয়টি নিয়ে আমি আপনাদের সামনে আলাপ করতে চাই, সেটি হচ্ছে ডেঙ্গু। আমরা পত্রিকার পাতা খুললেই প্রায় দেখি যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ মারা গিয়েছেন, বিভিন্ন মানুষ অসুস্থ হয়ে গিয়েছেন। যার আপনজনটি হারিয়ে গিয়েছে সেই কষ্টটা বুঝে।

কিন্তু আমরা যদি সবাই মিলে চেষ্টা করি, সবাই মিলে যদি একটু একটু করে এগিয়ে আসি, তাহলে অনেক মানুষকে আমরা সাহায্য করতে পারব, এই আপনজন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করতে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের যদি আমরা সংখ্যা বিবেচনা করি প্রায় আড়াই কোটির মতো। এর বাইরেও বিভিন্ন সংগঠন যেমন বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্ল গাইড, রেড ক্রিসেন্টের মেম্বার যারা আছেন, রেড ক্রসের মেম্বার যারা আছেন, আমরা যদি এগুলো বিবেচনা করি তাও প্রায় ৪০ লাখ। এই যে সদস্যগুলো, এরা গত প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশের সব জেলায়, উপজেলায় যতটুকু সম্ভব চারদিকে যে আবর্জনা-ময়লা সেটিকে কিছুটা হলেও যতটুকু সম্ভব পরিষ্কার করার জন্য। আমরা সবাই জানি, আপনারাও প্রত্যেকে যারা দেখছেন এই ভিডিও কম-বেশি সবাই জানেন যে, এই ডেঙ্গুর যে এডিস মশা, এটির উৎপত্তিস্থল হচ্ছে কিন্তু জমে থাকা পানি।

সেটি ঘরের আনাচে-কানাচে হোক, সেটি রাস্তার বিভিন্ন পথে-ঘাটে বিভিন্ন জায়গায় হোক, যে আনাচে-কানাচে পানি জমে আছে অথবা যেভাবে ময়লা ও বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকছে তার ফলে পানি জমে থাকছে, সেই পানিগুলোতে এই মশাগুলো জন্ম নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর একটি টিকা আবিষ্কার হয়েছে বৈকি, তবে বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে টিকাটা খুব বেশি কার্যকর নয়। ডেঙ্গু যদি কারো হয়, তার সেই রোগ সারাতে টিকাটা খুব বেশি কার্যকর নয়। সবচেয়ে বেশি কার্যকর হচ্ছে যে জন্মস্থল ডেঙ্গুর, অর্থাৎ বিভিন্ন জায়গায় যে জমে থাকা পানি বা জমে থাকা ময়লা, এটাকে পরিষ্কার করে ফেলতে যদি আমরা পারি তাহলেই সবচেয়ে বেশি আমরা সফল হবো ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করতে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের কাছে আজকে আমার আহ্বান, আপনাদের কাছে আজকে যে সহযোগিতা আমি চাই— আসুন না, আমরা প্রত্যেকটি মানুষ, প্রত্যেকটি পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন করে যদি আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিই আমাদের ঘর, ঘরের আশপাশে এবং আমাদের চলার পথে যেখানে ডেঙ্গু মশা জন্ম নিতে পারে, বংশবিস্তার করতে পারে, এই জায়গাগুলোকে আমরা পরিষ্কার করে ফেলি, যাতে করে ডেঙ্গু মশা বংশবিস্তার করতে না পারে।’

‘একটি সরকার তখনই সফল হয় যখন সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করে দেশের জন্য। প্রিয় দেশবাসী, আমার সরকার, আমরা দেশের সব মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে দেশের সমস্যার সমাধান করতে চাই। দেশের সমস্যার সমাধান মানে— আপনার, আমার, আমাদের সবার সমস্যার সমাধান। আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। সবাই মিলে চেষ্টা করলে অবশ্যই আগামী দিনের এই ডেঙ্গুর অভিশাপ থেকে আমরা বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে পারব।’ 

জাতীয় এর আরও খবর