img

একটি বৃক্ষ, একটি স্বপ্ন, আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী

প্রকাশিত :  ১৩:৪৩, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:২৩, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমের উপস্থিতি HAGE Foundation-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন

একটি বৃক্ষ, একটি স্বপ্ন, আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী
HAGE Foundation-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম

পরিবেশ সুরক্ষা, সবুজায়ন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে হিউম্যানিটারিয়ান অ্যালায়েন্স ফর গ্রিন আর্থ (HAGE) Foundation। ‘একটি বৃক্ষ, একটি স্বপ্ন, আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন HAGE Foundation-এর সভাপতি ও আন্তর্জাতিক কথাসাহিত্যিক রেজুয়ান আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনিসুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মো. সোহেল রানা, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম রিপন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য রাসেল মিয়া ও আবু বকর সিদ্দিক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য  ময়মুর মুরসালিন নোমানী, মাহবুবা সুলতানা, সালমা হাসান, মো. জহুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার ও রাশেদ আনছারী। আরো উপস্থিত ছিলেন - বাংলা একাডেমির উপপরিচালক( প্রশাসন) মো: ওয়ালেদুর রহমান খান

বৃক্ষরোপণ কেবল গাছ লাগানোর একটি কর্মসূচি নয়, বরং প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। একটি গাছ বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের ওপর তার ইতিবাচক প্রভাবও বাড়তে থাকে। গাছ অক্সিজেন সরবরাহ, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, মাটির ক্ষয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে গাছপালা মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তোলে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

HAGE Foundation-এর এ কর্মসূচির প্রতিপাদ্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমান সময়ে পরিবেশ রক্ষার আলোচনা শুধু বিশেষজ্ঞ বা পরিবেশবাদীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বনভূমির ওপর চাপ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পরিবেশ সংরক্ষণ এখন ব্যক্তি, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। এ বাস্তবতায় বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগ পরিবেশের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

একটি গাছের উপকারিতা শুধু ছায়া দেওয়া কিংবা সৌন্দর্য বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গাছপালা পাখি ও বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল তৈরি করে। শহরাঞ্চলে গাছ তাপমাত্রার প্রভাব কমাতে এবং ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। গ্রামীণ জনপদে গাছ মাটি ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত সবুজায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করে শুধু কতটি গাছ লাগানো হলো, তার ওপর নয়। কোন প্রজাতির গাছ কোথায় লাগানো হচ্ছে, সেখানে গাছের বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে কি না এবং নিয়মিত পরিচর্যার ব্যবস্থা আছে কি না, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত প্রজাতির গাছ নির্বাচন, পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পানি দেওয়ার ব্যবস্থা গাছের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। বিশেষ করে স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির সঙ্গে মানানসই প্রজাতির গাছ লাগানো হলে দীর্ঘ মেয়াদে সুফল পাওয়া সম্ভব।

পরিবেশ সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও জরুরি। বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল কিংবা উপযুক্ত উন্মুক্ত স্থানে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর মাধ্যমে সবুজায়নের পরিসর বাড়ানো যায়। তবে যত্রতত্র গাছ লাগানোর পরিবর্তে স্থান, পরিবেশ এবং গাছের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি গাছ কাটার প্রয়োজন হলে তার পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং বিকল্প সবুজায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

HAGE Foundation-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমের উপস্থিতি আয়োজনটিকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, যুগ্ম সম্পাদক, কার্যনির্বাহী সদস্য ও সাধারণ সদস্যদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা একত্র হন।

আন্তর্জাতিক কথাসাহিত্যিক রেজুয়ান আহম্মেদের নেতৃত্বে HAGE Foundation-এর এ আয়োজনের মূল বার্তা হলো, আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী রেখে যেতে হলে বর্তমান প্রজন্মকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ, ধারাবাহিক সচেতনতা এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ।

একটি বৃক্ষ হয়তো এক দিনে পৃথিবী বদলে দিতে পারে না। কিন্তু একটি গাছ থেকেই শুরু হতে পারে সবুজের বিস্তার। গাছ নতুন আবাসস্থল তৈরি করতে পারে এবং পরিবেশের ওপর মানুষের সৃষ্ট চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। এমন ছোট ছোট উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে একসময় বড় পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।

‘একটি বৃক্ষ, একটি স্বপ্ন, আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী’ প্রতিপাদ্যটি তাই শুধু একটি কর্মসূচির নাম নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান। বর্তমানের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করাই পরিবেশ সংরক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনে বৃক্ষরোপণ, গাছের যথাযথ পরিচর্যা এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলার বিকল্প নেই।

img

ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবেলায় নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

প্রকাশিত :  ১৬:৫২, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা করে নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবেলা করুন ও এডিস মশার জন্মস্থান ধ্বংস করুন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমি আপনাদের সামনে একটু আলাপ করতে চাই, একই সঙ্গে আপনাদের সহযোগিতা দরকার এই সমস্যাটির কিছুটা হলেও সমাধান করার জন্য। আমরা একসঙ্গে হয়েই ১৯৭১ সালে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। আমরা সবাই একসঙ্গে ১৯৯০-এর সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকেও সফল করেছিলাম।

আবার সব স্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকেও সফল করেছিলাম। আমরা যদি এতগুলো কাজ পারি, তাহলে কেন আমরা দেশের অন্য যে সব সমস্যা আছে, সবাই মিলে যদি একটু একটু করে আমরা কন্ট্রিবিউট করি, একটু একটু করে যদি আমরা অংশগ্রহণ করি, কেন পারব না?’

তিনি বলেন, ‘আজকের যে বিষয়টি নিয়ে আমি আপনাদের সামনে আলাপ করতে চাই, সেটি হচ্ছে ডেঙ্গু। আমরা পত্রিকার পাতা খুললেই প্রায় দেখি যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ মারা গিয়েছেন, বিভিন্ন মানুষ অসুস্থ হয়ে গিয়েছেন। যার আপনজনটি হারিয়ে গিয়েছে সেই কষ্টটা বুঝে।

কিন্তু আমরা যদি সবাই মিলে চেষ্টা করি, সবাই মিলে যদি একটু একটু করে এগিয়ে আসি, তাহলে অনেক মানুষকে আমরা সাহায্য করতে পারব, এই আপনজন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করতে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের যদি আমরা সংখ্যা বিবেচনা করি প্রায় আড়াই কোটির মতো। এর বাইরেও বিভিন্ন সংগঠন যেমন বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্ল গাইড, রেড ক্রিসেন্টের মেম্বার যারা আছেন, রেড ক্রসের মেম্বার যারা আছেন, আমরা যদি এগুলো বিবেচনা করি তাও প্রায় ৪০ লাখ। এই যে সদস্যগুলো, এরা গত প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশের সব জেলায়, উপজেলায় যতটুকু সম্ভব চারদিকে যে আবর্জনা-ময়লা সেটিকে কিছুটা হলেও যতটুকু সম্ভব পরিষ্কার করার জন্য। আমরা সবাই জানি, আপনারাও প্রত্যেকে যারা দেখছেন এই ভিডিও কম-বেশি সবাই জানেন যে, এই ডেঙ্গুর যে এডিস মশা, এটির উৎপত্তিস্থল হচ্ছে কিন্তু জমে থাকা পানি।

সেটি ঘরের আনাচে-কানাচে হোক, সেটি রাস্তার বিভিন্ন পথে-ঘাটে বিভিন্ন জায়গায় হোক, যে আনাচে-কানাচে পানি জমে আছে অথবা যেভাবে ময়লা ও বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকছে তার ফলে পানি জমে থাকছে, সেই পানিগুলোতে এই মশাগুলো জন্ম নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর একটি টিকা আবিষ্কার হয়েছে বৈকি, তবে বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে টিকাটা খুব বেশি কার্যকর নয়। ডেঙ্গু যদি কারো হয়, তার সেই রোগ সারাতে টিকাটা খুব বেশি কার্যকর নয়। সবচেয়ে বেশি কার্যকর হচ্ছে যে জন্মস্থল ডেঙ্গুর, অর্থাৎ বিভিন্ন জায়গায় যে জমে থাকা পানি বা জমে থাকা ময়লা, এটাকে পরিষ্কার করে ফেলতে যদি আমরা পারি তাহলেই সবচেয়ে বেশি আমরা সফল হবো ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করতে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের কাছে আজকে আমার আহ্বান, আপনাদের কাছে আজকে যে সহযোগিতা আমি চাই— আসুন না, আমরা প্রত্যেকটি মানুষ, প্রত্যেকটি পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন করে যদি আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিই আমাদের ঘর, ঘরের আশপাশে এবং আমাদের চলার পথে যেখানে ডেঙ্গু মশা জন্ম নিতে পারে, বংশবিস্তার করতে পারে, এই জায়গাগুলোকে আমরা পরিষ্কার করে ফেলি, যাতে করে ডেঙ্গু মশা বংশবিস্তার করতে না পারে।’

‘একটি সরকার তখনই সফল হয় যখন সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করে দেশের জন্য। প্রিয় দেশবাসী, আমার সরকার, আমরা দেশের সব মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে দেশের সমস্যার সমাধান করতে চাই। দেশের সমস্যার সমাধান মানে— আপনার, আমার, আমাদের সবার সমস্যার সমাধান। আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। সবাই মিলে চেষ্টা করলে অবশ্যই আগামী দিনের এই ডেঙ্গুর অভিশাপ থেকে আমরা বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে পারব।’ 

জাতীয় এর আরও খবর