ইসির সঙ্গে বৈঠক

img

আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় জামায়াত

প্রকাশিত :  ১৮:০৩, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৮, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনি প্রক্রিয়ার জরুরি সংস্কার শেষ করে জাতীয় নির্বাচন চায় । একইসঙ্গে দলটি জাতীয় সংসদের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায়। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন নয় (নো ইলেকশন উইথআউট রিফর্মস)। তবে সব সংস্কার নয়, শুধু নির্বাচন সংক্রান্ত অতি জরুরি সংস্কার করে নির্বাচন করতে হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে জামায়াত নেতারা প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন। একযুগ পর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তারা বৈঠক করলেন। সর্বশেষ ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ইসির সঙ্গে জামায়াতের নেতারা বৈঠক করেছিলেন।

বৈঠক সম্পর্কে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার ব্যাপারে লিখিত আকারে আমাদের বক্তব্য পেশ করেছি। ২৩টি বিষয়ে সুপারিশ করেছি। ইসিও কিছু বিষয় আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। কিছু বিষয়ে কমিশন প্রাসঙ্গিক মতামত দিয়েছেন। ইসির সক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা, সমস্যা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। তিনি বলেন, আমাদের প্রধান সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন নয় (নো ইলেকশন উইথআউট রিফর্মস)। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশি্লষ্ট বিষয়গুলো সংস্কার করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না, অবাধ হবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে যে সংস্কারটুকু নূ্যনতম প্রয়োজন এবং যতটুকু যেৌক্তিক সময় প্রয়োজন জামায়াতে ইসলামী সে সময় দিতে প্রস্তুত। দিন, মাস, ক্ষণ আমরা বেঁধে দিইনি। সংস্কার ও নির্বাচনের জন্য ‘যৌক্তিক সময়’ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বরাবরই আগের অবস্থানে রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমরা বলেছি সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারেন। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। মাস আমাদের কাছে ফ্যাক্টর নয়।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হোক। জনগণ চায় স্থানীয় সরকার সচল হোক। আমরাও চাই আগে স্থানীয় নির্বাচন হোক। এক্ষেত্রে বিএনপির মন্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি তিনি।

জামায়াত নেতা পরওয়ার বলেন, বিশ্বের ৬০টি দেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব হারে (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন-পিআর) নির্বাচন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। দেশে এ ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এ ব্যবস্থা দরকার বলে আমরা সুপারিশ করেছি। তিনি আরও  বলেন, অনিয়মের জন্য ভোট আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ বাতিলের ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সুপারিশ করেছি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে ৯১ (এ) অনুচ্ছে পুনর্বহালের দাবি করা হয়েছে। প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হলে নির্বাচন নয় এমন বিধানের সুপারিশ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, নিবন্ধন আইনে কঠিন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এ শর্তপূরণ করে (নিবন্ধন করা) রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। এ আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটা বাতিল করতে হবে। কারণ দল ও রাজনীতি করার অধিকার সবার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিবন্ধনের কোনো প্রয়োজনই নেই। দল হলেই নির্বাচন করবে। ২০০৮ সালের আগে নিবন্ধন আইন ছিল না। বৈঠকে জামায়াতের নিবন্ধনের বিষয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত। ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ চলছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে জামায়াতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, প্রকাশনা ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিমউদ্দিন সরকার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও মজলিশে শূরার সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসূফ আলী, মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন।


img

ডেপুটি স্পিকারের পদটি এখনো বিরোধীদলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৮:২৭, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:২৩, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে আবারও তাদের ডেপুটি স্পিকারের পদটি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “পদটি এখনো বিরোধীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, তারা চাইলে যেকোনো সময় এটি গ্রহণ করতে পারেন।”

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে বিরোধী দল ও সরকারি দলের গন্তব্য এক ও অভিন্ন। সংসদে গঠনমূলক বিতর্কের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র এগিয়ে যায়। যেসব বিষয়ে আমাদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে, দেশের স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেসবের সমাধান খুঁজে নেব।”

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন যে, কোনো একটি দল ব্যর্থ হওয়া মানে সমগ্র বাংলাদেশ ব্যর্থ হওয়া। তিনি বলেন, “আমরা কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইব না। আলোচনার মাধ্যমেই আমাদের এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। চলুন আমরা সিদ্ধান্ত নেই, আমাদের সংসদীয় আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত করা।” এ সময় তিনি বিরোধী দলীয় নেতাসহ সকল সংসদ সদস্যকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার ছেলে বর্তমানে ব্রিটেনে থাকেন। আমাকেও একসময় রাজনৈতিক কারণে সেখানে থাকতে হয়েছে। প্রবাসে থাকাকালীন ওখানকার স্কুলগুলো দেখে আমার খুব কষ্ট হতো। ভাবতাম, আমার দেশের স্কুলের শিক্ষার্থীরা কবে এমন সুন্দর পরিবেশে স্কুলে যাবে।’

তিনি জানান, আগামী জুলাই মাস থেকে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং জুতা প্রদান করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও সম্মানজনক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

কৃষি ও পানির নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খাল খনন কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এটি কেবল সেচ সুবিধার জন্য নয়, বরং সারা দেশে পানির সংকট দূর করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করা।