img

মনোনয়ন নিলেন সারজিস, বিএনপির যে প্রার্থীর বিপক্ষে লড়বেন

প্রকাশিত :  ১৫:৪৬, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৪৯, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

মনোনয়ন নিলেন সারজিস, বিএনপির যে প্রার্থীর বিপক্ষে লড়বেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে লড়তে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। এ আসনটি সদর উপজেলা, তেঁতুলিয়া ও অটোয়ারী উপজেলা (বোদা পৌরসভার অংশ বাদ) নিয়ে গঠিত।

আজ রোববার (১৬ নভেম্বর) রাতে বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি। এই আসনে বিএনপি থেকে লড়তে প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির।

এদিকে রোববার রাত পর্যন্ত ১১০০টি মনোনয়নপত্র বিক্রির কথা জানিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আগামী ২১ ও ২২ নভেম্বর মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের ভাইভা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে পঞ্চগড়ের এ আসনে গত ৩ নভেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি। ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমিরকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

জাতীয় এর আরও খবর

img

পেনশন ভোগান্তি কমাতে অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করছে সরকার: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৪৭, ২৪ জুন ২০২৬

পেনশন আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে সরকার ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (ওপিটিএমএস) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থা চালু হলে পেনশনভোগীরা ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে, আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। এর ফলে সময় ও হয়রানি কমবে, পাশাপাশি সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও নিশ্চিত হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা পেনশন সংক্রান্ত কাজে প্রায়ই বিলম্ব, প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় অফিস যাতায়াতের মুখোমুখি হন। ওপিটিএমএস পুরোপুরি চালু হলে তারা ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে ও আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারবেন। এর ফলে দ্রুততম সময়ে পেনশন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি অফিসে না গিয়ে অনলাইনে সেবা পাওয়া গেলে তা দুর্নীতি কমানোর কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী পেনশনভোগীদের বিষয়ে মো. আব্দুল বারী বলেন, বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী ১৫ বছরের পুনঃস্থাপন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো পেনশনভোগী মারা গেলে তার পরিবার পেনশন পুনঃস্থাপনের সুবিধা পায় না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে এ নীতি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী।

সভাপতির বক্তব্যে মো. এহছানুল হক বলেন, আগে সরকারি কর্মচারীদের কোনো সমন্বিত ডেটাবেস ছিল না। ফলে পেনশন মঞ্জুরির প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠত। হালনাগাদ কর্মচারী ডেটাবেস সংরক্ষণ করা গেলে পেনশন অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনেক সহজ হবে। তিনি পেনশনভোগীদের জন্য পৃথক হেল্প ডেস্ক স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন, যাতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও পারিবারিক পেনশনভোগীরা সহজে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।

অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, অবসরের পর অনেক পেনশনভোগী নানা জটিলতার কারণে অসহায় অবস্থায় পড়েন। ওপিটিএমএস ঝামেলামুক্ত সেবা নিশ্চিত করে তাদের আস্থা বাড়াবে। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের নিয়মিত পেনশন মামলার ক্ষেত্রে পাইলট ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা চালু হবে। পরবর্তী সময়ে এটি অর্থ বিভাগ, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, সব মন্ত্রণালয়, সংযুক্ত দপ্তর এবং মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বৈষম্য কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।

হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী বলেন, পেনশন-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পেনশনভোগীরা এখন পুরোপুরি ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পেনশন ব্যবস্থাপনার মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে, যা সেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করছে।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের বাজেট-১ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এসপিএফএমএস কর্মসূচির জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. জিয়াউল আবেদীন। তিনি বলেন, জিপিএফ অটোমেশন, পেনশন-পরবর্তী সুবিধার অটোমেশন, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট মডিউল, টিএ/ডিএ মডিউল, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড ডেটাবেস এবং এলপিসি মডিউলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইবাস++ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ওপিটিএমএস চালু হলে অবসর-পূর্ব পেনশন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং অবসরপ্রত্যাশী কর্মচারীরা উন্নত সেবা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন অর্থ বিভাগের বাজেট ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসপিএফএমএসের পেনশন, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়নের মান ও সময়ানুবর্তিতা বিষয়ক স্কিমের প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ ও কো-অর্ডিনেটর ড. মাহফুজা বেগম।

 


জাতীয় এর আরও খবর