img

পদত্যাগ করছেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ

প্রকাশিত :  ০৫:৫৩, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

পদত্যাগ করছেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ

আজ বুধবার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের দুই ছাত্র প্রতিনিধি—তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে চাননি।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় বা কাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগেই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি অবহিত করেছেন দুই উপদেষ্টা।

এদিকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আজ বুধবার বেলা তিনটায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন।

তবে সরকার ও আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, পদত্যাগের বিষয়টি জানাতেই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হতে পারে।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গতকাল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যমুনায় বৈঠক করেন জ্যেষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা। সাধারণত প্রতি মঙ্গলবার মধ্যাহ্নভোজের পাশাপাশি উপদেষ্টারা বৈঠকে মিলিত হন। গতকালের বৈঠকে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়টি ওঠে। সন্ধ্যায় সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিশ্চিত হন যে দুই উপদেষ্টা বুধবার পদত্যাগ করছেন।

সরকার–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়সহ উপদেষ্টা পরিষদের অনেকে এই ব্যাপারে মোটামুটি একমত যে তফসিল ঘোষণার পর দুই ছাত্র প্রতিনিধির উপদেষ্টার সরকারে থাকা উচিত হবে না। তারা নির্বাচন করুন আর না করুন, তাদের পদত্যাগ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত সরকারের মনোভাব জেনে তফসিল ঘোষণার ঠিক আগে আগে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন দুই উপদেষ্টা।

এ বিষয়ে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের বক্তব্য জানতে টেলিফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই সরকারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন সরকারে জায়গা পান। এর মধ্যে নাহিদ ইসলাম তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পান। আসিফ মাহমুদ প্রথমে শ্রম উপদেষ্টা, পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। মাহফুজ আলম শুরুতে উপদেষ্টা পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হন।

জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যাত্রা শুরু করে। নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে দলটির আহ্বায়ক হন। এরপর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হন মাহফুজ আলম।

অবশ্য মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের এনসিপিতে কোনো পদ না থাকলেও দলটিতে তাদের প্রভাব রয়েছে।

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ঢাকা থেকে ভোট করবেন, সেটা আগেই জানিয়েছেন। তিনি গত ৯ নভেম্বর ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ধানমন্ডিতে ভোটার হওয়ার আবেদন করেন। এরপর ঢাকা-১০ আসন (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ) থেকে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা বা দলটি থেকে ভোট করতে চান বলেও খবর বের হয়। অবশ্য ৪ ডিসেম্বর বিএনপি দ্বিতীয় দফায় যে ৩৬টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তাতে ঢাকা-১০ আসনও রয়েছে।

এমতাবস্থায় আসিফ মাহমুদ স্বতন্ত্র নাকি কোনো দল থেকে ভোট করবেন; তার রাজনৈতিক ঠিকানা কী হবে—সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।

অন্যদিকে মাহফুজ আলমের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর-১ আসনে। আসনটিতেও বিএনপি দীর্ঘদিন দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে গত সোমবার বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এ সময় তাকে লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানায় বিএনপি। ফলে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে মাহফুজের ভোট করার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গেছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো জোট গঠনের চেষ্টায় আছে। এর মধ্যে গত রোববার এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে একটি নতুন জোট আত্মপ্রকাশ করেছে। এনসিপি বিভিন্ন আসনে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করছে। মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ এনসিপির মনোনয়ন নেন কি না, সেদিকেও দৃষ্টি রয়েছে অনেকের।

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন জায়গা পান। নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করলে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ পরে উপদেষ্টার দায়িত্বে আসেন।

রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ও আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করতে পারেন। তবে তাদের রাজনৈতিক ঠিকানা এবং দলীয় সংযুক্তি এখনও স্পষ্ট নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এনসিপি বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করছে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ০৬:১৯, ২৫ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনে শিগগিরই বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছেন । সেই সঙ্গে বাংলাদেশে ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণে চীনা কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শিগগিরই চীনে আমাদের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয’ খুলতে যাচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য খুবই সহজ। চীনা বিনিয়োগকারীদের সহায়তা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা আপনাদের আরও কাছাকাছি থাকতে, আপনাদের সাথে আরও নিয়মিত কথা বলতে এবং আগ্রহ থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে আপনাদের সাহায্য করতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বহু দশকের একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এটি আস্থা, শ্রদ্ধা এবং বাস্তব সহযোগিতার একটি সম্পর্ক।  বিগত বছরগুলোতে এই সম্পর্কটি কূটনীতি থেকে উন্নয়নে, উন্নয়ন থেকে বাণিজ্যে এবং এখন বাণিজ্য থেকে আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত হয়েছে। আজ আমি সেই পরবর্তী অধ্যায়টি নিয়ে কথা বলতে চাই।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ এক বিশাল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের যাত্রাপথের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমি স্পষ্টভাবে বলতে পারি যে, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং আমাদের অন্যতম দীর্ঘদিনের ও বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জড়তা দূর করতে তার সরকার ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের কঠোর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এখন থেকে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে নতুন ব্যবসার লাইসেন্স অনুমোদন করা হবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বৈষম্যহীন আচরণ, আমাদের আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী মূলধন ও লভ্যাংশ ফেরত এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা আশা করতে পারেন

এছাড়াও চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় জোনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানান সরকারপ্রধান। এই স্থানগুলো লজিস্টিকস, বন্দর সংযোগ, পরিষেবা, কর্মী, সরবরাহকারী এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী ইকোসিস্টেম প্রদান করে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইটি, উন্নত বস্ত্রশিল্প ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে বিশেষ নীতিগত সুবিধা ও প্রণোদনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ ফেরত নেওয়া ও আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়ের অংশীদার হওয়ার জোর আহ্বান জানান।


জাতীয় এর আরও খবর