img

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অসম্ভব নয়: দ্য ডিপ্লোম্যাটকে তারেক রহমান

প্রকাশিত :  ১৫:৪৯, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অসম্ভব নয়: দ্য ডিপ্লোম্যাটকে তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়া কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।’ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ডিপ্লোম্যাটকে দেওয়া  সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। 

নয়াদিল্লির সাংবাদিক শাহাদাৎ স্বাধীনের নেওয়া এই কথোপকথন গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়। এতে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং দেশের ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো নিয়ে পরিকল্পনা ও অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন। 

সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনি বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছেন। এটি কি অলীক কল্পনা নয়? যেখানে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল প্রায় ৪৭৫ বিলিয়ন ডলার। সস্তা শ্রম আর পোশাক খাতের ওপর ভর করে বাংলাদেশ কি বাস্তবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে পারবে?

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘এখন দেশের অর্থনীতি দুটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে– পোশাক খাত ও রেমিট্যান্স। আমরা আইটি খাতের ওপর জোর দেব। এর সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালকা প্রকৌশল, জুতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেও (এসএমই) নজর দেব। এ ছাড়া খাদ্য খাতেরও বড় সম্ভাবনা আছে। পর্যাপ্ত মাছ ও সবজি উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। সৃজনশীল অর্থনীতির সুযোগগুলো খতিয়ে দেখছি।’

দ্য ডিপ্লোম্যাট জানতে চায়– ব্যাংকের ৩৬ শতাংশই ঋণখেলাপি। অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র অনুযায়ী, শেখ হাসিনার আমলে প্রতিবছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এমন একটি দেশে আপনি কীভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন দেখেন?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘আপনি যেসব ঋণখেলাপ ও অর্থ পাচারের কথা বলছেন, তা হয়েছে বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে। সরকার এ ধরনের কাজে উৎসাহ দিয়েছে। এসব ছিল জনগণের টাকা। সেখানে কোনো স্বচ্ছতা বা জবাবদিহি ছিল না। জনগণের প্রতি তাদের কোনো অঙ্গীকার ছিল না, তাই তারা এসব করেছে।

আপনার সরকার যে একই কাজ করবে না, তার নিশ্চয়তা কী– এ প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার হলো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।’

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জানান, বর্তমান বিএনপির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সব বয়সের মানুষ সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা বেড়েছে। তিনি ‘দ্য প্ল্যান’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীদের ভাবনা শুনছেন।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পাঁচটি বিশেষ সেবার কথা উল্লেখ করেছেন। দরিদ্র নারীদের জন্য মাসিক ভাতা, ফ্যামিলি কার্ড। কৃষকদের সরকারি সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা, ফার্মার কার্ড। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, হেলথ কার্ড। যুবকদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান। প্রবাসীদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের বলয়ে না থেকে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে রাখা হবে।

পরিবেশ রক্ষায় বিএনপি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছে। তিনি মনে করেন, জলবায়ু তহবিলের সঠিক ব্যবহার এবং দুর্নীতি রোধ করা গেলে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন সম্ভব।


img

পুঁজিবাজারে আস্থার জয়গান: বিনিয়োগকারীদের জয় হোক রোববারের সূর্যোদয়ে

প্রকাশিত :  ০৫:৪৯, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৩১, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনীতিতে যখন পরিবর্তনের হাওয়া লাগে, অর্থনীতির পালেও তখন নতুন গতি সঞ্চার হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় আমাদের ঝিমিয়ে পড়া পুঁজিবাজারে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। আগামী রোববার কেবল একটি সাধারণ কার্যদিবস নয়; বরং এটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণও হতে পারে।

নতুন দিনের হাতছানি
গত কয়েক বছরে দেশের পুঁজিবাজার নানাবিধ অস্থিরতা ও আস্থার সংকটে ভুগেছে। তবে পরিবর্তনের এই সময়ে বাজারের আকাশে নতুন সূর্যোদয়ের আভা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর বাজার এখন সিন্ডিকেটমুক্ত ও সুশাসনের প্রত্যাশা করছে। নবনির্বাচিত সরকারের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গিই হতে পারে আগামীর প্রধান চালিকাশক্তি।

বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু জরুরি কথা
আতঙ্ক নয়, এখন ধৈর্যের সময়: মনে রাখবেন, বাজারের তলানি থেকেই নতুন উচ্চতার সূচনা হয়। বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সূচকের গ্রাফকে ঊর্ধ্বমুখী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সাময়িক অস্থিরতায় বিচলিত না হয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিন।

সুশাসনের প্রত্যাশা: বিপুল জনসমর্থন নিয়ে কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে নীতি-নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসে বলে প্রত্যাশা করা যায়। এটি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও সহায়ক হতে পারে, যার সুফল পেতে পারেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

রোববার হোক আস্থার দিন: দীর্ঘ সময় ধরে যারা ধৈর্য ধরে আছেন, রোববারের সূচক তাদের মুখে আশার হাসি ফুটিয়ে তুলতে পারে। শেয়ার কেনাবেচায় হুজুগে না মেতে কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি যাচাই করে সুপরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগ করুন।

একটি সমৃদ্ধ পুঁজিবাজারই দেশের অর্থনীতির প্রকৃত আয়না। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন সেই আয়নাকে আরও উজ্জ্বল করবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পরিশ্রমের প্রতিটি টাকা যেন সুরক্ষিত থাকে এবং বাজারের সম্ভাব্য ঊর্ধ্বমুখী গতি যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়—এই কামনাই রাখি।