img

প্রকাশ্যে এলো শিশু রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারী সোহেলের যত অপকর্ম

প্রকাশিত :  ০৬:৩১, ২২ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৩৯, ২২ মে ২০২৬

প্রকাশ্যে এলো শিশু রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারী সোহেলের যত অপকর্ম

রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানার অতীত জীবনের নানা অপরাধ ও অপকর্মের তথ্য সামনে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় আসার আগে গ্রামে থাকতেই মাদক ও অনলাইন জুয়ায় মারাত্মকভাবে আসক্ত ছিল সোহেল। জুয়ার কারণে বিপুল অঙ্কের ঋণে জর্জরিত হয়ে একপর্যায়ে সে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। এছাড়া পারিবারিক ও নৈতিক স্খলনের নানা অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সবশেষ পল্লবীর একটি সাবলেট বাসায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় সে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রামিসার হত্যাকারী সোহেল রানার মূল বাড়ি নাটোরের মহেশচন্দ্রপুর এলাকায়। সেখানে সে রিকশা মেরামতের কাজ করত। প্রায় ১০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করা সোহেলের সেই সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে। তবে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর বছর তিনেক আগে পাশের গ্রামে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে।

তবে মাদক, জুয়া আর ঋণের কারণে পরিবারের চাপে শেষ পর্যন্ত এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় সে। সোহেল রানার ছোট বোন জলি বেগম জানান, মাদক ও জুয়াসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার কারণে বছর তিনেক আগেই তাকে পরিবার থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।

নাটোর থেকে ঢাকায় এসে মিরপুরের পল্লবীতে একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকতে শুরু করে সোহেল ও তার স্ত্রী। ওই বাসার কেয়ারটেকার মনির জানান, পরিচিত দুজনের সুপারিশে তিনি প্রথমে সোহেলকে নিজের গ্যারেজে মিস্ত্রি হিসেবে কাজ দিয়েছিলেন। তবে ১৫ দিনের মাথায় কাজে নিয়মিত ফাঁকি দেওয়ায় তাকে গ্যারেজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মাসুদের দাবি, কেয়ারটেকারের অনুরোধেই তিনি সোহেলকে বাসায় সাবলেট দিয়েছিলেন।

জানা গেছে, ঢাকায় সোহেল রানার থাকা এবং কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল তাদের একই গ্রামের সাদ্দাম ও হানিফ নামের দুই ব্যক্তি, যাদের সুপারিশ করেছিলেন কামাল নামের আরেক গ্রামবাসী।

পল্লবীর এই ফ্ল্যাটে ওঠার আগে সাদ্দামের মাধ্যমে বিহারি ক্যাম্পের একটি বাসায় সাবলেট নিয়েছিল সোহেল রানা ও তার স্ত্রী। তবে সেখানে নিয়মিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করার কারণে বাড়ির মালিক তাদের বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য করেন। ওই বাড়ির মালিক জানান, তার বাসায় দুই মাস থাকার সময় সোহেলের ইয়াবাসক্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে তারা তাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলেন। গ্রাম থেকে ঢাকা—সবখানেই মাদকের অন্ধকার জগৎ ও অপরাধপ্রবণতায় নিমজ্জিত থাকা এই সোহেল রানাই শেষ পর্যন্ত পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে বলী বানায়।


জাতীয় এর আরও খবর

img

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩১৫

প্রকাশিত :  ১২:১৪, ২২ মে ২০২৬

হাম ও উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। আর দুই শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে এ সময় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১৫ জন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দুই মাসে সারাদেশে ৪৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৫ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪১৪ জন।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৮ হাজার ৩২৯ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৬০ হাজার ৫৪০ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২১০ জন ও আক্রান্ত ৩৫ হাজার ২১ জন।


জাতীয় এর আরও খবর