img

মাথা উঁচু করে দ্রুত ফিরব: আনন্দবাজারকে শেখ হাসিনা

প্রকাশিত :  ১৩:৩২, ১৯ মে ২০২৬

মাথা উঁচু করে দ্রুত ফিরব: আনন্দবাজারকে শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে গত মাসে নয়াদিল্লি সফরে গিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ আবারও জানান। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ নিয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে তার নিজের এবং আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের দেশে ফেরা নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন শেখ হাসিনা। প্রসঙ্গত, ছ\'বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি নিজ দেশে ফিরেছিলেন। তার ঠিক ৪৫ বছর পর ভারতে চলে আসা হাসিনার বক্তব্য, \"আমাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমার দলকে ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু থামানো যায়নি। সৃষ্টিকর্তা যেহেতু বাঁচিয়ে রেখেছেন, আমি দ্রুতই বাংলাদেশের মাটিতে ফিরব। মাথা উঁচু করে, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানোর গর্ব নিয়েই ফিরব।\"

কিন্তু আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলে কী ভাবে প্রত্যাবর্তন সম্ভব? শেখ হাসিনার কথায়, “বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করার পরেও তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার সব চেষ্টা করে। কিন্তু উল্টো আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়েই ফিরে এসেছে। যারা এই নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী মনে করছেন তাদের ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখতে বলব। আমাদের কোটি কোটি সমর্থক এবং লাখো নেতা কর্মী দেশেই রয়েছেন। এখনও আমার ছাত্র লীগের ছেলেরাই অসহায় কৃষকদের পাশে রয়েছে। ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার এবং সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের নেতা-কর্মীরা সরব। আওয়ামী লীগ মানুষের আবেগে রয়েছে। ফলে আমাদের ফিরে আসা অনিবার্য, শুধু কিছু সময়ের ব্যাপার। আরও সংগঠিত হয়ে, শক্তিশালী হয়ে ফিরব। নীরবে তার প্রস্তুতি চলছে।\"

কিন্তু এটা তো ঘটনা যে আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী এই মুহূর্তে দেশের বাইরে। কলকাতাতেও রয়েছেন দলের অনেক প্রাক্তন সাংসদ-মন্ত্রী। হাসিনা বলছেন, \"কেউ স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেননি। ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রাণে বাঁচতে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। ছ\'শোর বেশি নেতাকর্মীকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। দেড় লাখ নেতা কর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। কারাবন্দিদের ন্যূনতম আইনি অধিকার দেওয়া হচ্ছে না। এই অবস্থায় যাঁরা বাইরে রয়েছেন তারা বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনে বাংলাদেশের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরছেন, সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। দেশে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন তৈরি হলেই তাঁরা ফিরবেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও যাঁরা দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন, দল তাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে।\"

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের মূল্যায়ন কী ভাবে করছেন শেখ হাসিনা? বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে বিরোধীদের বরাবরই অভিযোগ ভারত-তোষণের। হাসিনার কথায়, \"আমাদের বিরোধী শক্তিরা সর্বদাই এই অভিযোগ করেছে। আওয়ামী লীগ নাকি ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছে, দেশবিরোধী চুক্তি করেছে। কিন্তু খেয়াল করে দেখুন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অথবা বর্তমান বিএনপি সরকার এখনও পর্যন্ত একটিও দেশবিরোধী চুক্তি সামনে হাজির করতে পারেনি। তাদের মিথ্যাচার প্রমাণিত হচ্ছে।\" তাঁর সংযোজন, \"১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেই আমরা গঙ্গা পানি চুক্তি করেছিলাম। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ভারতের থেকে প্রায় ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার সমুদ্রসীমা বাংলাদেশের মানচিত্রে যোগ করেছিলাম। ২০১৫ সালে স্থলসীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা গিয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনটি এই জ্বালানি সঙ্কটের সময় বাংলাদেশের \'লাইফ লাইন\'। এর মধ্যে কোনটা অন্য দেশের তাঁবেদারি বিএনপি বলুক? এটা ঘটনা যে বিদেশনীতির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।”

সূত্র: আনন্দবাজার

img

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত, সব কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

প্রকাশিত :  ১৮:২২, ১৯ মে ২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে এই সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সকল কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই বিলুপ্তির পর সদ্য গঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ মোট ১৫ জন কর্মকর্তাকে পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) আইন ও বিচার বিভাগ থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উল্লেখ্য, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় গঠনের উদ্দেশ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হলেও বর্তমান বিএনপি সরকার তা আর চূড়ান্ত আইনে পরিণত করেনি।

বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির ২২ অনুচ্ছেদে ‘নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ’ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে সংবিধানের এই ঘোষণার পর দীর্ঘ ২০ বছর পার হলেও এটি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ১৯৯৪ সালে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বেতন গ্রেড নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তৎকালীন বিচারক মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ জন বিচারকের পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা করা হয়।

এই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট জুডিশিয়াল সার্ভিসকে একটি স্বতন্ত্র সার্ভিস হিসেবে ঘোষণা করার ঐতিহাসিক আদেশ দেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। মাসদার হোসেন মামলার ওই রায়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম ছিল—সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে, বিচার বিভাগ সংসদ বা নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকবে না এবং নিম্ন আদালতের বার্ষিক বাজেট সুপ্রিম কোর্ট নিজেই প্রণয়ন ও বরাদ্দ করবে, যেখানে নির্বাহী বিভাগের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না।

আপিল বিভাগের সেই ঐতিহাসিক রায়ের প্রায় আট বছর পর, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কাগজে-কলমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক ঘোষণা করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সেই ঘোষণা কেবল নথিপত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ১০ আগস্ট দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে দেওয়া এক অভিভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মাসদার হোসেন মামলার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ১১৬ক অনুচ্ছেদে বিচারকদের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টের যৌথ এখতিয়ার বা দীর্ঘদিনের ‘দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা’ সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত প্রকৃত স্বাধীনতা আসবে না।

প্রধান বিচারপতির এই অনড় অবস্থানের পর, ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর পৃথক সচিবালয়ের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। একই সময়ে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপন এবং বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য জোরালো সুপারিশ পেশ করে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছিল, সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগকে অর্থবহভাবে স্বাধীন করতে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক।

সব আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে স্বতন্ত্র ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই অধ্যাদেশটিকে আর আইনে রূপান্তর না করে আজ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়টিই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।