img

কোনো চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভমেন্ট হওয়ার দরকার নাই : আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৬:১১, ১৭ মে ২০২৬

কোনো চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভমেন্ট হওয়ার দরকার নাই : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, কোনো চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভমেন্ট হওয়ার দরকার নাই। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে অংশীজন সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামন বলেন, সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়া বা অন্যান্য বিচারপতিদের অবসরের পর আইন কমিশনসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ পেতে কর্মক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা হারাচ্ছেন। তারা অবসরের পর হিসাব কষা শুরু করেন।

এ সময় প্রস্তাবিত নতুন আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা কোনোভাবেই খর্ব বা সীমাবদ্ধ করা হবে না, বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করা হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটি আমরা সঠিক বিবেচনা থেকেই বাদ দিয়েছি। কোনো পাবলিক পলিসি বা আইনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সব ইনস্ট্রুমেন্ট উল্লেখ করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। এটি আইনের কার্যকারিতা বা ইনফোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো অন্তরায় বা দুর্বলতা তৈরি করবে না।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বাছাই কমিটিতে থাকতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। বিচারিক কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার কারণে তারা অপরাগতা প্রকাশ করছেন।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘তথ্য কমিশনের বাছাই কমিটির জন্য আমরা দেড় মাস ধরে চিঠি পাঠিয়ে রেখেছি, কিন্তু উনাদের ব্যস্ততার কারণে এখনো কমিটিই গঠন করা সম্ভব হয়নি।’

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘আমরা পার্লামেন্ট বা আইন মন্ত্রণালয়কে একেবারে উপেক্ষা করতে পারি না, কারণ এগুলো একেকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তবে আপনারা যদি এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প ও নিরপেক্ষ মেকানিজম বা পদ্ধতির প্রস্তাব দেন, আমরা অবশ্যই তা বিবেচনা করব।’

সভায় গুমের অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন একজন প্রতিনিধি। এই উদ্বেগের জবাবে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বাহিনী প্রধানের রিপোর্ট যদি কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে কমিশন তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এছাড়া কোনো বাহিনীর প্রধান যদি তার অধীনস্থ কাউকে বাঁচাতে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন, তবে তাকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে, যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি পরিণতি ডেকে আনবে।’

গুমসংক্রান্ত বিষয়ে আইনের খসড়া নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম বিষয়ক যে অধ্যাদেশটি আনা হয়েছিল, তাতে অপরাধীরাই বেশি সুযোগ পেতো। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন খুব শিগগিরই জনগণের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের সাজা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এক ধরণের রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। সন্ধ্যা বা রাতের বেলা মোমবাতি জ্বালিয়ে তড়িঘড়ি করে ১০ থেকে ২০ জন সাক্ষী নিয়ে এক রাতেই সাজা দেওয়ার নজির তৈরি করা হয়েছিল, যা স্পষ্টতই মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।


জাতীয় এর আরও খবর

img

রাজধানীর মুগদায় মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩

প্রকাশিত :  ০৬:০৭, ১৮ মে ২০২৬

রাজধানীর মুগদা এলাকায় এক ব্যক্তির খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথাবিহীন মরদেহের সাতটি অংশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর পাশের এলাকা থেকে নিহতের মাথাও উদ্ধার করা হয়। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আজ রোববার (১৭ মে) বিকেলে মুগদা এলাকার মান্ডা আবদুল গনি রোডের একটি বাড়ির নিচ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহের সাতটি খণ্ড উদ্ধার করে পুলিশ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাশ পাওয়া গেছে, মাথা, হাত আর পা সব টুকরো করা হয়েছে। মনে হয় দূরের কোনো লাশ এখানে ফেলে দিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে র‌্যাবের অভিযানে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। 

আটক ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে পরে মধ্যরাতে পার্শ্ববর্তী মানিকনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহত ব্যক্তির মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়। 

মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক অনুপ বিশ্বাস জানান, মামুনের বাড়ির পাশের এবং ৫৭ নম্বর বাড়ির গলির ভেতর থেকে মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি একজন পুরুষের। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা শরীরটি টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।

মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন জানান, মান্ডা প্রথম গলির আব্দুল করিম রোডের ২৬০/১ নম্বর ‘শাহনাজ ভিলা’র বেজমেন্ট থেকে প্রথমে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সেখানে সাতটি খণ্ডে দেহটি পাওয়া যায়। তবে ওই সময় মাথা পাওয়া যায়নি। পরে পাশের ময়লার স্তূপে তল্লাশি চালিয়ে মাথাটি উদ্ধার করা হয়। দেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল এবং পেট থেকে ভুঁড়ি বেরিয়ে আসছিল।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আনুমানিক ছয় দিন আগে ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যার পর টুকরো টুকরো করে পলিথিনে ভরে বাড়িটির বেজমেন্ট ও পাশের ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে গেছে খুনিরা।

মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বলেন, একজন অজ্ঞাত পুরুষের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো নিহত ব্যক্তির হাতের একটি অংশের সন্ধান মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জাতীয় এর আরও খবর