রুশ হামলায় নিহত ২৪, জেলেনস্কির কঠোর হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার হামলায় কিয়েভে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধসে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়ার তেল শিল্প ও সামরিক উৎপাদন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো ‘সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত’।
গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলা বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না। দীর্ঘপাল্লার হামলা নিয়ে সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবারের হামলায় নিহতদের স্মরণে কিয়েভে শোক পালন করা হয়েছে। ওই হামলায় রাজধানীর দারনিতস্কি জেলায় একটি ৯ তলা আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এ হামলায় তিন শিশুসহ মোট ২৪ জন নিহত হয়েছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শুরুর পর এটি ছিল ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার সবচেয়ে বড় আকাশপথের হামলা।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ২০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে তার কার্যালয় ও সরকারি বাসভবনের পাশাপাশি সরকারি ভবন ও সামরিক কমান্ড পোস্টও রয়েছে।
রাশিয়ার হামলার জবাবে শুক্রবার ইউক্রেনও পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। দেশটি রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আঞ্চলিক গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজান শহরে এক ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় ড্রোন দেশটির অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগারেও আঘাত হেনেছে।
এদিকে শুক্রবার দুই দেশ ২০৫ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময় সম্পন্ন করার পর আবেগঘন দৃশ্য প্রকাশ পেয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তি পাওয়া ইউক্রেনীয় সেনারা চোখের জল ফেলছেন, আর রুশ সেনারা উল্লাস করছেন।
আলজাজিরা জানিয়েছে, এই বন্দি বিনিময় ছিল গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া তিন দিনের যুদ্ধবিরতির অংশ। এর আওতায় উভয় পক্ষ মোট এক হাজার করে বন্দি বিনিময় করবে। এছাড়া যুদ্ধে নিহতদের মরদেহও বিনিময় করা হয়েছে। রাশিয়া ৫২৬টি মরদেহ ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তর করেছে, আর এর বিনিময়ে নিজেদের ৪১ সেনার মরদেহ ফিরে পেয়েছে।



















