ভারত সীমান্ত ইস্যু

img

আগের বাংলাদেশ আর নেই যে বসে দেখবে, ঢাকারও পরিকল্পনা রয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশিত :  ১৮:২০, ১১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:২৯, ১১ মে ২০২৬

আগের বাংলাদেশ আর নেই যে বসে দেখবে, ঢাকারও পরিকল্পনা রয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, এ বাংলাদেশ আর সেই বাংলাদেশ নেই। সীমান্তে আর নতজানু হবে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষ ও সরকার কাঁটাতারের বেড়া ভয় পায় না। বাংলাদেশেরও সীমান্ত নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে।

আজ  (১১ মে) সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাইলে দুদেশের নেতৃত্বের অবশ্যই ইতিবাচক মনোভাব দরকার। অবশ্যই দু’দেশের সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে অত্যধিক কঠিন। যতক্ষণ আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে, ততক্ষণ তা সমাধানের সুযোগ রয়েছে। কিছু ইস্যু রয়েছে তা দ্রুত সমাধান হতে পারে, আর কিছু ইস্যু সময় লাগতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন হয়েছে, তারা নির্বাচনে উগ্র ও অশোভনীয় ভাষায় বক্তৃতা করা করেছে। অনেক সময় নির্বাচনে জয়ের জন্য এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়। তবে একটি সরকার পরিচালনা করা ভিন্ন বিষয়। দেখি, তাদের একটু সময় দেই, নির্বাচনের বক্তৃতা ও সরকার পরিচালনা একই ধরনের হয় কিনা। বাংলাদেশের সম্পর্ক ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ঢাকা হস্তক্ষেপ করবে না।’ 

তিনি বলেন, কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে ভয় দেখানোর মতো কোনো জায়গা নেই। বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না। বাংলাদেশের সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না। যেখানে কথা বলার দরকার সেখানে ঢাকা কথা বলবে। মানুষে মানুষে সম্পর্ক বাড়াতে হলে ভারতকেও সীমান্তে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মানবিকতা দেখাতে হবে। শেখ হাসিনার সময়ে সীমান্তে আমরা যে রকম দেখেছি, ওই নমুনায় সীমান্ত আর কোনোদিন আসবে না। ওই নমুনায় কেউ যদি সীমান্ত কিছু করতেও চায়, এই বাংলাদেশ আর সেই বাংলাদেশ নেই, যে বসে দেখবে। বাংলাদেশেরও পরিকল্পনা রয়েছে, কি করতে হবে। আশা করি ভারত ওই পথে যাবে না।

উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোকে অবশ্যই আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। আমরা আন্তরিক পরিবেশে থাকতে চাই। সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে। দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা এখন ভারতে রয়েছেন। মনে রাখতে হবে ভারতে থেকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল না করাই ভালো। তাকে (শেখ হাসিনা) যাতে সে সুযোগ না দেওয়া হয়। আশা করি এবং ভারতের সরকার আশ্বস্ত করেছে, শেখ হাসিনাকে এ সুযোগটি তারা দেবে না।’

তিস্তায় ভারত ও চীন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠন করেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সবসময়ে বলে আসতো পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কারণে তিস্তা পানি চুক্তি সই করা যায়নি। এখন তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় নেই। আর কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপি সরকার। আমরা আশা করছি, এখন এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে কম প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হওয়ার কথা।’

বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক নিয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। আর এ সম্পর্কের সূচনা করেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এটি নতুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম বেইজিং সফর। চীন বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় অংশীদার। এ সম্পর্ককে আরও জোরদার করব। নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার। চীনও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কি ধরনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পর্কের সব বিষয়েও আলোচনা করেছি। বিস্তারিত না হলেও তিস্তা ইস্যুতে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে, চীনের এক্সিম ব্যাংক এতে অর্থায়ন করবে।’

তিস্তা প্রকল্পের কাজ কবে থেকে শুরু হবে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে সমীক্ষার প্রতিবেদন সুপারিশে নিতে হবে। আরও আলোচনা বাকি রয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার জন্য আরও সময় লাগবে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও সফরের সময় তিস্তা চুক্তি সই নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর এখনও চূড়ান্ত হয়নি, কোথায় প্রথম যাবেন, কবে যাবেন, যখন চূড়ান্ত হবে, তখন জানানো হবে। চীন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী বেইজিং সফর করবেন।

জাতীয় এর আরও খবর

img

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১১:৩৪, ১১ মে ২০২৬

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার (১১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৩৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩৪১ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ৫০০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১১৮ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ৯৩৭ জন।   

১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৮০ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩১ হাজার ৯৯২ জন।




জাতীয় এর আরও খবর