img

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ০৫:২৯, ১০ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২৮, ১০ মে ২০২৬

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (১০ মে) সকালে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনন্দঘন আয়োজনে এতক্ষণ আপনাদের বর্ণিল প্যারেড সবাই উপভোগ করেছে। আমার কাছে এটি শুধু একটি প্যারেড মনে হয়নি, বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা এক রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার। বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার নিপীড়িত-নির্যাতিত অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময় শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়। 

তিনি বলেন, দেশের জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের কার্যক্রম- অর্থাৎ পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন।

এটি আপনাদের কাছে বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।

সরকারপ্রধান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা এবং পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব। শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা এবং সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খল রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

জাতিসংঘ শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সুতরাং শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।

‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আজ থেকে শুরু হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। আগামী বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত উদযাপিত হবে এবারের পুলিশ সপ্তাহ। 

img

আজ বিশ্ব মা দিবস : মমতাময়ী মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

প্রকাশিত :  ০৭:০৪, ১০ মে ২০২৬

প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মা দিবস। মাকে নিয়ে লিখতে শুরু করলে সেই লেখা যেন কখনোই শেষ হয় না। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর, আপন আর শান্তির ডাক হলো— ‘মা’। ছোট্ট এই শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, সীমাহীন মমতা আর গভীর নিরাপত্তার অনুভূতি। সামান্য কষ্ট পেলেও অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে আসে— “মা”। কারণ মা-ই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভরসা, সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।

আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ আমাদের মা। তার জন্য আলাদা কোনো দিবসের দরকার নেই, এমনটাই মত অনেকের। তবে মাকে ভালোবেসে একটি দিন উৎসর্গ করার মধ্যে নেতিবাচক কিছু নেই। তাকে একটি দিন আপনি বিশেষ অনুভব করাতেই পারেন।

সকাল থেকেই যার যার মাকে ভালোবাসা জানাচ্ছেন অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। মায়ের সঙ্গে ছবি আপলোড করে নিজের ভালোবাসা ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন অনেকে।

মাকে নিয়ে কবি কাদের নেওয়াজ লিখেছিলেন- “মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই,/ ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই/ সত্য ন্যায়ের ধর্ম থাকুক মাথার’ পরে আজি/ অন্তরে মা থাকুক মম, ঝরুক স্নেহরাজি।” 

মাকে নিয়ে হাজারও কবি, সাহিত্যেক যুগে-যুগে লিখে গেছেন নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে। জন্মের পর থেকে শুরু করে শৈশব-কৈশোর এবং যৌবনের প্রতিটি পর্যায়ে মা জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মায়ের হাতে ভর দিয়ে পদচারণা শুরু, মায়ের চোখে পৃথিবী দেখা, গল্প শোনা, কলম ধরে এলোমেলো কিছু লিখতে চেষ্টা করা, আবার কখনো একটু ভয় পেয়ে মুরগির ছানার মতো বুকের মধ্যে লুকিয়ে পড়া, খানিক বাদে বের হয়ে আবার আকাশ দেখা এমন অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে থাকে মানুষটির সঙ্গে। মায়ের সঙ্গে সন্তানের জীবনের প্রতিটি পদেপদে জড়িয়ে থাকে হাজারও সুখকর স্মৃতি। সেই স্মৃতি আমাদের বাঁচতে শেখায়, সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এগিয়ে যাওয়ার ব্রত হিসেবে কাজ করে।

১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মা দিবস পালন করা হয়। আমেরিকার স্কুল শিক্ষিকা আনা জার্ভিস মাকে ভালোবেসে এই দিবসের প্রচলন করেন। ১৯০৫ সালে তার মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিসের মৃত্যুর পর এ নিয়ে তিনি আরও বেশি প্রচারণা চালান। নিজের মায়ের মতো দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সব মাকে স্বীকৃতি দিতে আনা জার্ভিস প্রচার শুরু করেন। মাকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই এই বিশেষ দিনে প্রচলন শুরু করা হয়। ১৯০৫ সালে তিনিই প্রথম মা দিবসকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন। তার এই প্রস্তাব শুরুর দিকে খারিজ করে দিয়েছিল মার্কিন কংগ্রেস। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। এরপর আমেরিকার সব প্রদেশ তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে ওই দিন ছুটি পালন করা হয়। এভাবেই ছিল মা দিবসের শুরুটা।

আজকের এই দিনে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। সব মা সুস্থ থাকুক, ভালো থাকুক এই হোক আজকের প্রত্যাশা।