img

রাজধানীর মুগদায় মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩

প্রকাশিত :  ০৬:০৭, ১৮ মে ২০২৬

রাজধানীর মুগদায় মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩

রাজধানীর মুগদা এলাকায় এক ব্যক্তির খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথাবিহীন মরদেহের সাতটি অংশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর পাশের এলাকা থেকে নিহতের মাথাও উদ্ধার করা হয়। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আজ রোববার (১৭ মে) বিকেলে মুগদা এলাকার মান্ডা আবদুল গনি রোডের একটি বাড়ির নিচ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহের সাতটি খণ্ড উদ্ধার করে পুলিশ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাশ পাওয়া গেছে, মাথা, হাত আর পা সব টুকরো করা হয়েছে। মনে হয় দূরের কোনো লাশ এখানে ফেলে দিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে র‌্যাবের অভিযানে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। 

আটক ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে পরে মধ্যরাতে পার্শ্ববর্তী মানিকনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহত ব্যক্তির মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়। 

মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক অনুপ বিশ্বাস জানান, মামুনের বাড়ির পাশের এবং ৫৭ নম্বর বাড়ির গলির ভেতর থেকে মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি একজন পুরুষের। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা শরীরটি টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।

মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন জানান, মান্ডা প্রথম গলির আব্দুল করিম রোডের ২৬০/১ নম্বর ‘শাহনাজ ভিলা’র বেজমেন্ট থেকে প্রথমে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সেখানে সাতটি খণ্ডে দেহটি পাওয়া যায়। তবে ওই সময় মাথা পাওয়া যায়নি। পরে পাশের ময়লার স্তূপে তল্লাশি চালিয়ে মাথাটি উদ্ধার করা হয়। দেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল এবং পেট থেকে ভুঁড়ি বেরিয়ে আসছিল।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আনুমানিক ছয় দিন আগে ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যার পর টুকরো টুকরো করে পলিথিনে ভরে বাড়িটির বেজমেন্ট ও পাশের ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে গেছে খুনিরা।

মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বলেন, একজন অজ্ঞাত পুরুষের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো নিহত ব্যক্তির হাতের একটি অংশের সন্ধান মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জাতীয় এর আরও খবর

img

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৭ কিমি তীব্র যানজট

প্রকাশিত :  ০৯:২৭, ১৮ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৩৫, ১৮ মে ২০২৬

লাঙ্গলবন্দ সেতুর সংস্কারকাজ চলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে ঢাকামুখী লেনে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।

আজ সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ঢালাই কাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ। কাজের সুবিধার্থে ঢাকামুখী লেনের একটি অংশ বন্ধ রেখে এক লেন দিয়ে যান চলাচল করানো হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে যানজট সোনারগাঁ ছাড়িয়ে মেঘনা ব্রিজ এলাকা হয়ে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইভেটকার দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে আছে। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন।

ঢাকাগামী ট্রাকচালক ওবায়দুল মিয়া বলেন, সকাল ৯টার দিকে দাউদকান্দি ব্রিজ পার হওয়ার পর থেকেই যানজটে আটকা আছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও তেমন গাড়ি এগোচ্ছে না।

তিশা পরিবহনের যাত্রী বৃষ্টি পোদ্দার বলেন, যেখানে ১০ মিনিটে যাওয়ার কথা, সেখানে আড়াই ঘণ্টা ধরে বসে আছি। অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল, সময়মতো পৌঁছাতে পারিনি। আগে থেকে বিকল্প ব্যবস্থা নিলে দুর্ভোগ কম হতো।

প্রাইভেটকার চালক মোহাম্মদ রাব্বানি বলেন, মেঘনা টোলপ্লাজা থেকে ঢাকামুখী লেন পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে। আড়াই ঘণ্টা বসে থেকেও মেঘনা ব্রিজ পার হতে হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই পথ যেতে ৮ থেকে ১০ মিনিট লাগে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ ঢাকা পোস্টকে বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ঢালাই কাজ চলমান থাকায় সকাল থেকে ঢাকামুখী লেনে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এক লেন দিয়ে যান চলাচল করছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। আজকের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।