img

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত

প্রকাশিত :  ০৭:১১, ০৫ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:১৮, ০৫ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোভ্যানের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বেলকুচির মেঘুল্লা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার আজুগড়া হিজলতলা এলাকার বছের সরকারের ছেলে মোতালেব হোসেন (৪৫), তার স্ত্রী ফজিলা খাতুন (৩৫) এবং ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের চালক আজুগড়া জামতৈল গ্রামের সোনাউল্লা মুন্সীর ছেলে নূরুল ইসলাম (৩৫)। দুর্ঘটনায় মোতালেব হোসেনের মেয়ে ও ভ্যানের যাত্রী তামান্না খাতুন (১৬) গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মোতালেব হোসেন শুক্রবার সকালে তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে উপজেলার আজুগড়া এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। সকাল সাতটার দিকে ভ্যানটি মেঘুল্লা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ এর এক্সেল রড ভেঙে যায়। এতে চালকসহ ভ্যানের সবাই সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে যান। এ সময় এনায়েতপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি বাস তাদের বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক নূরুল ইসলাম ও যাত্রী ফজিলা খাতুন নিহত হন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মোতালেব হোসেনের মৃত্যু হয়।

বেলকুচি থানার ওসি আবু জাফর ইমাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। বাসটি সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে আটকে আছে। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

সড়কের পাশে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

প্রকাশিত :  ১২:৫৯, ০৮ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথ। প্রতিদিনের মতো সেখানেই দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ সিকিউরিটি গার্ড আব্দুস সালাম। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁর আরেকটি অভ্যাস ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। 

সেই দৃশ্য লক্ষ্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সেই আব্দুস সালামকে উপহার পাঠিয়েছেন। 

বুধবার (০৮ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন রাজধানীর রমনায় গিয়ে আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর হাতে কিছু উপহারও তুলে দেন। 

এ সময় আব্দুস সালামের শারীরিক অবস্থা ও তার পরিবারের খোঁজখবরও নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

আব্দুস সালামের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ি ঘাট এলাকায়। গত আটমাস ধরে রাজধানীর সাবেক রমনা থানার সামনের একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করছেন। এর আগে তিনি গাড়ি চালাতেন। স্ট্রোক করার পর তিনি আর গাড়ি চালাতে পারেন না। গাড়ির স্টিয়ারিং ছেড়ে এই সিকিউরিটি গার্ডের কাজ নেন তিনি। অসুস্থ শরীর নিয়েই প্রতিদিনই বিরতিহীন সকাল ৮ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টা কাজ করেন তিনি।

সুজন মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সচিবালয়ের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় প্রতিদিন আব্দুস সালাম রমনা পুরনো থানার কাছে বুথের সামনে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তার এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনকে ওই ব্যক্তির খোঁজ খবর নেয়ার জন্য উপহার দিয়ে পাঠান। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুস সালাম।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আব্দুস সালাম বলেন, কখনো কল্পনাও করিনি এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হবে। আর প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবাকে ভালোবাসি, মাকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। প্রধানমন্ত্রী আমার জানের টুকরা। তিনি যখন এই পথ দিয়ে যান, আমি প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দেই। তিনিও আমাকে গাড়ির ভেতর থেকে সবদিনই হেসে সালাম দেন। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর হাসি দেখলে আমার মন জুড়িয়ে যায়। আজ আমার জীবনের সেরা দিন। সবচেয়ে আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী আমার মত ক্ষুদ্র মানুষকে উপহার পাঠিয়েছেন। এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে।’

একজন সাধারণ মানুষের নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তারা বলছেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিক অনুভূতির এমন মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশ এর আরও খবর