img

বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে

প্রকাশিত :  ০৬:০৬, ১১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৩, ১১ জুন ২০২৬

বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে

সরকার কোনো প্রশ্ন করা ছাড়াই সুনির্দিষ্ট খাতে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ দিতে যাচ্ছে। বিশেষ করে আবাসন খাতে জমি, বিল্ডিং বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের চেয়ে প্রকৃত মূল্য বেশি হলে স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘোষণা দিলে অপ্রদর্শিত অতিরিক্ত অর্থ নিয়মিত কর দিয়ে বৈধ করা যাবে। 

ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের ক্ষেত্রেই এই সুবিধা থাকবে। 

অর্থমন্ত্রী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমন সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রাখতে যাচ্ছেন । এ জন্য অর্থবিলে আলাদা একটি ধারা সংযুক্ত হতে যাচ্ছে। 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ধারাটি যুক্ত করার প্রস্তাব পাস হলে কোনো করদাতার জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার প্রকৃত মূল্য দলিল মূল্যের চেয়ে বেশি হলে তিনি ওই অপ্রদর্শিত অর্থের ওপর ব্যক্তি শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য নিয়মিত করহারে আয়কর পরিশোধ করতে পারবেন। অর্থ আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি স্বপ্রণোদিত হয়ে এই কর পরিশোধ করলে সে বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।

জানা গেছে, যদি অর্থ আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তির এ ধরনের বিষয়ে কোনো কার্যক্রম ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়ে থাকে তাহলে অতিরিক্ত ক্রয় বা বিক্রয়মূল্যের ওপর প্রযোজ্য করের সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য আদালতে আগে থেকেই দোষী প্রমাণিত হওয়া কোনো ব্যক্তি এই ধরনের সুবিধা পাবেন না।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করার সুযোগ দিলে টাকা পাচার কমে আসবে। অচল মূলধন অর্থনীতির মূলধারায় ফিরবে। ফলে স্থবিরতা কাটবে বেসরকারি বিনিয়োগে।

এ বিষয়ে আবাসন খাতের সংগঠন রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, রিহ্যাবের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সময়োপযোগী। অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাতে যে বিপুল পরিমাণ অপ্রদর্শিত বা অলস অর্থ জমে আছে, সেগুলোকে উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত করার বাস্তব সুযোগ তৈরি করা জরুরি। আবাসন শিল্প এমন একটি খাত, যেখানে বিনিয়োগ দ্রুত অর্থনৈতিক চক্রে ফিরে এসে নির্মাণ শিল্প, ইস্পাত, সিমেন্ট, সিরামিক, পরিবহনসহ অসংখ্য লিংকেজ শিল্পকে সক্রিয় করে তোলে।

তিনি বলেন, সরকার যদি স্বচ্ছ নীতিমালার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়, তাহলে তা একদিকে যেমন রিয়েল এস্টেট বাজার গতিশীল হবে, অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে আবাসন সংকট মোকাবিলা, নগর উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় বলে মনে করেন আলী আফজাল। তাঁর মতে, দীর্ঘ মেয়াদে এমন করব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে করহার যৌক্তিক হবে, কর প্রদান সহজ হবে এবং মানুষ স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত হবে। করের বোঝা অতিরিক্ত হলে মানুষ কর ফাঁকির পথ খোঁজে, কিন্তু করহার যৌক্তিক হলে রাজস্ব আদায়ও বাড়ে এবং অপ্রদর্শিত অর্থ সৃষ্টির প্রবণতাও কমে।

তবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়াকে অসাংবিধানিক, দুর্নীতি সহায়ক ও বৈষম্যমূলক বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। জানতে চাইলে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান  বলেন, এমন সুযোগ দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে আইনগত সুরক্ষা দেওয়া ও বিচারহীনতার শামিল। তিনি বলেন, আবাসন খাতে ব্যবসায় স্থবিরতা দূর, শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার অজুহাতে এ জাতীয় দুর্নীতি সহায়ক সুযোগ দেওয়া সরকারের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। এমন সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করার সমান মন্তব্য তিনি এই সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার আহ্বান জানান। 

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ  বলেন, যদি এই সুযোগ দিতেই হয়, তবে দুর্নীতি বা অন্যায়ের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থকে কোনোভাবেই সাদা করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু যারা নানা কারণে রিটার্নে তার অর্থ দেখাতে পারেননি, তাদের এই সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ, বৈধ পথে উপার্জিত কিন্তু কর ফাঁকি দেওয়া অর্থকে নিয়মিত করের চেয়ে কিছুটা বেশি হারে কর ও জরিমানা দিয়ে সাদা করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, আবাসন বা স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে কালো টাকা রোধ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মৌজা রেট বা সরকারি নির্ধারিত মূল্যকে বাজারমূল্যের কাছাকাছি নিয়ে আসা। এর জন্য বাজারভিত্তিক একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা তৈরি করে সময় সময় তা হালনাগাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।


 


img

বাস ভাড়া: সিদ্ধান্ত ১৭ পয়সা, বাস্তবে দ্বিগুণ

প্রকাশিত :  ০৭:২৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে নন-এসি বাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হলেও প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে তা জারির আগেই বেড়েছে বাস ভাড়া। 

ঢাকার বাসে পাঁচ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসে ভাড়া ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হয় গতকাল। এসি বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। তবে সেগুলোতেও আগের তুলনায় বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে।  

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পরিবহন মালিক এবং অন্যান্য অংশীজনের বৈঠক থেকে গত সোমবার দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা এবং ঢাকা-চট্টগ্রামের নগর পরিবহনের বাসে ১৮ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। গতকাল সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে ১৭ পয়সা ভাড়ার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, ২০ পয়সা প্রস্তাবের পরও  ১৭ পয়সা বৃদ্ধি যৌক্তিক ভাড়ার চেয়ে কম। 

মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি হলো ডিজেলের দাম এক টাকা বাড়লে বাসের ভাড়া এক পয়সা বৃদ্ধি পাবে। এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধির পর ভাড়া ১৫ পয়সা বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবি ছিল। ডলারের দাম বৃদ্ধিতে বাসের রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশের ব্যয় বেড়েছে। মালিকদের এ দাবির পরও পরিস্থিতি বিবেচনায় ১১ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটা সরকারের সফলতা। 

রবিউল আলম বলেন, ডিজেলের দাম ২০ টাকা বৃদ্ধিতে ২০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির কথা ছিল। কিন্তু পরিবহন মালিকদের বুঝিয়ে ১৭ পয়সায় রাজি করা হয়েছে। যে কোনো ভাড়া বৃদ্ধিই জনগণের জন্য চাপ। তবে সরকার যৌক্তিক ভাড়ার চেয়েও কম বৃদ্ধিতে সফল হয়েছে।  

১৭ পয়সা বৃদ্ধিতে দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসের ভাড়া কিলোমিটারে দুই টাকা ২৩ পয়সা থেকে হবে দুই টাকা ৪০ পয়সা। নগর পরিবহনের বাসের ভাড়া দুই টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে হবে দুই টাকা ৭০ পয়সা। এই বাড়তি ভাড়া শুধু ডিজেলচালিত সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সরকার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে না। ট্রাক-কাভার্ডভ্যানসহ পণ্যবাহী অন্য যানবাহনের ভাড়াও সরকার ঠিক করে না। ফলে পণ্যবাহী যানবাহন ও এসি বাসের ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়ার হার কার্যকর হবে না।

দূরপাল্লায় ৫২ আসন ধরে বাস ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও অধিকাংশ বাসই ৪০ আসনের। আরামদায়ক যাত্রার জন্য অনেক বাসে আসন সংখ্যা ৩২ থেকে ৩৬। আসন কমলে ভাড়া বৃদ্ধি পায়। ফলে দূরপাল্লার ৪০ আসনের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া দুই টাকা ৯০ পয়সা থেকে তিন টাকা ১২ পয়সা হবে। ৫২ আসনের বাসে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি পেলেও ৪০ আসনের বাসে তা বাড়বে ২২ পয়সা। 

দূরপাল্লার পথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ২৪৮ কিলোমিটার। ফলে ৪০ আসনের বাসে ভাড়া বৃদ্ধি পাবে ৫৫ টাকা। ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে বর্তমান ভাড়া ৩৩৫ টাকা। যা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৩৬০ টাকা। দূরত্ব হিসাবে অন্যান্য রুটেও ভাড়া বাড়বে। এর সঙ্গে যোগ হবে সেতুর টোল, ফেরি পারাপারের খরচ। 

রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসে গত সোমবার থেকেই বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু করে দিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। কোথাও কোথাও ১০০ টাকা কিংবা তারও বেশি ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-বরিশাল রুটে ১০০ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ ১৮১ কিলোমিটার দূরত্ব হিসাবে ভাড়া বাড়তে পারে ৪০ টাকা। 

রোববার রাতে ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে সরকার। এর আগে গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার ঢাকার বিভিন্ন পথে দেখা যায় বাস ভাড়া বেড়েছে। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মতিঝিলের দূরত্ব ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এই রুটে বর্তমান ভাড়া ২৪ টাকা। আগেও নেওয়া হতো ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর ৩৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে সিটি, রজনীগন্ধাসহ এই রুটের বাসগুলো। অথচ ১৭ পয়সা বৃদ্ধি পেলেও ভাড়া হবে ২৬ টাকা। নতুন তালিকা না থাকায় যাত্রীরা বুঝতে পারছে না প্রকৃত ভাড়া কত। 

সিটি পরিবহনের চালকের সহকারী নজরুল ইসলাম বলেছেন, মালিক ঠিক করে দিয়েছেন প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত ৩৫ টাকা করে নিতে হবে। ডিজেলের যে দাম হয়েছে, এর কমে পোষাবে না। 

বাসটির যাত্রী আকবর হোসেন বলেন, আসা-যাওয়ায় ১০ টাকা বাড়তি দিলে দিনে ২০ টাকা বেশি। মাসে ২৫ দিনে ৫০০ টাকা লাগবে। আয় তো বাড়েনি। এই বাড়তি খরচটা কী করে জোগাব। 

তবে কিছু কিছু বাস এখনও এপ্রিল মাসের নির্ধারিত ভাড়ায় চলছে। তারা নতুন ভাড়ার তালিকার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে এসব বাসের চালকরা বলছেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে লোকসান হচ্ছে। 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আন্তঃজেলা মিনিবাসে ভাড়া বেড়েছে। অন্যদিকে মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল রুটে আগের ভাড়া বহাল রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। দুই পরিবহনে একই দূরত্বে ভাড়ার তারতম্য হওয়ায় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের বাগ্‌বিতণ্ডা চলছে। 

সিলেট-মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল রুটে চলাচল করা এসএমএস পরিবহনের মিনিবাসে গতকাল থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হয়, যা আগে ছিল ১৭০ টাকা। শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজারের ভাড়া ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। মালিক সমিতির প্যাডে লেখা সিদ্ধান্ত দেখিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। 

এসএমএস পরিবহনের সচিব আব্দুর রব জানান, এপ্রিলে ভাড়া বৃদ্ধির পরও তা কার্যকর করা হয়নি। কিন্তু এবার আর পারা যাচ্ছে না। 

মৌলভীবাজার মিনিবাস মালিক সমিতির চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই ভাড়া বৃদ্ধি করতে হয়েছে প্রজ্ঞাপন জারির আগেই। 

নাটোর সংবাদদাতা জানান, ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে যাত্রীদের। নাটোর শহরের মাদ্রাসা মোড় ও  হরিশপুর বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজশাহী থেকে যে কোনো আন্তঃজেলা বাসে ভাড়া ছিল ৭০ টাকা। সোমবার থেকে তা ১০০ টাকা হয়ে গেছে। রাজশাহী থেকে আসা যাত্রী শহিদুল ইসলামও একই কথা জানান। তিনি বলেন, ৩০ টাকা বাড়তি দিতে রাজি না হলে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন সুপারভাইজার। 

বগুড়া জেলার পণ্য ব্যবসায়ী দোলন আলী বলেন, ‘প্রতি মাসে নাটোর থেকে ভ্যারাইটি স্টোরের পণ্য কিনে বাসে করে বগুড়া যাই। তখন ৮-১০ কার্টনের জন্য ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দিতো হতো। এবার ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা দিতে হচ্ছে।’ 

বাস কাউন্টার মাস্টার বিলাস বলেন, নাটোর থেকে রাজশাহীর ভাড়া ১০০ টাকা। এতদিন কম রাখা হতো। এখন আর পারা যাচ্ছে না। 



অর্থনীতি এর আরও খবর