img

পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে মুক্ত হচ্ছেন আ.লীগ নেতারা

প্রকাশিত :  ০৭:০৯, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে মুক্ত হচ্ছেন আ.লীগ নেতারা

চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলন চলাকালে হত্যা ও বিভিন্ন অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ জামিনে মুক্ত হয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ৬৪টি মামলায় দলটির ১ হাজার ৪৫৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হলেও সোমবার পর্যন্ত জামিনে বের হয়েছেন ১ হাজার ১০০ জন। অভিযোগ রয়েছে, কারা কর্তৃপক্ষ ও থানা পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে অনেকে মুক্তি পেয়েছেন। জামিনে বের হওয়াদের কেউ কেউ বাসাবাড়িতে থাকলেও অধিকাংশই পলাতক রয়েছেন এবং গোপনে সংঘবদ্ধ হচ্ছেন বলে জানা গেছে। চট্টগ্রামের অন্তত ২০ নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ শাখা সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ১৬টি থানার মধ্যে ৮টিতে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় ৬৪টি মামলা হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলা রয়েছে ১৪টি। সবচেয়ে বেশি ১৮টি মামলা হয় কোতোয়ালি থানায়। এসব মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ৩ হাজার ১৪৭ জন। অজ্ঞাত আসামি ৫ হাজার ৯১১ জন। সোমবার পর্যন্ত এগুলোয় গ্রেফতার হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ১০০ জন জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৬ মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানার ১টি, সদরঘাট থানার ২টি, চান্দগাঁও থানার ১টি (হত্যা মামলা) ও খুলশী থানার ২টি মামলা রয়েছে। এছাড়া ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় খুলশী থানার ১টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাকি তদন্তাধীন ৫৭ মামলায় আসামি অন্তর্ভুক্ত এবং বাদ দেওয়া নিয়ে প্রতিনিয়ত গ্রেফতার বাণিজ্য চলছে। আবার এজাহারভুক্ত অনেক আসামি পুলিশকে ম্যানেজ করেই এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। নতুন নতুন মামলায়ও নিরীহ লোকজনকে ফাঁসানো হচ্ছে।

জামিনে যারা মুক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বায়েজিদ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল নবী লেদু ওরফে লেদু হাজী, অর্থ সম্পাদক রফিক উদ্দিন কালু, চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক কায়সার হামিদ, বাকলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ আফসার, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম, ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদুল আজম শাকিল, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আবু সায়েদ মিন্টু, চকবাজার কাপাশগোলা ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী সেলিম, যুবলীগ নেতা হাসানুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আব্দুল হাকিম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খোরশেদ আলম বাসেত, চান্দগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জয়নাল উদ্দিন জাহেদ প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, তারা গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ৯টি মামলা হয়েছে। তবে অধিকাংশ মামলায় বাদীর সঙ্গে সমঝোতা করে শেষ করেছি।’

সম্প্রতি এক আওয়ামী লীগ নেতার কারামুক্তির বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী যুব মহিলা লীগ নেত্রী সোনিয়া আজাদ অকপটে বলেন, ‘এখন সবাই জানে, কে কীভাবে বের হচ্ছেন। আমার স্বামীর বিষয়টা হ্যান্ডল করেছি বলে আমি জানি, কীভাবে কী করতে হয়।’

সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ যুগান্তরকে বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যেমন গ্রেফতার করা হচ্ছে, তেমনই আদালতের নির্দেশে তারা কারামুক্তও হচ্ছেন। তবে যারা জামিনে রয়েছেন, সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ তাদের নজরদারিতে রেখেছেন।’

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ যুগান্তরকে বলেন, আসামিদের জামিননামা এলে আমরা সিটিএসবি ও ডিএসবিকে (নগর ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ) জানাই। ওই আসামির আর কোনো মামলা থাকলে পুলিশ শ্যোন অ্যারেস্ট দেখায়, না হলে ক্লিয়ারেন্স দিলে মুক্তি দেওয়া হয়। এখানে কারাগারের কোনো ভূমিকা নেই।



জাতীয় এর আরও খবর

img

বঙ্গোপসাগরে মায়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জন জেলেকে ফেরত আনলো বিজিবি

প্রকাশিত :  ১১:৩৯, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উদ্যোগ ও মানবিক তৎপরতায় মায়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

আজ ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্যলাইন এলাকায় আরাকান আর্মির নিকট থেকে ২৪ জন বাংলাদেশি জেলেকে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তাদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়। দেশে ফিরিয়ে আনা জেলেদের পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে চলমান রয়েছে। পরিচয় নিশ্চিতকরণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে এসব জেলেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মায়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাদেরকে মায়ানমারের আরাকান আর্মি আটক করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আটক জেলেদের মায়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আটক রাখা হয়। আটক জেলেদের পরিবারের উদ্বেগ ও মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে বিজিবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় আটক জেলেদের ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়।

বিজিবির এ মানবিক উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা জেলেদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আটক জেলেদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক অগ্রগতি। অবশিষ্ট আটক জেলেদেরও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, \"বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক\"—বিজিবি মহাপরিচালকের এই ভিশন বাস্তবায়নে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বিজিবির এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি