প্রকাশিত :
১৩:২৯, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩১, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচি-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরীর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচি-২০২৬’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এতে ঢাকা মহানগরীর স্কুল ও কলেজগুলোর সংযুক্ত তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব পাঠ্যবই আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই সরবরাহ সম্পন্ন হলে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে বই ছাপার কাজে অগ্রগতি থাকলেও অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই মুদ্রণে পিছিয়ে রয়েছে বেশ কিছু ছাপাখানা।
এনসিটিবির ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে বই ছাপার অগ্রগতি ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে গড়ে ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ বই ছাপা হয়েছে।
এবার ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ৬২৩টি লটে বই ছাপার কাজ পেয়েছে।
প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি এবং মাধ্যমিক স্তরে মোট ৩০ কোটি ৭৭ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার এক মাস আগে মুদ্রণকাজ শুরু হয়েছে।
এনসিটিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি ছাপা হয়েছে। অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ।
প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি, যা মোট বইয়ের ৮৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
ইবতেদায়ি স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি। অগ্রগতি ৬৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি, যা ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার গতি তুলনামূলক কম।
কয়েকটি লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কাজের গতি কম থাকায় ৩২টি প্রেসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পিছিয়ে থাকা প্রেসের কাজ বাতিল করে অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে।
বইয়ের মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ৫৩টি মনিটরিং টিম কাজ করছে। নিম্নমানের বই ও ফর্মা বাতিল করা হচ্ছে। এনসিটিবির তথ্যমতে, বিভিন্ন প্রেসের ৯ লাখ ফর্মা ও ১২ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল করা হয়েছে।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, রোডম্যাপ অনুযায়ী বই সরবরাহের কাজ চলছে। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের মুদ্রণকাজ চলতি মাসের মধ্যে ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাধ্যমিক স্তরের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ে নিম্নমানের বই সরবরাহ বরদাশত করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।