img

ঢাবিতে ৭ শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় প্রক্টর অফিস ঘেরাও, পাঁচ দফা দাবি

প্রকাশিত :  ১০:২৯, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ঢাবিতে ৭ শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় প্রক্টর অফিস ঘেরাও, পাঁচ দফা দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে গাড়িচাপায় সাত শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রক্টর অফিস ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রক্টরকে অফিসে না পাওয়া এবং একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা দায়েরের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেনি। এ কারণে তারা পুনরায় প্রক্টর অফিসে গিয়ে অবস্থান নেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হন। গাড়িটির চালক হিসেবে অভিযুক্ত সাদমান সাকিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশনের শিক্ষার্থী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শহিদুল ইসলামের ছেলে।

আহত শিক্ষার্থীদের সহপাঠী জোনায়েদ অভিযোগ করেন, ঘটনার পর প্রক্টর অভিযুক্তের বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল আমার বিভাগের ছয়জন শিক্ষার্থীর ওপর গাড়ি চাপা দেওয়ার পরও প্রক্টর বলতেছেন, সে ভুলবশত অন্যায় করেছে। আমরা তাৎক্ষণিক বিচারের দাবিতে গেলে প্রক্টর বলেছিলেন, ও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করতাম। কিন্তু পরবর্তীকালে যখন জানতে পারেন, ও এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী, তখনই উনি সুর পাল্টে ফেলেন এবং বলেন, তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জোনায়েদ আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাইলেও প্রশাসনিক নীতিমালার কথা বলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রক্টর অফিসে আন্দোলনের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর নিয়ে তারা প্রশাসনের সঙ্গে থানায় যান। তবে সেখানে শিক্ষার্থীদের বাইরে রেখে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

জোনায়েদ বলেন, ‘আমরা সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের এই কর্মসূচি দিয়েছি। কিন্তু দেখেন, এখনো প্রক্টরের কোনো খোঁজ নেই। কল দিলেও রিসিভ করেন না। আমরা শিক্ষার্থীরা বলতে চাই, আপনি যদি আপনার দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, আপনি পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ, আমরা কোনো নেগোসিয়েশন চাই না, আমরা চাই সঠিক বিচার।’

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করা; ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রকাশ; সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক বিচার; মামলা দায়ের ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ যানবাহন চলাচলে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টর বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের চিকিৎসার খরচসহ যাবতীয় দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধীর বিচার নিশ্চিত হবে।’

প্রক্টরের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে প্রক্টর অফিসে আসতে পারেননি। তবে বিকেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনায় আহত সাত শিক্ষার্থী হলেন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মার্কেটিং বিভাগের জাহিদুল ইসলাম হৃদয়, কানিজ ফাতেমা, তাসনিয়া বেগম তাহা, মিফতাহুল, তাসফিয়া তাবাসসুম ও সিদরাতুল মুনতাহা। এ ছাড়া ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়াও আহত হয়েছেন।


শিক্ষা এর আরও খবর

img

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ‘ভর্তি অফার’ বাতিল করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো!

প্রকাশিত :  ১০:৫০, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৫, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ‘ভর্তি অফার’ বাতিলের হার বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ভর্তি অফার পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসার আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ার পর এখন ভর্তি অফারও বাতিল হচ্ছে।

চলতি বছরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাহারের হার পৌঁছেছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে; গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল মাত্র ৭ দশমিক ১ শতাংশ। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও একই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

যুক্তরাজ্য সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারিশ করা মোট বিদেশি শিক্ষার্থীর ৫ শতাংশের বেশি ভিসার আবেদন প্রত্যাহার করা হলে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আগে এ ক্ষেত্রে সীমা ছিল ১০ শতাংশ। মূলত স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার রোধ করার জন্যই এ নিয়ম করা হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাজ্য। নতুন নিয়ম ভাঙলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভবিষ্যতে আর কোনও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি পাবে না বলেও জানায় যুক্তরাজ্য প্রশাসন।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০.৯ শতাংশে। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আবেদন প্রত্যাহারের হার ১.২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.২ শতাংশ।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ১০.৫ শতাংশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ২.৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ছিল ০.৪ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ডেটা বিশ্লেষণ করে ফাইনান্সিয়াল টাইমস জানায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০.৯ শতাংশে; গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৭.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ১.২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.২ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্য সরকারের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তারা আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেক ভর্তির অফার বাতিল করছে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার বা ভর্তির অনুমতি পাওয়ার পরেই স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত বা কমানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:

• University of Chester (চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়)

• University of Wolverhampton (উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়)

• University of East London (ইস্ট লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়)

• London Metropolitan University (লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়)

• University of Sunderland (সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়)

• Coventry University (কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়)

• University of Hertfordshire (হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়)

• Oxford Brookes University (অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয় — বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি আবেদনকারীদের স্পনসরশিপ স্থগিত করেছে)

• Glasgow Caledonian University (গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়)

• BPP University (বিপিপি ইউনিভার্সিটি)

ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার উপ-উপাচার্য অধ্যাপক স্টিভেন ম্যাকগুয়ার বলেন, ‘এই নীতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চীন ও ভারতের শিক্ষার্থীদের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। কারণ এসব দেশের ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার তুলনামূলক কম।’

ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ডের উপাচার্য অধ্যাপক জেমস মিলার বলেন, ‘কিছু ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তের পেছনে অত্যন্ত দুর্বল ও অযৌক্তিক যুক্তি দেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষা এর আরও খবর