img

প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ

প্রকাশিত :  ০৫:৩৮, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব পাঠ্যবই আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই সরবরাহ সম্পন্ন হলে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

তবে বই ছাপার কাজে অগ্রগতি থাকলেও অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই মুদ্রণে পিছিয়ে রয়েছে বেশ কিছু ছাপাখানা।

এনসিটিবির ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে বই ছাপার অগ্রগতি ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে গড়ে ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ বই ছাপা হয়েছে।

এবার ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ৬২৩টি লটে বই ছাপার কাজ পেয়েছে।

প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি এবং মাধ্যমিক স্তরে মোট ৩০ কোটি ৭৭ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার এক মাস আগে মুদ্রণকাজ শুরু হয়েছে।

এনসিটিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি ছাপা হয়েছে। অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ।

প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি, যা মোট বইয়ের ৮৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

ইবতেদায়ি স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি। অগ্রগতি ৬৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।

অন্যদিকে মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি, যা ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার গতি তুলনামূলক কম।

কয়েকটি লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কাজের গতি কম থাকায় ৩২টি প্রেসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পিছিয়ে থাকা প্রেসের কাজ বাতিল করে অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে।

বইয়ের মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ৫৩টি মনিটরিং টিম কাজ করছে। নিম্নমানের বই ও ফর্মা বাতিল করা হচ্ছে। এনসিটিবির তথ্যমতে, বিভিন্ন প্রেসের ৯ লাখ ফর্মা ও ১২ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল করা হয়েছে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, রোডম্যাপ অনুযায়ী বই সরবরাহের কাজ চলছে। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের মুদ্রণকাজ চলতি মাসের মধ্যে ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাধ্যমিক স্তরের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ে নিম্নমানের বই সরবরাহ বরদাশত করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষা এর আরও খবর

img

সংশোধন হচ্ছে দাঁড়িপাল্লার ছবি থাকা ৩৮ লাখ বই

প্রকাশিত :  ০৫:২৩, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ৩৮ লাখ বইয়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে । এর মধ্যে ১৮ লাখ বই ইতিমধ্যে স্কুল পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে।

বাকি ২০ লাখ বইয়ের ছাপার কাজ চলছে। সরবরাহ করা বই ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে নতুন করে সংশোধিত পৃষ্ঠা যুক্ত করা হবে।

তবে প্রাথমিকের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ব্যবহার করা ৮২টি নৌকার ছবি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এ বছর আর সংশোধনের সুযোগ নেই। এসব বইয়ের ছাপার কাজ প্রায় শেষ।

এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে।

পাঠ্যবই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এ ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি নৌকার ছবি রয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নৌকার ছবি প্রাসঙ্গিক হলেও বিভিন্ন পাঠের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও একাধিক জায়গায় এসব ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ‘উপাত্ত ও তথ্য’ আলোচনায় ‘নলেজ পিরামিড’ বা জ্ঞানের পিরামিডে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

অথচ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে একই ধারণা বোঝাতে ‘বুদ্ধি’ শব্দের সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালের বইয়েও ‘উইজডম’ বা প্রজ্ঞা বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক ছিল।

এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দার বলেন, প্রাথমিকের বইয়ে ব্যবহৃত ছবিগুলো বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিলিয়ে শিল্পীরা এঁকেছেন। কনটেন্ট পরিবর্তন না হলে ছবি পরিবর্তন করা কঠিন। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বড় পরিবর্তন আনা হবে।

দাঁড়িপাল্লার ছবি থাকা আইসিটি বইয়ের পৃষ্ঠা সংশোধনের বিষয়ে এনসিটিবি জানিয়েছে, উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো বই ঢাকায় ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা পরিবর্তন করা হবে।

শিক্ষা এর আরও খবর