img

ঈশ্বরদীতে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে ধর্ষণ, ২ জনের লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ০৬:৫২, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:১৭, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঈশ্বরদীতে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে ধর্ষণ, ২ জনের লাশ উদ্ধার

পাবনার ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে দাদিতে হত্যা করে নাতনিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পৃথক জায়গা থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। 

এর আগে দিবাগত মধ্যরাতের কোনো এক সময় উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া এ ঘটনা ঘটে।
‎নিহতরা হলেন, ভবানিপুর উত্তরপাড়ার জয়নাল খার মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও মেয়ে জামিলা আক্তার (১৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ওসি মো. মমিনুজ্জামান।
জানা গেছে, মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হন স্থানীয়রা। পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে তারা বাড়িতে চলে যান। আজ শনিবার সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। জামিলাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বিবস্ত্র অবস্থায় সরিষার ক্ষেতে তার লাশ পাওয়া যায়। ঘটনার সময় মেয়েটির বাবা ঢাকায় আরেক মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছিলেন। 
‎‎সোহেল রানা নামের এক নিকট আত্মীয় জানান, গতকাল রাতে ওই মেয়েকে ধর্ষণ করতে আসে। কিন্তু দাদি টের পেয়ে যাওয়াতে দাদিকে হত্যা করে। পরে মেয়েকে অপহরণ করে সরিষা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। কে বা কারা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জামেলাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এমন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু ভবানীপুর গ্রাম নয়, পুরো অঞ্চলের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। নিরপরাধ এক তরুণী ও তার বৃদ্ধ দাদির নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি এখন সবার মুখে মুখে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

জাতীয় এর আরও খবর

img

মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১১:১১, ২৭ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের জনগণ তাদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের ওপর অর্পণ করেছে। মালয়েশিয়া ও চীন সফরে আমি বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরেছি এবং সেগুলো সংরক্ষণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। এ সফরে যদি ভালো কিছু অর্জিত হয়ে থাকে, তবে সেটি বাংলাদেশের অর্জন। এটি দেশের মানুষের অর্জন।’

আজ শনিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন)-এর ১৬তম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য উত্থাপিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন।

সকাল ১১টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) সভাপতিত্ব করেন। গত ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীনে তার প্রথম সরকারি ছয় দিনের সফর সফলভাবে শেষ করেন।

জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফল রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য তাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, “যে কারণে সংসদের পক্ষ থেকে আমাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে, সে জন্য আমি সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি সেটি হলো, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট বা বাংলাদেশ প্রথম’।”

প্রধানমন্ত্রী সংসদের সব সদস্যকে, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতাকেও ধন্যবাদ জানাই। তিনিও দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন।

এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে প্রস্তাবটি সংসদে বিস্তারিত আলোচনার পর কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সফরটিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন।

আলোচনায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৬ জুনের দুই দেশ সফরের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দেওয়ার আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেন, ‘আলোচনাগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।’

জাতীয় এর আরও খবর