img

শ্রীমঙ্গলে উদয়ন বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ উৎসব

প্রকাশিত :  ১২:০৩, ৩০ জুন ২০২৬

‘এক শিশু, এক গাছ’ কর্মসূচিতে র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ ও ২০০ চারা বিতরণ

শ্রীমঙ্গলে উদয়ন বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ উৎসব

সংগ্রাম দত্ত: দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবুজায়নের সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই সময়ে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভার্চুয়ালি কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির শুরুতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ (এক শিশু, এক গাছ) কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় দেশের ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসাসহ মোট ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ফলদ, বনজ ও ঔষধি—এই তিন ধরনের গাছ রোপণের পাশাপাশি জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অনুদানও দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রানী দাস, সহকারী প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল মালেক, সিনিয়র শিক্ষক রনেন্দ্র চক্রবর্তী ও মো. জসিম উদ্দিনসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান শিক্ষক কবিতা রানী দাস বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব দেশে পরিণত হবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবুজই হবে আমাদের পরিচয়।”


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলের সন্তান মুহাম্মদ আবদুল মুহিত যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার

প্রকাশিত :  ১২:০৫, ৩০ জুন ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কৃতিসন্তান জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিতকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রে এ তথ্য প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি লন্ডনে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

মুহাম্মদ আবদুল মুহিত বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসের ১১তম বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের কর্মকর্তা। ১৯৯৩ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার পর তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মজীবনে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি (রাষ্ট্রদূত) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শান্তিরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেন। ২০২৪ সালে তিনি জাতিসংঘের ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ ও ইউএনওপিএসের যৌথ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি এবং জাতিসংঘের পিসবিল্ডিং কমিশনের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে তিনি অস্ট্রিয়া ও ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। পাশাপাশি হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া, স্লোভাকিয়া, এস্তোনিয়া ও আইসল্যান্ডে সমবর্তী রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেন। এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসি, রোম, দোহা, কুয়েত ও নিউইয়র্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।

রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিতের জন্ম শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লামুয়া গ্রামে। তিনি শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, প্রয়াত মো. আব্দুল গফুরের সন্তান। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থেকে শ্রীমঙ্গলের শিক্ষা অঙ্গনে একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তিনি কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষায় ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী রুবি পারভীন। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে তাঁর নিয়োগের খবরে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষাবিদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা এ নিয়োগকে জেলার জন্য গর্বের বলে উল্লেখ করে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অসংখ্য বার্তা প্রকাশিত হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দক্ষতার কারণে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ ও দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর