শ্রীমঙ্গলে তিন দিনে দুটি অজগর ও একটি শঙ্খিনী উদ্ধার, লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর আনাগোনায় উদ্বেগ
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় গত তিন দিনে লোকালয়ের তিনটি পৃথক স্থান থেকে দুটি অজগর ও একটি অত্যন্ত বিষধর শঙ্খিনী (ব্যান্ডেড ক্রেইট) সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সাপগুলো অক্ষত অবস্থায় শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের মতে, চা-বাগান, পাহাড়, হাওর ও লেকবেষ্টিত এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং জনবসতি ক্রমাগত সম্প্রসারণের কারণে বন্যপ্রাণীরা প্রায়ই খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে।
গত রোববার (২১ জুন) দুপুরে উপজেলার বরুণা হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন আওয়াল মিয়ার বাড়ির পুকুরে মাছ ধরার সময় জালে একটি বড় সাপ আটকা পড়ে। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটিকে অজগর হিসেবে শনাক্ত করেন এবং উদ্ধার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ওই এলাকায় হাঁস, কবুতরসহ কিছু গৃহপালিত প্রাণী নিখোঁজ হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে শিয়াল বা বনবিড়ালকে দায়ী করা হলেও অজগর উদ্ধারের পর ধারণা করা হচ্ছে, এসব ঘটনার সঙ্গে সাপটির সম্পর্ক থাকতে পারে।
এর আগে শনিবার (২০ জুন) কাকিয়াবাজার এলাকায় ফসলি জমিতে মাছ ধরার সময় আরেকটি অজগর দেখতে পান স্থানীয় তপু দেবনাথ। পরে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সঞ্জিত দেব ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ সেটি উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
এরও আগে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলাকালে শ্রমিকেরা একটি সাপ দেখতে পান। আতঙ্কে তারা সরে দাঁড়ালে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা গিয়ে সেটিকে শঙ্খিনী বা ব্যান্ডেড ক্রেইট হিসেবে শনাক্ত করেন। অত্যন্ত বিষধর এই প্রজাতির সাপটি পরে নিরাপদে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে দেওয়া হয়।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, শ্রীমঙ্গল ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা—চা-বাগান, বনাঞ্চল, টিলা ও ঝোপঝাড়ে ঘেরা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বনভূমি দখল, রিসোর্ট নির্মাণ ও অনিয়ন্ত্রিত বসতি সম্প্রসারণের কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হচ্ছে, আবার কখনো মানুষের হাতে ধরা পড়ছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের দাবি, গত দুই দশকে তারা দুই হাজারেরও বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো পরবর্তীতে বন বিভাগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়।
সংরক্ষণকর্মীরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, লোকালয়ে বন্যপ্রাণী দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বা আঘাত না করে দ্রুত বন বিভাগ বা উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া উচিত। এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণী—উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।



















