img

ভলান্টিয়ার্স’ উইক উদযাপন: স্বেচ্ছাসেবীদের অবদানে টাওয়ার হ্যামলেটসে গড়ে উঠছে শক্তিশালী কমিউনিটি

প্রকাশিত :  ১৭:১০, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:১৯, ১২ জুন ২০২৬

ভলান্টিয়ার্স’ উইক উদযাপন: স্বেচ্ছাসেবীদের অবদানে টাওয়ার হ্যামলেটসে গড়ে উঠছে শক্তিশালী কমিউনিটি
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ১ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত পালিত ভলান্টিয়ার্স’ উইক উপলক্ষে স্থানীয় কমিউনিটিকে সহায়তা করা হাজারো স্বেচ্ছাসেবীর অবদানকে সম্মান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আরও বেশি মানুষকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমানে ভলান্টিয়ার সেন্টার টাওয়ার হ্যামলেটস (VCTH) ৭০টিরও বেশি স্বেচ্ছাসেবার সুযোগ প্রদান করছে, যেখানে সব বয়স, আগ্রহ এবং অভিজ্ঞতার মানুষের জন্য বিভিন্ন ভূমিকা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই এবং কাজ, পড়াশোনা বা পরিচর্যার দায়িত্বের সঙ্গে সহজেই সামঞ্জস্য রেখে এসব কাজে অংশ নেওয়া সম্ভব।

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুতফুর রহমান বলেন, “স্বেচ্ছাসেবার প্রতিটি ছোট কাজই একটি শক্তিশালী ও সহানুভূতিশীল টাওয়ার হ্যামলেটস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা দেখিয়ে দিচ্ছেন, একসঙ্গে কাজ করলে কী সম্ভব। আমি তাদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইউম তালুকদার সম্প্রতি হোয়াইটচ্যাপেল আইডিয়া স্টোর পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।

আইডিয়া স্টোরে প্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণদের জন্য (ডিউক অব এডিনবরা অ্যাওয়ার্ডসহ) বিভিন্ন ধরনের স্বেচ্ছাসেবার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক “গেট অনলাইন” ডিজিটাল সহায়তা সেশন পরিচালনা, শিশুদের কার্যক্রমে সহায়তা, শীতকালীন ওয়ার্ম হাব সাপোর্ট এবং আর্কাইভিং কাজ।
আইডিয়া স্টোরে স্বেচ্ছাসেবক হতে হলে আবেদনকারীর টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাস বা কর্মরত হওয়া, স্থানীয় কোনো স্কুলে অধ্যয়ন করা বা আইডিয়া স্টোর লার্নিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রয়োজন।

কাউন্সিলর তালুকদার বলেন, “স্বেচ্ছাসেবা দক্ষতা অর্জন, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি শক্তিশালী উপায়। একই সঙ্গে এটি প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করে। স্বেচ্ছাসেবীদের এই নিষ্ঠা টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষের জীবনে বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনে।”

ভলান্টিয়ার সেন্টার টাওয়ার হ্যামলেটস স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কমিউনিটি সংস্থার সঙ্গে তাদের যুক্ত করে।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ক্যাথরিন ব্যাভেজ বলেন, “প্রতি বছর টাওয়ার হ্যামলেটসের হাজারো বাসিন্দা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশ নেন। তারা স্থানীয় চ্যারিটি ও কমিউনিটি গ্রুপগুলোকে সহায়তা করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করেন।"
তিনি বলেন, "ভলান্টিয়ার্স’ উইক হলো তাদের এই অসাধারণ অবদানকে ধন্যবাদ জানানোর সময়। স্বেচ্ছাসেবীদের সময়, দক্ষতা ও সহানুভূতি ছাড়া অনেক সেবাই থমকে যেত। আপনি একবার বা নিয়মিত যেভাবেই অংশ নিন না কেন, আমরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ।”

যারা এখনো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হননি, তাদের জন্য এটি প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময় বলে মনে করছে কাউন্সিল।

আগ্রহী বাসিন্দারা বর্তমান সুযোগগুলো সম্পর্কে জানতে ভিজিট করতে পারেন:
www.vcth.org.uk/volunteering-in-tower-hamlets/
www.ideastore.co.uk/our-services/volunteering

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশিত :  ১৭:২৪, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৪, ১২ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান (২৬) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে পুশইন ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ওই বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয় বলে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি- বিকেলে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে। তার মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে আছে।’

এদিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি, যা ইতিবাচক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে (মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন) সীমান্ত পরিস্থিতি অবনতি হয়।

জুন মাসে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি হামলার ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ। এছাড়া বিএসএফের হাতে ১৪ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে গত মে মাসের শেষভাগ থেকে ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে ভারতে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর