img

হবিগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ‘ধর্ষণ’, হাসপাতালে মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৬:৩৫, ০২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৪১, ০২ জুন ২০২৬

 হবিগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ‘ধর্ষণ’, হাসপাতালে মৃত্যু

হবিগঞ্জে যৌন নির্যাতনের শিকার এক শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের পর শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল সোমবার (১ জুন) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত শিক্ষার্থী নদী দাস (১৬) আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর এলাকার অজিত দাসের মেয়ে। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি বানিয়াচং উপজেলার মশাকলি গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতেন। সম্প্রতি তিনি এসএসসি পরীক্ষা শেষ করেন। ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় আইনজীবী সহকারী দিলিপ দাসের সঙ্গে নদীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে হবিগঞ্জ শহরের ইসকন মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে নদী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ বিয়ে সম্পন্ন না করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।

নদীর দাদু নারায়ন দাস জানান, রবিবার (৩১ মে) সকালে পরিবারের অগোচরে আবারও নদীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান দিলিপ দাস। পরে রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের উপশহর বাণিজ্যিক এলাকায় সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১ জুন) ভোরে তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার নাক-মূখ রক্তাক্ত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল ইসলাম সরকার জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।’

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ধর্ষণ, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি-না, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশিত :  ১৭:২৪, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৪, ১২ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান (২৬) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে পুশইন ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ওই বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয় বলে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি- বিকেলে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে। তার মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে আছে।’

এদিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি, যা ইতিবাচক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে (মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন) সীমান্ত পরিস্থিতি অবনতি হয়।

জুন মাসে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি হামলার ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ। এছাড়া বিএসএফের হাতে ১৪ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে গত মে মাসের শেষভাগ থেকে ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে ভারতে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।