img

পঞ্চায়েত কমিটির সভা শেষে নবীগঞ্জে ‘আসামির’ বসতঘরে আগুন

প্রকাশিত :  ০৭:১০, ০২ জুন ২০২৬

 পঞ্চায়েত কমিটির সভা শেষে নবীগঞ্জে ‘আসামির’ বসতঘরে আগুন

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলাস্থ স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির সভা শেষে একজনের বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার মধ্যরাতে কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের পুরানগাঁও গ্রামে ওয়াহিদ মিয়ার বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া জানিয়েছেন।

ওয়াহিদ মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, রোববার রাতে পুরানগাঁও গ্রামের পঞ্চায়েত কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি ওয়াহিদ মিয়ার কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে আলোচনা হয়।

এক পর্যায়ে সভায় তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভা শেষে একদল গ্রামবাসী সংঘবদ্ধভাবে ওয়াহিদ মিয়ার বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এতে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওসি মোনায়েম মিয়া বলেন, “একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি ওয়াহিদ মিয়ার বসতঘরে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।”

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশিত :  ১৭:২৪, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৪, ১২ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান (২৬) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে পুশইন ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ওই বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয় বলে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি- বিকেলে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে। তার মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে আছে।’

এদিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি, যা ইতিবাচক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে (মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন) সীমান্ত পরিস্থিতি অবনতি হয়।

জুন মাসে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি হামলার ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ। এছাড়া বিএসএফের হাতে ১৪ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে গত মে মাসের শেষভাগ থেকে ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে ভারতে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর