img

প্রধানমন্ত্রী আসছেন, সেই আনন্দে লিখছি

প্রকাশিত :  ১৭:০৮, ১২ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী আসছেন, সেই আনন্দে লিখছি

আবদুল হামিদ মাহবুব

প্রধানমন্ত্রী আমার জেলায় আসছেন, সেই আনন্দে এই লেখা লিখছি। আমার জেলা মৌলভীবাজার।  জেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। কারণ প্রধানমন্ত্রী আসছেন। মানুষের মধ্যে কৌতূহল। আগ্রহ। প্রত্যাশা। নানা আলোচনা চলছে চা-স্টল থেকে শুরু করে বাজার, অফিস, আদালত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত। জানা গেছে, আগামী ১৭ জুন তিনি মৌলভীবাজারের রাজনগর ও শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এটি নিঃসন্দেহে জেলার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

তবে মানুষের আগ্রহ শুধু তাকে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি কীভাবে আসবেন, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়। সড়কপথে, রেলপথে নাকি আকাশপথে? এখনো সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি। তিনটি পথই তার জন্য উন্মুক্ত।

আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, তিনি যদি সড়কপথে আসেন, তাহলে সবচেয়ে ভালো হবে। কারণ সড়কপথে ভ্রমণ করলে তিনি এই অঞ্চলের বাস্তব চিত্র কাছ থেকে দেখতে পারবেন। দেশের একজন শীর্ষ নেতা হিসেবে বিভিন্ন সময় তাকে সড়কপথে সাধারণ মানুষের মাঝে যেতে দেখা গেছে। বাসে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। নির্বাচনের আগে যেমন করেছেন, পরেও করেছেন। তাই মৌলভীবাজার সফরেও যদি তিনি সড়কপথ বেছে নেন, তাহলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং সড়কের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে একটি বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারবেন।

যদি সড়কপথে না আসেন, তাহলে রেলপথও হতে পারে একটি ভালো বিকল্প। সিলেট অঞ্চলের রেলপথ দেশের অন্যতম পুরোনো রেল নেটওয়ার্কের অংশ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আজও অনেক স্থানে রেললাইন উন্নয়নের অপেক্ষায়। ট্রেনের গতি সীমিত। যাত্রীসেবা আরও উন্নত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি যদি ট্রেনে ভ্রমণ করেন, তাহলে রেলপথের নানা সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।

আকাশপথেও আসতে পারেন। হেলিকপ্টারে এলে উপর থেকে তিনি চা-বাগান, পাহাড়, হাওর এবং সবুজে ঘেরা এই সুন্দর অঞ্চল দেখতে পাবেন। কিন্তু আকাশ থেকে দেখা আর মাটির মানুষের বাস্তবতা অনুভব করা এক বিষয় নয়। সড়ক ও রেলপথে যে অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়, আকাশপথে তা সম্ভব নয়।

আর যদি বিমানে আসেন, তাহলে তাকে অবতরণ করতে হবে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এটি। কিন্তু এই বিমানবন্দর নিয়েও মানুষের নানা অভিযোগ রয়েছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, সেবার মান এবং পরিচালনাগত নানা সমস্যার কথা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। তিনি যদি বিমানবন্দরটি ঘুরে দেখেন, তাহলে এসব বিষয় সম্পর্কেও অবগত হতে পারবেন। হয়তো সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী যে পথেই আসুন না কেন, তার এই সফর মৌলভীবাজারবাসীর জন্য আনন্দের। কিন্তু এই আনন্দের সঙ্গে মানুষের কিছু প্রত্যাশাও জড়িয়ে আছে। কারণ রাষ্ট্রের প্রধান যখন কোনো অঞ্চলে আসেন, তখন তিনি চাইলে সেই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন। সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারেন। অনেক সময় একটি নির্দেশই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সূচনা করে।

সিলেট বিভাগের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কিছু মৌলিক সমস্যার সঙ্গে বসবাস করছে। সড়ক, রেল এবং বিমান যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। শুধু জাতীয় মহাসড়কের কথা বলছি না। উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং গ্রামীণ সড়কের অবস্থাও অনেক জায়গায় অত্যন্ত নাজুক।

আমি নিজেই এমন একটি এলাকায় বসবাস করি, যেখান থেকে শহরে যেতে হলে একটি ভাঙাচোরা সড়ক ব্যবহার করতে হয়। সড়কটির একাংশ পৌরসভার মধ্যে, আরেকাংশ ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে সড়কটি মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে আছে। বর্ষাকালে কাদা। শুকনো মৌসুমে ধুলো। খানাখন্দে ভরা পথ। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজন না হলে বাসা থেকে বের হতে ইচ্ছা করে না। শুধু আমার নয়, এমন বাস্তবতা এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের। কখনো কখনো মনে হয়, যদি দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব অন্তত একবার এই সড়ক দিয়ে যেতেন! যদি নিজের চোখে দেখতেন সাধারণ মানুষ কী কষ্ট করে চলাচল করে! তাহলে হয়তো পরিবর্তনের পথ আরও দ্রুত তৈরি হতো।

মৌলভীবাজারের মানুষের আরেকটি গর্বের নাম বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল। শুধু মৌলভীবাজার নয়, পুরো সিলেট অঞ্চলের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। হাজার হাজার মানুষ এখানে চিকিৎসা পেয়ে দৃষ্টি ফিরে পেয়েছেন। অসংখ্য পরিবার নতুন আলো দেখেছে।

এই হাসপাতালের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান, যিনি এম. এ. খান নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুর। আজও হাসপাতালের গায়ে স্থাপিত স্মারকফলকে তার নাম খোদাই করা রয়েছে।

তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি একটি আন্তরিক আমন্ত্রণ থাকতেই পারে। তিনি যদি সময় করে এই হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন, তাহলে একদিকে যেমন তার শ্বশুরের স্মৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবেন, অন্যদিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও কাছ থেকে দেখতে পারবেন।

এই হাসপাতাল নিয়ে আমাদের একটি দীর্ঘদিনের স্বপ্ন রয়েছে। আমরা চাই এটি আরও সম্প্রসারিত হোক। একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হোক। আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠুক। গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি পাক। বিভিন্ন সময় এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে এই হাসপাতালে প্রায় দুইশত চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ এখানে চক্ষু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। বছরে পাঁচ থেকে সাত হাজার মানুষের চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। অনেকেই হারানো দৃষ্টি ফিরে পান। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়শ মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে আসেন।

শুধু হাসপাতালেই নয়, বিভিন্ন এলাকায় চক্ষু শিবির পরিচালনা করা হয়। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাতটি চক্ষু পরিচর্যা কেন্দ্রের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী যদি এই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন, তাহলে হয়তো এর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের নতুন একটি পথ তৈরি হতে পারে। বহু মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

কিছুদিন আগে আমি সিলেট বিভাগের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে একটি লেখা লিখেছিলাম। সেখানে আমি অনুরোধ করেছিলাম, তারা যেন দলমত নির্বিশেষে সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নের প্রশ্নে একসঙ্গে কাজ করেন। সড়ক, রেলপথ, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেখানে উল্লেখ করেছিলাম।

সেই লেখা তাদের কারও নজরে পড়েছিল কি না, আমি জানি না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখনো অনেক সমস্যার দৃশ্যমান সমাধান আমরা দেখতে পাইনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর তাই একটি বিশেষ সুযোগ। সিলেট বিভাগের জনপ্রতিনিধিরা যদি একসঙ্গে হয়ে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, সমস্যা এবং সম্ভাবনার বিষয়গুলো তার সামনে তুলে ধরেন, তাহলে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।

সিলেট অঞ্চল দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রবাসী আয়, চা শিল্প, পর্যটন, কৃষি এবং সেবাখাত; সব ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তবুও অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়নের প্রশ্নে মানুষ নিজেদের পিছিয়ে পড়া মনে করে।

মানুষ খুব বেশি কিছু চায় না। তারা চলাচলের জন্য ভালো রাস্তা চায়। নিরাপদ রেলপথ চায়। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা চায়। কর্মসংস্থান চায়। সন্তানের জন্য ভালো শিক্ষা চায়। চিকিৎসার জন্য যেন দূরে ছুটতে না হয়, সেই ব্যবস্থা চায়। প্রধানমন্ত্রী যখন আসছেন, তখন এই প্রত্যাশাগুলোও তার কাছে পৌঁছাক। তিনি যেন শুধু একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ফিরে না যান। তিনি যেন এই অঞ্চলের মানুষের নীরব কষ্ট, দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবং উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষাও অনুভব করেন।

মৌলভীবাজারের মানুষ তাকে স্বাগত জানাবে। সম্মান জানাবে। ভালোবাসা জানাবে। বিনিময়ে তারা শুধু চায় তাদের কথাগুলোও শোনা হোক। তাদের স্বপ্নগুলোও গুরুত্ব পাক। তাদের বঞ্চনার ইতিহাসের অবসান ঘটুক। হয়তো একটি সফর সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। কিন্তু একটি সফর নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। মানুষের মনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে। আর সেই আশার দিকেই আজ তাকিয়ে আছে মৌলভীবাজার, তাকিয়ে আছে পুরো সিলেট অঞ্চল।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যিক। সাবেক সভাপতি: মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব।
মোবাইল: ০১৭১১১৭৮৭৮৪, ই-মেইল:  [email protected]

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক গ্রাম নোয়াগাঁও

প্রকাশিত :  ১৪:৫১, ১২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৫৩, ১২ জুলাই ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম কেন্দ্র শ্রীমঙ্গল। চা-বাগান, পাহাড়ি টিলা ও বনভূমির জন্য পরিচিত এই অঞ্চল এখন অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় শ্রীমঙ্গল কৌশলগতভাবেও দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।

শ্রীমঙ্গল শুধু পর্যটননির্ভর উপজেলা নয়; এটি দেশের অন্যতম চা-শিল্পকেন্দ্র। এখানে প্রায় অর্ধশত চা-শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্র দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামও ধীরে ধীরে শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। রাধানগর এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। সাতগাঁও থেকে মৌলভীবাজারের জগন্নাথপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতায় শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের নোয়াগাঁও গ্রামও শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

ঐতিহ্য ও নেতৃত্বের ইতিহাস

নোয়াগাঁও শুধু একটি গ্রাম নয়; রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাসেও এর পরিচিতি রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে এলাকাটি রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত ছিল।

স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা রাখা যতীন্দ্রমোহন দত্ত চৌধুরী ১৯৪৭ সালের পর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে গ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করেন। তাঁর ছেলে ধীরেন্দ্র দত্ত চৌধুরী স্বাধীনতার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আরেক ছেলে সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী ১৯৮৩ সালে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।

পরবর্তী সময়েও স্থানীয় নেতৃত্ব অবকাঠামো উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক স্থাপনা নির্মাণ ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিক নেতৃত্ব নোয়াগাঁওয়ের উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছে।

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের প্রসার

বর্তমানে নোয়াগাঁও ধীরে ধীরে একটি আধুনিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপ নিচ্ছে। ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের নিকটবর্তী অবস্থান, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ এবং যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে।

এলাকায় বিভিন্ন শিল্প ও উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাজারিন মিশন, হেলদি চয়েজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানি, প্রাণ-আরএফএলের মাছের হ্যাচারি, কারিতাস বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বনশিল্প করপোরেশন ও ইস্পাহানি টি কোম্পানি।

এসব প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো নতুন আয়ের সুযোগ পাচ্ছে, যা জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

ভৌগোলিক সুবিধা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

নোয়াগাঁওয়ের অন্যতম বড় শক্তি এর ভৌগোলিক অবস্থান। শ্রীমঙ্গল শহর ও ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের কাছাকাছি হওয়ায় পণ্য পরিবহন সহজ ও দ্রুত।

এ ছাড়া সড়ক, রেল ও নৌপথের সঙ্গে সহজ সংযোগ থাকায় এলাকাটি বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, আশুগঞ্জ নৌবন্দর এবং সিলেট ও ঢাকার বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সুবিধা ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

চা-অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পর্যটন ও ডিজিটাল সম্ভাবনা

নোয়াগাঁওয়ের আশপাশে রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল ও বিভিন্ন চা-বাগান। ফলে পর্যটননির্ভর ব্যবসারও সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের একটি অংশ ফ্রিল্যান্সিং, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর কাজে যুক্ত হচ্ছেন। ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সুবিধা বাড়ায় ই-কমার্স ও ডিজিটাল ব্যবসার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে নোয়াগাঁও পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক গ্রামে পরিণত হতে পারে।

সম্ভাবনাময় খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্যটনভিত্তিক হোটেল ও রিসোর্ট, হস্তশিল্প, চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ, ডিজিটাল ব্যবসা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় উদ্যোক্তারা মনে করছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যোগাযোগব্যবস্থা ও শিল্পায়নের সুযোগ মিলিয়ে নোয়াগাঁও ভবিষ্যতে শ্রীমঙ্গলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর