img

দিরাইয়ে অনলাইন জুয়ার গ্রাস, বাড়ছে অপরাধ

প্রকাশিত :  ১২:৫৭, ০৫ জুন ২০২৬

 দিরাইয়ে অনলাইন জুয়ার গ্রাস, বাড়ছে অপরাধ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে । স্মার্টফোন ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতার কারণে এসব হচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন ।

পৌর শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রামীণ বাজার পর্যন্ত অর্থের বিনিময়ে অনলাইন বেটিং, লুডু বাজি ও বিভিন্ন জুয়ার অ্যাপ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে তরুণ ও যুব সমাজের একটি অংশ আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

মোবাইল ফোনভিত্তিক অ্যাপের মাধ্যমে এখন ক্রিকেট, ফুটবল, এভিয়েটর গেম, আইপিএল বেটিংসহ নানা খেলায় অর্থের বাজি ধরা হচ্ছে। এমনকি জনপ্রিয় লুডু খেলাও অনলাইন জুয়ার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। দিনের পর দিন টাকা দিয়ে লুডু খেলার প্রবণতা বাড়ছে। অভিভাবকদের দাবি, বিনোদন হিসেবে শুরু হলেও এটি ভয়াবহ আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই অনলাইন জুয়ার আসর এখন শুধু পৌর শহরেই সীমাবদ্ধ নেই গ্রামাঞ্চলের চায়ের দোকান, মুদি দোকান কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের দোকানের ভেতরেও বসছে। বাইরে থেকে সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনে হলেও ভেতরে মোবাইল ফোনের পর্দায় চলছে হাজার হাজার টাকার বাজি। দুপুরে চা খাওয়ার অজুহাতে, রাতে দোকান বন্ধের পরও নির্দিষ্ট কয়েকজন জড়ো হয়ে জুয়ার কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব চলছে।

সরেজমিনে পৌর শহরের উপজেলা রোড, থানা সংলগ্ন সেন মার্কেট, কলেজ রোড, ইউপি রোড ও হাইস্কুল রোড এলাকায় দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী মানুষ মোবাইল ফোনে অর্থের বিনিময়ে লুডুসহ নানা অনলাইন গেম খেলছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব কার্যক্রমের একটি বড় অংশ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। একই চিত্র উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার ও আড্ডাস্থলগুলোতেও।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় অনেকে প্রথমে বন্ধু বা পরিচিতদের মাধ্যমে এসব অ্যাপে যুক্ত হন। শুরুতে সামান্য লাভ দেখালেও পরে অধিক লাভের আশায় বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে প্রচুর ক্ষতির মুখে পড়েন অনেকে। একপর্যায়ে ধারদেনা বা পরিবারের অজান্তে টাকা সংগ্রহ করে এসব কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

অভিভাবক সুমন চৌধুরী বলেন, অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক পরিবার নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর দাবি, এলাকার কিছু স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানরা জুয়ার নেশায় বিপুল অর্থ হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ ঋণের চাপ সামলাতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, আবার কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তবে তাঁদের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝার চাপ পরিবারের ওপরই পড়ছে।

দিরাই সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, তরুণদের মধ্যে অনলাইন আসক্তি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি মনে করেন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ প্রবণতা রোধ কঠিন।

দিরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল বাছির সরদার বলেন, অনলাইন জুয়ার বিস্তার এখন সামাজিক সমস্যায় রূপ নিচ্ছে। শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও সমাজের সচেতন মহলের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্র বলছে, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কিছু তরুণ চুরি, ছিনতাই এমনকি ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই, তবে বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক ও অপরাধমূলক সংকট তৈরি করতে পারে।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, অনলাইন জুয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সনজীব সরকার বলেন, তরুণ সমাজকে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রমের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সিলেটে চাঞ্চল্যকর রাসেল হত্যা: সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত :  ০৫:৫৫, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

রাসেল আহমদ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলামে চাঞ্চল্যকর রাসেল আহমদ শাহ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ইয়াসিন আহমদ ফাহিম (৩৩) ও আব্দুস সামাদ (৩৩)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদুল হক ভূঁইয়া জানান, এসআরবির অভিযানে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার হয়েছে। বর্তমানে থানায় আছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সিলাম চকবাজার এলাকায় রাসেল আহমদকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত রাসেলের মা রাজনা বেগম বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মোগলাবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন।

মলায় অভিযুক্তরা হলেন- ফজলু মিয়া (৫৫), আবেদ রাজা (৫৫), ইয়াসিন আহমদ ফাহিম (৩৩), আব্দুস সামাদ (৩৩), রনি (৩৫), তানিম আহমদ (২৪), সুমন আলী (৩৪), শহীদ আলী (২৮), কামরান (২৪), মাহবুব (২০), জুবের আহমদ জুবেল (২২), রাফি (২০), সালমান (২৫), আহমাদুর রহমান সাদেক (৪৫), মাসুম (২৫), মুহিন (২২), রাজু মিয়া (৪৫), মোজাহির আলী (৩৭), আলী রুবেল (৩১), গুল্লি সুয়েব (৫৫), সিরাজুল ইসলাম (৫২) ও উজ্জ্বল মিয়া (৩৫)।

সিলেটের খবর এর আরও খবর