img

সুনামগঞ্জে বিয়েতে দাওয়াত না দেয়ায় চাচাতো ভাইদের হামলায় যুবক নিহত

প্রকাশিত :  ০৯:৩২, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

 সুনামগঞ্জে বিয়েতে দাওয়াত না দেয়ায় চাচাতো ভাইদের হামলায় যুবক নিহত

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বোনের বিয়ের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের হামলায় এক যুবক নিহত হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে জগন্নাথপুর পৌরসভার লুদরপুর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহত নাজিম উদ্দিন (৪৫) লুদরপুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে স্থানীয় ও পুলিশ সদস্যরা জানান, শুক্রবার পরম ধুমধামে অনুষ্ঠিত হয় নাজিম উদ্দিনের ছোট বোনের বিয়ে। তবে কোনো কারণে বিয়ের মূল দিনে চাচাতো ভাই মাসুম মিয়ার পরিবারকে দাওয়াত দেয়া হয়নি। আর তাতেই বাধে বিপত্তি!

ক্ষোভে-অপমানে ফুঁসতে থাকে মাসুমের পরিবার। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও ভুল বোঝাবুঝি মেটাতে শনিবার সকালে সোজা চাচাতো ভাই মাসুমের বাড়িতে ছুটে যান নাজিম উদ্দিন। ভেবেছিলেন একটু হাসিমুখ আর মিষ্টি কথায় বরফ গলবে। কিন্তু কোথায় কী!

দাওয়াত নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হতেই ঘরের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ অগ্ন্যুৎপাতের মতো ফেটে পড়ে। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে মাসুম ও তার ভাইয়েরা দা-ছুরি নিয়ে সোজা ঝাঁপিয়ে পড়ে নাজিম উদ্দিনের ওপর। কোপাকুপির পর রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাজিমকে মাটিতে ফেলে রেখে সটকে পড়ে ঘাতকরা।

পরে স্থানীয় ও স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাজিমকে উদ্ধার করে দ্রুত জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে; হাসপাতালের কর্তব্যে থাকা চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহতের অপর এক চাচাতো ভাই সালেহ আহমদ কান্নায় ভেঙে পড়ে আক্ষেপ করে বলেন, শুধুমাত্র কালকের (শুক্রবার) বিয়েতে দাওয়াত না দেয়ায় অহংকার আর রাগের বশে মাসুমের নেতৃত্বে আমার ভাইকে কুপিয়ে শেষ করে ফেলা হলো!

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সের জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, নাজিম উদ্দিনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তিনি মারা যান। তার শরীরের একাধিক স্থানে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান। তিনি জানান, পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। সামান্য একটি বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে হওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যার রহস্য উদঘাটনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘাতকদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, পুলিশকে অবহিত

প্রকাশিত :  ০৭:৫৭, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:২৬, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দৈনিক খোলা কাগজ-এর মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি মো. এহসানুল হক। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের কালিঘাট রোড থেকে মুসলিমবাগ এলাকার বাসায় ফেরার পথে একটি মোটরসাইকেল তাঁকে অনুসরণ করছিল বলে সন্দেহ হয় তাঁর। পরে ওই মোটরসাইকেলচালকের কোমরের বেল্টে পিস্তলসদৃশ একটি বস্তু দেখা গেছে বলে তাঁকে জানান তাঁর পরিচিত এক ব্যক্তি।

শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন সাংবাদিক এহসানুল হক। পোস্টে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে এহসানুল হক জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গল শহরের কালিঘাট রোড থেকে মুসলিমবাগে অবস্থিত নিজের বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথিমধ্যে একটি মোটরসাইকেল তাঁর পিছু নেয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মুসলিমবাগের দিকে পরিচিত নাঈমের সঙ্গে কথা বলার জন্য দাঁড়ান তিনি।

এ সময় মোটরসাইকেলচালক কিছু দূরে গিয়ে বাইক থামান। এরপর ইঞ্জিন বন্ধ করে তাঁর দিকে তাকিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে থাকেন এবং তাঁর ওপর নজর রাখছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন এহসানুল হক।

পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক মনে হওয়ায় মোটরসাইকেলের হেডলাইট বন্ধ করে দ্রুত একটি গলির ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি। এভাবে কোনোমতে বাসায় পৌঁছান বলে জানান এই সাংবাদিক।

বাসায় ফেরার পর বিষয়টি পরিচিত নাঈমকে জানান তিনি। এহসানুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, নাঈম তাঁকে জানান, ওই যুবকের কোমরের বেল্টে পিস্তল গোঁজা ছিল বলে তিনি নিজ চোখে দেখেছেন। এহসানুল হক বাসায় ফেরার পরও ওই যুবককে পেছন থেকে দেখেছেন বলে জানান নাঈম।

পোস্টে ওই যুবকের শারীরিক গঠন ও পোশাকের বর্ণনাও দিয়েছেন এহসানুল হক। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, যুবকটি দেখতে বেশ স্মার্ট। তাঁর পরনে ছিল থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট এবং দুই পায়ে হাফ মোজা। ওই যুবককে আগে তাঁদের এলাকা বা আশপাশে কখনো দেখেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের কথা জানিয়ে এহসানুল হক বলেন, আল্লাহর রহমতে হয়তো তিনি সেদিন অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেছেন। শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সালাউদ্দিনও এ বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জরুরি সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পোস্টে জানান এহসানুল হক।

মো. এহসানুল হক দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজার জেলা, বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল এলাকার সন্ত্রাস, মাদক, চোরাচালান, দুর্নীতি, অনিয়মসহ বিভিন্ন অপরাধের চিত্র নিয়ে জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন।

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ সাংবাদিক শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর