img

জেলা স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন, ইউনিয়ন পর্যায়েও মাঠ: শ্রীমঙ্গলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৯:১৫, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

জেলা স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন, ইউনিয়ন পর্যায়েও মাঠ: শ্রীমঙ্গলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সংগ্রাম দত্ত: দেশের বিদ্যমান জেলা স্টেডিয়ামগুলোকে আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের আগে দেশের বিদ্যমান মাঠ ও স্টেডিয়ামগুলোকে যথাযথভাবে ব্যবহারোপযোগী করার ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি ক্রিকেট একাডেমির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত খেলাধুলার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে শ্রীমঙ্গল ক্রিকেট একাডেমির পাশাপাশি মাঠে ড্রেসিং রুমসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়নের জন্য ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। এসব অবকাঠামো উন্নত করা গেলে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, ভলিবল, টেবিল টেনিস, দাবা, আর্চারি, শুটিং ও হকিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খেলায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে।

তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ

তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ রাখতে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নগরীর ওয়ার্ড পর্যায়েও ফুটসাল বা ছোট মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু মাঠ ও অবকাঠামো নয়, শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাবিষয়ক পাঠ্যপুস্তক সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দখলমুক্ত হবে খেলার মাঠ

মৌলভীবাজারের বিভিন্ন খেলার মাঠ দখল হয়ে থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক বলেন, যেসব খেলার মাঠ অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে, সেগুলো অবমুক্ত করে খেলাধুলার উপযোগী করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের মাঠমুখী করতে হলে প্রথমেই তাদের খেলার জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বিদ্যমান মাঠগুলো রক্ষা ও ব্যবহারোপযোগী করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

শুধু অংশগ্রহণ নয়, লক্ষ্য পদক

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেই সন্তুষ্ট থাকতে চায় না; সম্ভাবনাময় খেলাগুলোতে পদকের জন্য লড়াই করতে চায়।

এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো আন্তর্জাতিক আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান তৈরির জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ক্রিকেট একাডেমির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশীদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক সরফুদ্দীন আহমদ সরফুসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

ওলামাদের বাধা: দিরাইয়ে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত

প্রকাশিত :  ১৬:৫১, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার দিরাইয়ে স্থানীয় ওলামাদের আপত্তির মুখে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকেলে উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাব ও দিরাইয়ের স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের মেয়েদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

আয়োজকদের ভাষ্য, স্থানীয় আলেম-ওলামাসহ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে খেলাটি বন্ধের দাবি জানান। পরে পুলিশও খেলা স্থগিত করার কথা বললে বিশৃঙ্খলা এড়াতে আয়োজকেরা ম্যাচটি স্থগিত করেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও কোচ রাকিব আহমেদ জানান, ২০১৯ সাল থেকে এলাকায় কিশোরীদের ফুটবল খেলা আয়োজন করছে সংগঠনটি। জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্টেও নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এলাকার কিশোরীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকেও জানানো হয়েছিল।

রাকিব আহমেদ বলেন, সোমবার সকালে ইউএনও সাহেব বলেছেন, যেহেতু দুটি পক্ষই দিরাইয়ের বাসিন্দা, তাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে খেলাটি আয়োজন করা হলে ভালো হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকেও খেলা স্থগিত করতে বলা হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমরা খেলাটি স্থগিত করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে হবে।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার বলেন, পাঁচ-ছয় দিন আগে উপজেলা স্টেডিয়ামে কিশোরীদের ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি নেন আয়োজকরা। ম্যাচ নিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এরপরই ওলামাদের একটি দল আমার সঙ্গে দেখা করে এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা জানান।

তিনি বলেন, ‘আয়োজক সংগঠনটি অনেকদিন ধরে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করে। তবে সংগঠনটি নিবন্ধিত নয়। ওলামাদের দাবির মুখে আয়োজকদের জানাই, যেহেতু দুইপক্ষই স্থানীয়, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে। পরে আয়োজকরা ম্যাচ স্থগিত ঘোষণা করেন।’

এ ব্যাপারে ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র সভাপতি মাওলানা শরিফ উদ্দিন বলেন, আগে শুনেছিলাম কিশোরীরা ফুটবল খেলবে। পরে মাইকিং করে মহিলাদের ফুটবল খেলা। এর আগে স্থানীয় কিশোরীরা দিরাইয়ে ফুটবল খেলেছে, আমরা বাধা দিইনি।

তিনি বলেন, দিরাইয়ে এর আগে মহিলাদের ফুটবল খেলা হয়নি। মহিলাদের নিয়ে মাঠে নাচানাচি, অশ্লীলতা হবে, এটা আমরা মানতে পারি না। আমরা খেলাধুলার বিরোধী নই, আমরা অশ্লীলতার বিরোধী।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, আয়োজকরা প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত ছিলাম। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আয়োজকরাই ম্যাচ স্থগিত করে দেন। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর