img

শ্রীমঙ্গলে দুই দিনে উদ্ধার অজগর ও সবুজ ফণিমনসা

প্রকাশিত :  ১৪:২৬, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে দুই দিনে উদ্ধার অজগর ও সবুজ ফণিমনসা

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দুই দিনে দুটি সাপ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে একটি অজগর এবং অন্যটি সবুজ ফণিমনসা। মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক দুটি স্থান থেকে সাপ দুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারের একটি ক্ষুদ্র চায়ের দোকানের ক্যাশ বাক্সের ভেতর সাপ ঢুকে পড়ার খবর পেয়ে সেখানে যায় বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের একটি দল। দোকানটির মালিক বকুল পাল বিষয়টি ফাউন্ডেশনকে জানান।

ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্যাশ বাক্সের ভেতর সাপটির অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সাপটি ছিল সবুজ ফণিমনসা। পরে সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

এর এক দিন পর বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে হাইল হাওরের দুর্গম রউয়া বিলে মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে একটি অজগর। সকাল সাতটার দিকে খবর পেয়ে সেটি উদ্ধারে ছুটে যায় বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের দল।

তবে দুর্গম বিলটিতে দ্রুত পৌঁছানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এ সময় স্থানীয় মাঝি রাজু মিয়া নৌকা নিয়ে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন। তাঁর নৌকায় করে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, অজগরটি মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে আছে। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় জাল থেকে অজগরটিকে জীবন্ত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় মাঝি রাজু মিয়ার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোথাও কোনো পশুপাখি ধরা পড়লে, আহত বা অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করে দ্রুত নিকটস্থ বন বিভাগকে খবর দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকেও বিষয়টি জানানো যেতে পারে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানে চা-পাতা তুলতে গিয়ে মিলল বিষধর পদ্ম গোখরা

প্রকাশিত :  ০৯:০৯, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৩৪, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানে চা-পাতার কুঁড়ি তুলতে গিয়ে বিষধর পদ্ম গোখরা সাপের সন্ধান পেয়েছেন শ্রমিকেরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে বাগানের ১৪ নম্বর সেকশনে এ ঘটনা ঘটে।

চা-পাতা তোলার সময় হঠাৎ সাপের ‘শু শু’ শব্দ শুনতে পান এক শ্রমিক। শব্দটি শুনে আশপাশের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা কাজ বন্ধ করে দ্রুত সাপটির কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।

পরে বিষয়টি ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সাদেকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি না মেরে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটিকে শনাক্ত করে পদ্ম গোখরা বলে জানান। তাঁদের ভাষ্য, এটি অত্যন্ত বিষধর একটি সাপ।

পরে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সাপটি না মেরে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ায় চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সাদেকুর রহমানকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁর সচেতনতা ও সময়মতো খবর দেওয়ার কারণে একটি মূল্যবান বন্যপ্রাণীর জীবন রক্ষা পেয়েছে।

এদিকে, ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানে এর আগেও পরপর দুই দিন শ্রমিক কলোনি এলাকা থেকে প্রাণঘাতী ও বিষধর পদ্ম গোখরা সাপ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। একই এলাকায় বারবার বিষধর সাপের উপস্থিতি নিয়ে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, গত কয়েক মাসে শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি সাপ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। বিশেষ করে বসতবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশে বিষধর সাপের উপস্থিতি নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো পশুপাখি ধরা পড়লে, আহত বা অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে সেগুলোকে না মেরে দ্রুত নিকটস্থ বন বিভাগকে খবর দিতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকেও জানাতে বলা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর