img

জুড়ীতে ছাত্রলীগের মিছিলের পর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কিশোর রায় গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৫:৪২, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

 জুড়ীতে ছাত্রলীগের মিছিলের পর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কিশোর রায় গ্রেপ্তার

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে মৌলভীবাজারের জুড়ীতে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা কিশোর রায় চৌধুরী মনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে জুড়ী শহরের কলেজ রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মনি উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান।

পুলিশ জানায়, বুধবার ভোরে জুড়ী শহরে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জুড়ী কলেজ ছাত্রলীগের নেতা হাবিবুর রহমান জয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর বার্তাসংবলিত ব্যানার ছিল। মিছিল থেকে রাজনৈতিক মামলায় আটক নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানানো হয়।

পরে মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কিশোর রায় চৌধুরী মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তারের কথা জানান তিনি।

ওসি আরও বলেন, ভোরের মিছিলের বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। অরাজকতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিজিবির ১২ প্লাটুন মোতায়েন

প্রকাশিত :  ১৬:৫০, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ৮৫টি ব্যাটালিয়ন ,সদর দপ্তরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে আরও ২৪টি মণ্ডপে বিশেষ নজরদারি

সংগ্রাম দত্ত: শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১০৯টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে শহরের শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালীবাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মইন হাসান।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল সেক্টরের অধীন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ৮৫টি পূজামণ্ডপ। এ ছাড়া ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে আরও ২৪টি পূজামণ্ডপ। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোট ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিজিবির অধিনায়ক বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে, যাতে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারেন।

নিরাপত্তায় ব্যবহার হবে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) প্রস্তুত করা ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিজিবি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন ও প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান বিজিবির অধিনায়ক।

সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধেও নজরদারি

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ পাচারসহ বিভিন্ন ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধেও তৎপর রয়েছে বিজিবি। এ লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বিজিবির এই নিরাপত্তা কার্যক্রমের মাধ্যমে পূজামণ্ডপগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পূজার সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সমন্বিত উদ্যোগে উৎসবের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর