শ্রীমঙ্গলে ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানে চা-পাতা তুলতে গিয়ে মিলল বিষধর পদ্ম গোখরা
সংগ্রাম দত্ত : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানে চা-পাতার কুঁড়ি তুলতে গিয়ে বিষধর পদ্ম গোখরা সাপের সন্ধান পেয়েছেন শ্রমিকেরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে বাগানের ১৪ নম্বর সেকশনে এ ঘটনা ঘটে।
চা-পাতা তোলার সময় হঠাৎ সাপের ‘শু শু’ শব্দ শুনতে পান এক শ্রমিক। শব্দটি শুনে আশপাশের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা কাজ বন্ধ করে দ্রুত সাপটির কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।
পরে বিষয়টি ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সাদেকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি না মেরে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটিকে শনাক্ত করে পদ্ম গোখরা বলে জানান। তাঁদের ভাষ্য, এটি অত্যন্ত বিষধর একটি সাপ।
পরে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সাপটি না মেরে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ায় চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সাদেকুর রহমানকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁর সচেতনতা ও সময়মতো খবর দেওয়ার কারণে একটি মূল্যবান বন্যপ্রাণীর জীবন রক্ষা পেয়েছে।
এদিকে, ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানে এর আগেও পরপর দুই দিন শ্রমিক কলোনি এলাকা থেকে প্রাণঘাতী ও বিষধর পদ্ম গোখরা সাপ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। একই এলাকায় বারবার বিষধর সাপের উপস্থিতি নিয়ে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, গত কয়েক মাসে শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি সাপ উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। বিশেষ করে বসতবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশে বিষধর সাপের উপস্থিতি নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো পশুপাখি ধরা পড়লে, আহত বা অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে সেগুলোকে না মেরে দ্রুত নিকটস্থ বন বিভাগকে খবর দিতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকেও জানাতে বলা হয়েছে।



















