কমলগঞ্জে রাতের আঁধারে সড়কের ১৪টি গাছ কেটে পাচার
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দৈনিক খোলা কাগজ-এর মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি মো. এহসানুল হক। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের কালিঘাট রোড থেকে মুসলিমবাগ এলাকার বাসায় ফেরার পথে একটি মোটরসাইকেল তাঁকে অনুসরণ করছিল বলে সন্দেহ হয় তাঁর। পরে ওই মোটরসাইকেলচালকের কোমরের বেল্টে পিস্তলসদৃশ একটি বস্তু দেখা গেছে বলে তাঁকে জানান তাঁর পরিচিত এক ব্যক্তি।
শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন সাংবাদিক এহসানুল হক। পোস্টে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ফেসবুক পোস্টে এহসানুল হক জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গল শহরের কালিঘাট রোড থেকে মুসলিমবাগে অবস্থিত নিজের বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথিমধ্যে একটি মোটরসাইকেল তাঁর পিছু নেয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মুসলিমবাগের দিকে পরিচিত নাঈমের সঙ্গে কথা বলার জন্য দাঁড়ান তিনি।
এ সময় মোটরসাইকেলচালক কিছু দূরে গিয়ে বাইক থামান। এরপর ইঞ্জিন বন্ধ করে তাঁর দিকে তাকিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে থাকেন এবং তাঁর ওপর নজর রাখছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন এহসানুল হক।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক মনে হওয়ায় মোটরসাইকেলের হেডলাইট বন্ধ করে দ্রুত একটি গলির ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি। এভাবে কোনোমতে বাসায় পৌঁছান বলে জানান এই সাংবাদিক।
বাসায় ফেরার পর বিষয়টি পরিচিত নাঈমকে জানান তিনি। এহসানুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, নাঈম তাঁকে জানান, ওই যুবকের কোমরের বেল্টে পিস্তল গোঁজা ছিল বলে তিনি নিজ চোখে দেখেছেন। এহসানুল হক বাসায় ফেরার পরও ওই যুবককে পেছন থেকে দেখেছেন বলে জানান নাঈম।
পোস্টে ওই যুবকের শারীরিক গঠন ও পোশাকের বর্ণনাও দিয়েছেন এহসানুল হক। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, যুবকটি দেখতে বেশ স্মার্ট। তাঁর পরনে ছিল থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট এবং দুই পায়ে হাফ মোজা। ওই যুবককে আগে তাঁদের এলাকা বা আশপাশে কখনো দেখেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের কথা জানিয়ে এহসানুল হক বলেন, আল্লাহর রহমতে হয়তো তিনি সেদিন অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেছেন। শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সালাউদ্দিনও এ বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জরুরি সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পোস্টে জানান এহসানুল হক।
মো. এহসানুল হক দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজার জেলা, বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল এলাকার সন্ত্রাস, মাদক, চোরাচালান, দুর্নীতি, অনিয়মসহ বিভিন্ন অপরাধের চিত্র নিয়ে জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ সাংবাদিক শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।