img

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনপ্রত্যাশা

প্রকাশিত :  ০৮:০২, ১৯ জুন ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনপ্রত্যাশা

সংগ্রাম দত্ত: সাংবাদিকতা কেবল তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি জনস্বার্থ রক্ষা, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং জনগণের ন্যায্য প্রত্যাশাকে সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সমাজের কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠী যখন নিজেদের কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় কিংবা কোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায়ত্ব অনুভব করে, তখন সাংবাদিকরা পেশাগত নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার আলোকে সেই বিষয়গুলো জাতির সামনে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য সমাধানের পথ নির্দেশ এবং জনমত গঠনে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করাও সাংবাদিকতার অন্যতম অনুষঙ্গ।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দেন। এর সাত বছর পর, ১৯৮৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ শ্রীমঙ্গল সফরে এসে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় শ্রীমঙ্গল কলেজ ও শ্রীমঙ্গল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দেন এবং শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মের সামনে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশ সামগ্রিকভাবে অনেক দূর এগিয়েছে।

প্রায় চার দশক পর, গত ১৭ জুন জাতীয় নেতা ও সরকারপ্রধান তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলের ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় ভাষণ দেন। এ সফরকে ঘিরে শ্রীমঙ্গলবাসীর প্রত্যাশা ছিল স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। উন্নয়ন, অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়।

বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে কর্মরত সাংবাদিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং সমাজ গঠন, জনমত সৃষ্টি ও গণমানুষের প্রত্যাশাকে সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সমস্যা, সম্ভাবনা ও দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া সম্পর্কে তারা নিবিড়ভাবে অবগত। সমাজের সচেতন ও পথপ্রদর্শক শ্রেণি হিসেবে সাংবাদিকদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে।

সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার আলোকে বিবেচনা করলে বলা যায়, সরকারপ্রধানের শ্রীমঙ্গল সফর ছিল জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরার একটি তাৎপর্যপূর্ণ সুযোগ। সম্মিলিতভাবে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ চাইলে শ্রীমঙ্গলবাসীর পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপির মাধ্যমে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা, উন্নয়ন চাহিদা ও জনগণের প্রত্যাশাগুলো সরকারপ্রধানের নজরে আনতে পারতেন। তবে সেই ধরনের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় অনেকের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

সমাজের সচেতন পথপ্রদর্শক হিসেবে সাংবাদিকদের যে ভূমিকার কথা প্রায়ই বলা হয়, সেই বিবেচনায় এবার শ্রীমঙ্গলের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো সমন্বিতভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে আলোচনা রয়েছে বিভিন্ন মহলে।

অন্যদিকে একজন রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে মৌলভীবাজারের স্থানীয় সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান মৌলভীবাজারে সরকারপ্রধান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত জনসভায় জেলার জনগণের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেন। তিনি স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করে সেগুলোর বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। এতে জনগণের দাবিদাওয়া সরাসরি সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপনের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় বলে অনেকেই মনে করেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উন্নয়ন ভাবনাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বের নয়, সমাজের সচেতন অংশ হিসেবে সাংবাদিক সমাজেরও একটি নৈতিক দায়িত্ব। কারণ, সাংবাদিকতার প্রকৃত শক্তি কেবল সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনগণের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করা, সমস্যার সমাধানের পথ অনুসন্ধান করা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলার মধ্যেই এর মৌলিক তাৎপর্য নিহিত।



সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে শুরু হচ্ছে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’: এক মঞ্চে ২৭ সম্প্রদায়ের মেলা

প্রকাশিত :  ০৮:০৯, ১৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জীবনধারা তুলে ধরতে  মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২।

আজ শুক্রবার (১৯ জুন) শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবটির উদ্বোধন করা হবে। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উৎসব উন্মুক্ত থাকবে।

উৎসবে স্থানীয় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, জীবনধারা ও খাদ্যসংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের সুস্বাদু ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরাও বসবে মেলায়।

উৎসবকে সফল করতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। স্থানীয় ট্যুর অপারেটর, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ এর বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক (বিপণন ও ব্র্যান্ডিং) মহিবুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহিবুল্লাহ আকন, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম এবং শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) আ. আব্দুর রাজ্জাক।

সংবাদ সম্মেলনে সালেহা বিনতে সিরাজ বলেন, ‘গত বছর শীত মৌসুমে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)-এর কাকিয়াছড়া মাঠে প্রথমবারের মতো হারমোনি ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার বর্ষা মৌসুমে ফুলছড়া চা বাগান মাঠে আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট একটি স্থানে নিয়মিত এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে বসবাসরত ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতিরও উপস্থাপনা থাকবে। আগামী বছর থেকে সারা দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে এনে আরও বড় পরিসরে এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম এমপি। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কানিজ মওলা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার। অতিথিদের স্বাগত জানাবেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি।

এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর পান প্রস্তুতির লাইভ প্রদর্শনী, ত্রিপুরাদের কোমর তাঁত, মণিপুরীদের তাঁতশিল্প, চা ও রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ, হোমস্টে কার্যক্রম এবং কুমার সম্প্রদায়ের মাটির জিনিসপত্র তৈরির সরাসরি প্রদর্শনী।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই এই ফেস্টিভ্যালের অন্যতম লক্ষ্য। মেলায় স্টলগুলোতে তাদের উৎপাদিত পণ্য, খাবার, পোশাক ও জীবনধারা প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি তাদের নাচ, গান ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানের পরিবেশনাও থাকবে।থ

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের আশা, ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর