img

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

প্রকাশিত :  ১১:৫৪, ০৫ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:০৪, ০৫ জুলাই ২০২৬

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছাত্র মোহাম্মদ আজম প্রথম আলোকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের একটি রেস্তোরাঁয় স্যার খেতে গিয়েছিলেন। সেখানে অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যত দূর শুনেছি, হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’

২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলা একাডেমির সভাপতি পদে যোগ দেন।

আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে। ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৬৫ সালে স্নাতক ও ১৯৬৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে তিনি মার্ক্সবাদী ধারার রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকের প্রগতিশীল সব আন্দোলন এবং উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এরপর তিনি মার্ক্সবাদী রাজনীতির সব সাংগঠনিক সংযোগ ছিন্ন করেন। মূলত উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থানের পরে তিনি রাজনৈতিক কোনো সংগঠনে যুক্ত না থেকে বরং রাজনীতির ধারায় তিনি যা আশা করতেন, লেখার মাধ্যমে তা করার সংকল্প গ্রহণ করেন। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ঢাকা শহরে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও অর্থ সংগ্রহ করে দিয়ে সহযোগিতা করেন। স্বাধীনতার পর তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হননি।

১৯৭২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১১ সালের ৩০ জুন তিনি অবসরে যান। সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হিসেবে ২০১১–১৫ সাল পর্যন্ত একই বিভাগে কর্মরত ছিলেন। দুই বছর (২০২১–২৩) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে আহমদ শরীফ চেয়ার পদে নিয়োজিত ছিলেন।

সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে আবুল কাসেম ফজলুল হক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর প্রথম বই ‘মুক্তিসংগ্রাম’ প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’সহ ৩২টির মতো মৌলিক গ্রন্থ রয়েছে তাঁর। অধ্যাপক আবুল কাসেমের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’-এর মতো একাধিক গ্রন্থ। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। এ ছাড়া পেয়েছেন অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখক শিবির হুমায়ুন কবির স্মারক পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার এবং কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণাকেন্দ্র থেকে ‘লিটল ম্যাগাজিন পুরস্কার’ পান।

জাতীয় এর আরও খবর

img

পুলিশের ৩৩ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

প্রকাশিত :  ১৬:১৯, ০৫ জুলাই ২০২৬

পুলিশের ৩৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। যাদের বেশির ভাগ ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলায় এসপির দায়িত্বে ছিলেন।

আজ রোববার (৫ জুলাই) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।  

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজন বর্তমানে ভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। জনস্বার্থে জারিকৃত সরকারের এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা চাকরি বিধি অনুযায়ী অবসরকালীন সব সুবিধা পাবেন।

অবসরে পাঠানো পুলিশ কর্মকর্তাদের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন এখানে। 

জাতীয় এর আরও খবর