img

আল্লামা সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণকারী সাবেক এএসপি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৮:২৫, ০৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:১০, ০৩ জুলাই ২০২৬

আল্লামা সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণকারী সাবেক এএসপি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে নিখোঁজ হওয়া সুখরঞ্জন বালীকে গুমের ঘটনায় সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালী ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই নিখোঁজ হন। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তাকে সীমান্ত এলাকায় পাওয়া গেছে। তবে তার পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তখন থেকেই অভিযোগ করে আসছিল যে তাকে ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকেই তুলে নেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ওই মাসেরই ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন সুখরঞ্জন বালী। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়া এবং পরে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ায় তাকে গুম ও নির্যাতন করা হয়েছিল।

এই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির, সাবেক তদন্তকারী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালের নামও রয়েছে।

সুখরঞ্জন বালীর অভিযোগের বিবরণ

অভিযোগে সুখরঞ্জন বালী উল্লেখ করেন, ২০১০ সালের জুলাই-আগস্টের দিকে ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন তাকে পিরোজপুরের পাড়েরহাটের একটি স্কুলে ডেকে পাঠান। একাত্তরে তার ভাই বিশাবালীকে হত্যার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সুখরঞ্জন জানান, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে হত্যা করেছে। তবে হেলাল উদ্দিন তাকে নির্দেশ দেন, হত্যাকারী হিসেবে অন্যদের পাশাপাশি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নামও বলতে হবে এবং ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে হবে। রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়।

পরবর্তী সময়ে সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকৃত ঘটনা জানতে চান এবং ট্রাইব্যুনালে এসে সত্য বলার অনুরোধ করেন। এতে সুখরঞ্জন রাজি হয়ে ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে পৌঁছান। কিন্তু ফটক থেকেই পুলিশ তাকে চোখ ও হাত বেঁধে তুলে নিয়ে যায়।

সুখরঞ্জন বালীর দাবি, তাকে একটি জানালাবিহীন অন্ধকার ঘরে দুই মাস আটকে রেখে চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে অন্য একটি স্থানে নিয়ে আরও দুই মাস নির্যাতন চালানো হয়। এরপর একদিন চোখ বাঁধা অবস্থায় গাড়িতে করে তাকে সীমান্ত এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে বিজিবির সহায়তায় তাকে ভারতের বৈকারী পাঠানো হয়। পরে বিএসএফ তাকে মারধর করে এবং বশিরহাট নিয়ে যায়। বশিরহাট সাবজেলে ২২ দিন রাখার পর তাকে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানতে পেরে মাসুদ সাঈদী তার ছেলেকে ভারতে পাঠান। কারাগারে থাকাকালীন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তার সঙ্গে দেখা করে নির্যাতনের তথ্য নথিভুক্ত করে। দেশে ফেরার পরও নিরাপত্তার কারণে তিনি পিরোজপুরে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারেননি, আত্মগোপনে অন্য জেলায় অবস্থান করছেন।

জাতীয় এর আরও খবর

img

শেরওয়ানির জন্য ফ্লাইট আটকে রাখা কে এই বিমান কর্মকর্তা?

প্রকাশিত :  ১৮:১২, ০৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:২৪, ০৩ জুলাই ২০২৬

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স চট্টগ্রামে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে তাড়াহুড়োয় শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসেন। পরে উড্ডয়নের প্রস্তুতির মধ্যেই তিনি বিমান থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার এ সিদ্ধান্তের ফলে ফ্লাইটে থাকা শিশু, বৃদ্ধসহ প্রায় ১০০ যাত্রীকে দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। উড়োজাহাজ ছাড়তে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের প্রায় তিন ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

কেবিন ক্রু প্রিন্সকে জানান, জরুরি চিকিৎসা বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ে (বিমানবন্দরের এমন একটি নির্দিষ্ট পথ, যেখানে বিমান রানওয়েতে উড্ডয়ন বা অবতরণের আগে ও পরে নিজস্ব ইঞ্জিনের সাহায্যে ধীরে ধীরে চলাচল করে) থেকে বিমান ফিরিয়ে আনার নিয়ম নেই।এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ওই যাত্রী। নিজের পরিচয় দেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে। বের করেন পরিচয়পত্র। সেই পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন বিমান থামাতে। শেষ পর্যন্ত সব নিয়ম, প্রটোকল ও প্রায় ১০০ যাত্রীর ভোগান্তি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইট ২এ-৪১৫ ট্যাক্সিওয়ে (বিমানবন্দরের এমন একটি নির্দিষ্ট পথ, যেখানে বিমান রানওয়েতে উড্ডয়ন বা অবতরণের আগে ও পরে নিজস্ব ইঞ্জিনের সাহায্যে ধীরে ধীরে চলাচল করে) থেকেই ঘুরিয়ে আবার টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, নিরাপত্তার হুমকি, যান্ত্রিক ত্রুটি বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশ ছাড়া বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ট্যাক্সিওয়ে থেকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। কোনো যাত্রীর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিমান ফিরিয়ে আনা হলে সেটি অপারেশনাল সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা প্রটোকল এবং পেশাগত নৈতিকতা- এ তিন ক্ষেত্রেই প্রশ্ন তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রী নেমে গেলে তার লাগেজও নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী নামানো, পুনরায় সিকিউরিটি চেক এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা উচিত। তিনি অন্য এয়ারলাইন্সের অফিসার হলেও এ ফ্লাইটের সাধারণ যাত্রী। সরকারি পরিচয় বা পদমর্যাদার প্রভাব খাটিয়ে যাত্রী নিরাপত্তা হুমকি তৈরির কারণে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সূত্রমতে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে উড্ডয়নের কথা ছিল। বোর্ডিং শেষে বিমানটি ট্যাক্সিওয়ে করলে হঠাৎ করেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স ফ্লাইট থেকে নেমে যেতে চান। নিয়ম অনুযায়ী অনুরোধ জানানো হলেও বিমান না থামায় তিনি নিজের অফিসিয়াল পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) দেখিয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি ককপিটে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন।

অভিযোগ রয়েছে, এয়ার অ্যাস্ট্রার দায়িত্বে থাকা পাইলট তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিমানটি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেই ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স পরিবারের ছয় সদস্যকে নিয়ে চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। তবে তাড়াহুড়োয় শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসেন তিনি। এ কারণে উড্ডয়নের প্রস্তুতি চলাকালেই তিনি বিমান থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার এ খামখেয়ালিপূর্ণ আচরণের কারণে ফ্লাইটে থাকা শিশু-বৃদ্ধসহ প্রায় ১০০ যাত্রীকে চরম ভোগান্তি ও দীর্ঘ বিলম্বের মুখে পড়তে হয়।

সূত্র জানায়, যাত্রীদের প্রায় তিন ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় শেরওয়ানি এনে পুনরায় বিমানবন্দরে ফেরার পর দুপুর প্রায় ১টার দিকে ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও যাত্রীদের জন্য এয়ার অ্যাস্ট্রার পক্ষ থেকে ন্যূনতম খাবার বা পানীয়ের ব্যবস্থাও করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন একাধিক যাত্রী।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) বিধি অনুযায়ী, গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ের পর বিমান ফিরে আসার সুযোগ নেই। এমনকি কোনো যাত্রী মাঝপথে নেমে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই যাত্রীর সব লাগেজও বিমান থেকে নামিয়ে (অফলোড) পুনরায় নিরাপত্তা পরীক্ষা (সিকিউরিটি রিচেক) করতে হয়। এতে ফ্লাইটের আগের ক্লিয়ারেন্স বাতিল হয়ে যায় এবং নতুন করে স্লট নিতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, একজন কর্মকর্তার পরিচয়পত্রের প্রভাবের কারণে এয়ার অ্যাস্ট্রা এসব নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন করেছে।

এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ার অ্যাস্ট্রা— উভয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ হয়েছে, সেটি আমরা অস্বীকার করছি না। তবে কোনো যাত্রী অভিযোগ করলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, এটি খুব গুরুতর ঘটনা। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছি। তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এয়ার অ্যাস্ট্রা এবং সংশ্লিষ্ট বিমানের পাইলট উভয়কেই তদন্তের আওতায় আনা হবে।

যাত্রী হয়রানির বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।


জাতীয় এর আরও খবর